ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ জামালপুরে সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ঈদের খাবার: মোগল দরবার থেকে বাঙালির ঘরে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে: জাতিসংঘ মনে হয় নির্বাচনের পর দেশের মালিকানা অনেকাংশেই মানুষ ফিরে পেয়েছে: অর্থমন্ত্রী ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গড়তে চাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে: শফিকুর রহমান ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে ট্রাম্প টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন

গাজায় আরও রক্তস্নান: একদিনেই ১৪৪ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২৩:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
  • / 202

ছবি সংগৃহীত

 

গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ১৪৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ জুন) একদিনেই এ প্রাণহানি ঘটে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের বেশিরভাগই খাদ্য ও মানবিক সহায়তা নিতে জড়ো হয়েছিলেন।

ভোররাতে গাজা সিটির নেতজারিম করিডোরে সালাহউদ্দিন সড়কে সহায়তা সংগ্রহে আসা মানুষের ওপর গুলি চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এতে বহু মানুষ প্রাণ হারান। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিহতদের অনেকেই খাদ্য সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

আরও পড়ুন  আহত ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বীপে চিকিৎসাকেন্দ্র প্রস্তুত করছে ইন্দোনেশিয়া

একই দিনে গাজাজুড়ে চালানো বিমান ও স্থল হামলায় আল-মাওয়াসি, জেইতুন ও মাজাজি শরণার্থী ক্যাম্পে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হন। আল-মাওয়াসিতে শরণার্থী তাঁবুতে চালানো হামলায় পুরো একটি পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, চলমান যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে। হাসপাতালগুলো চরম জ্বালানি সংকটে রয়েছে। মাত্র তিন দিনের মতো জ্বালানি মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়।

গাজায় সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম ঘিরে সহিংসতা ও প্রাণহানি বাড়ছেই। হামাসের দাবি, এই বিতরণ প্রক্রিয়া আসলে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক পরিকল্পনার অংশ। তাদের অভিযোগ, ‘রেড জোন’ দেখিয়ে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোকে বাধা দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করতে না পারে।

এদিকে জাতিসংঘসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজার বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অপরদিকে ইসরাইল প্রতিদিনকার এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডকে ‘নিরাপত্তা হুমকি প্রতিহত করা’র নামে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছে।

বেসামরিক মানুষের ওপর একের পর এক হামলায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়লেও, কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে, যা সামনে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় আরও রক্তস্নান: একদিনেই ১৪৪ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি

আপডেট সময় ১০:২৩:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

 

গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ১৪৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ জুন) একদিনেই এ প্রাণহানি ঘটে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের বেশিরভাগই খাদ্য ও মানবিক সহায়তা নিতে জড়ো হয়েছিলেন।

ভোররাতে গাজা সিটির নেতজারিম করিডোরে সালাহউদ্দিন সড়কে সহায়তা সংগ্রহে আসা মানুষের ওপর গুলি চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এতে বহু মানুষ প্রাণ হারান। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিহতদের অনেকেই খাদ্য সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

আরও পড়ুন  গাজা সংকটে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার

একই দিনে গাজাজুড়ে চালানো বিমান ও স্থল হামলায় আল-মাওয়াসি, জেইতুন ও মাজাজি শরণার্থী ক্যাম্পে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হন। আল-মাওয়াসিতে শরণার্থী তাঁবুতে চালানো হামলায় পুরো একটি পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, চলমান যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে। হাসপাতালগুলো চরম জ্বালানি সংকটে রয়েছে। মাত্র তিন দিনের মতো জ্বালানি মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়।

গাজায় সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম ঘিরে সহিংসতা ও প্রাণহানি বাড়ছেই। হামাসের দাবি, এই বিতরণ প্রক্রিয়া আসলে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক পরিকল্পনার অংশ। তাদের অভিযোগ, ‘রেড জোন’ দেখিয়ে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোকে বাধা দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করতে না পারে।

এদিকে জাতিসংঘসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজার বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অপরদিকে ইসরাইল প্রতিদিনকার এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডকে ‘নিরাপত্তা হুমকি প্রতিহত করা’র নামে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছে।

বেসামরিক মানুষের ওপর একের পর এক হামলায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়লেও, কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে, যা সামনে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে।