ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে ১,৩৫০ কর্মকর্তা ছাঁটাই করলো ট্রাম্প প্রশাসন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • / 220

ছবি সংগৃহীত

 

 

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে নজিরবিহীন এক ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার (১১ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই পদক্ষেপে একযোগে ১ হাজার ৩৫৩ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে, যার মধ্যে ১ হাজার ১০৭ জন সিভিল সার্ভিস এবং ২৪৬ জন ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তা রয়েছেন।

আরও পড়ুন  ট্রাম্প বললেন 'ভারত চাইলে অর্থনীতি ডুবাক'- তেল আমদানিতে ধাক্কা

ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ৬০০ কর্মী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন বলে জানিয়েছে দফতরটি। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের অর্গানাইজেশনাল রদবদল দেখা দিচ্ছে। অনেক ব্যুরো ও অফিস একীভূত, বাতিল কিংবা নতুন কাঠামোয় রূপান্তর করা হচ্ছে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পাঠানো নোটিশ অনুযায়ী, ছাঁটাই হওয়া কর্মকর্তাদের অনেককে ই-মেইলে অবহিত করা হয়েছে এবং ছাঁটাই কার্যকর হওয়ার আগে বাধ্যতামূলক কয়েক মাসের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, গত এপ্রিলেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পুনর্গঠন পরিকল্পনায় অনুমোদন দেন। দফতরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, কাজের প্রেক্ষাপট এবং দক্ষতা বিবেচনায় কর্মকর্তাদের বাছাই করে ছাঁটাই করা হয়েছে। যদিও এতে কী পরিমাণ সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো হিসাব দেয়নি প্রশাসন।

পররাষ্ট্র দফতরের দাবি, যেসব কর্মকর্তা কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নন, তাদেরই অপসারণ করা হচ্ছে। তবে কর্মকর্তাদের মর্যাদা যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সে দিকেও খেয়াল রাখা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য মানবাধিকারের চেয়ে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

তবে এই সিদ্ধান্তে কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ফরেন সার্ভিস অফিসাররা সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন।

আমেরিকান ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট থমাস ইয়াজগেরদি বলেন, “এই ছাঁটাই এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন গাজা, ইউক্রেন ও ইরানের মতো সংকটপূর্ণ অঞ্চলে দক্ষ কূটনীতিকের তীব্র চাহিদা রয়েছে। ফলে এর প্রভাব শুধু মনোবল নয়, ভবিষ্যতের দক্ষতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

তিনি আরও সতর্ক করেন, “আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও ভূমিকা মারাত্মকভাবে খর্ব হবে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে শান্তি প্রতিষ্ঠায়।”

পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, আপাতত বিদেশে নিযুক্ত মার্কিন মিশনগুলোতে ছাঁটাই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে না। তবে দূতাবাসগুলোর মধ্যেও ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে ১,৩৫০ কর্মকর্তা ছাঁটাই করলো ট্রাম্প প্রশাসন

আপডেট সময় ১১:০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

 

 

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে নজিরবিহীন এক ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার (১১ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই পদক্ষেপে একযোগে ১ হাজার ৩৫৩ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে, যার মধ্যে ১ হাজার ১০৭ জন সিভিল সার্ভিস এবং ২৪৬ জন ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তা রয়েছেন।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের ‘শেষ সতর্কবার্তা’: হামাসকে জিম্মিরা মুক্তি না দিলে ভোগ করতে হবে ‘নরকের পরিণতি’

ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ৬০০ কর্মী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন বলে জানিয়েছে দফতরটি। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের অর্গানাইজেশনাল রদবদল দেখা দিচ্ছে। অনেক ব্যুরো ও অফিস একীভূত, বাতিল কিংবা নতুন কাঠামোয় রূপান্তর করা হচ্ছে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পাঠানো নোটিশ অনুযায়ী, ছাঁটাই হওয়া কর্মকর্তাদের অনেককে ই-মেইলে অবহিত করা হয়েছে এবং ছাঁটাই কার্যকর হওয়ার আগে বাধ্যতামূলক কয়েক মাসের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, গত এপ্রিলেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পুনর্গঠন পরিকল্পনায় অনুমোদন দেন। দফতরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, কাজের প্রেক্ষাপট এবং দক্ষতা বিবেচনায় কর্মকর্তাদের বাছাই করে ছাঁটাই করা হয়েছে। যদিও এতে কী পরিমাণ সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো হিসাব দেয়নি প্রশাসন।

পররাষ্ট্র দফতরের দাবি, যেসব কর্মকর্তা কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নন, তাদেরই অপসারণ করা হচ্ছে। তবে কর্মকর্তাদের মর্যাদা যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সে দিকেও খেয়াল রাখা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য মানবাধিকারের চেয়ে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

তবে এই সিদ্ধান্তে কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ফরেন সার্ভিস অফিসাররা সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন।

আমেরিকান ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট থমাস ইয়াজগেরদি বলেন, “এই ছাঁটাই এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন গাজা, ইউক্রেন ও ইরানের মতো সংকটপূর্ণ অঞ্চলে দক্ষ কূটনীতিকের তীব্র চাহিদা রয়েছে। ফলে এর প্রভাব শুধু মনোবল নয়, ভবিষ্যতের দক্ষতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

তিনি আরও সতর্ক করেন, “আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও ভূমিকা মারাত্মকভাবে খর্ব হবে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে শান্তি প্রতিষ্ঠায়।”

পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, আপাতত বিদেশে নিযুক্ত মার্কিন মিশনগুলোতে ছাঁটাই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে না। তবে দূতাবাসগুলোর মধ্যেও ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।