১০:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
আচরণবিধি লঙ্ঘন: অপসাংবাদিকতার শিকার বললেন মামুনুল হক পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে ইসি গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে তারেক রহমান জাতিসংঘের এলডিসি উত্তরণবিষয়ক প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রথম স্বয়ংক্রিয় হেলিকপ্টারের সফল প্রথম উড্ডয়ন ৬ কোটি টন ধ্বংসস্তূপের নিচে গা*জা, অপসারণে লাগবে কমপক্ষে সাত বছর ইরানকে ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কঠোর ট্রাম্প: বিরোধী দেশে শুল্ক আরোপের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অপ্রয়োজনীয় বিমান সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে গাজা প্রশাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন বেসামরিক কমিটি গঠন

ইউক্রেনের খারকিভে রাশিয়ার ড্রোন হামলা, নিহত ৩, আহত অন্তত ৬০

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫০:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫
  • / 124

ছবি সংগৃহীত

 

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গতকাল বুধবার ভোরে এ হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও ৬০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জন শিশু রয়েছে। শহরটি রাশিয়ার সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। খবর আল জাজিরা।

খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভ জানান, রাশিয়া দুইটি আবাসিক এলাকায় ১৭টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। শান্তিপূর্ণ বসতিকে লক্ষ্য করে এমন হামলার কোনো ন্যায়িকতা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

খারকিভ অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ওলেহ সিনিহুবভ বলেন, আহতদের মধ্যে শিশুদের বয়স দুই থেকে পনেরো বছরের মধ্যে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বাসিন্দা ওলেনা খরুঝেভা ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “আমি ড্রোনের শব্দ শুনে বাইরে তাকাই। একটিকে আমার দিকেই এগিয়ে আসতে দেখি। তারপর মুহূর্তের নীরবতা। হঠাৎ দেয়ালে ড্রোনের আঘাত লাগে, এরপর বিকট বিস্ফোরণ আর চারদিক থেকে চিৎকার শোনা যায়। আমি আমার দুই সন্তানকে নিয়ে দ্রুত নিচে নেমে পালিয়ে যাই। আমার ৬৫ বছর বয়সী এক প্রতিবেশী ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।”

হামলার পর উদ্ধারকাজে ব্যাপক বেগ পেতে হয় জরুরি সেবা বিভাগ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করতে হয়।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, গত রাতে খারকিভ অঞ্চলে মোট ৮৫টি ড্রোন মোতায়েন করেছিল রাশিয়া, যার মধ্যে ৪০টি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বারবার রুশ হামলার শিকার হচ্ছে খারকিভ শহর। বসবাসযোগ্য আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে এমন হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। ইউক্রেন সরকার ও আন্তর্জাতিক মহল এসব হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে।

এমন অবস্থায় ইউক্রেনীয় জনগণের মাঝে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার তাগিদে অনেকেই শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যাচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউক্রেনের খারকিভে রাশিয়ার ড্রোন হামলা, নিহত ৩, আহত অন্তত ৬০

আপডেট সময় ১০:৫০:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

 

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গতকাল বুধবার ভোরে এ হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও ৬০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জন শিশু রয়েছে। শহরটি রাশিয়ার সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। খবর আল জাজিরা।

খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভ জানান, রাশিয়া দুইটি আবাসিক এলাকায় ১৭টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। শান্তিপূর্ণ বসতিকে লক্ষ্য করে এমন হামলার কোনো ন্যায়িকতা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

খারকিভ অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ওলেহ সিনিহুবভ বলেন, আহতদের মধ্যে শিশুদের বয়স দুই থেকে পনেরো বছরের মধ্যে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বাসিন্দা ওলেনা খরুঝেভা ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “আমি ড্রোনের শব্দ শুনে বাইরে তাকাই। একটিকে আমার দিকেই এগিয়ে আসতে দেখি। তারপর মুহূর্তের নীরবতা। হঠাৎ দেয়ালে ড্রোনের আঘাত লাগে, এরপর বিকট বিস্ফোরণ আর চারদিক থেকে চিৎকার শোনা যায়। আমি আমার দুই সন্তানকে নিয়ে দ্রুত নিচে নেমে পালিয়ে যাই। আমার ৬৫ বছর বয়সী এক প্রতিবেশী ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।”

হামলার পর উদ্ধারকাজে ব্যাপক বেগ পেতে হয় জরুরি সেবা বিভাগ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করতে হয়।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, গত রাতে খারকিভ অঞ্চলে মোট ৮৫টি ড্রোন মোতায়েন করেছিল রাশিয়া, যার মধ্যে ৪০টি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বারবার রুশ হামলার শিকার হচ্ছে খারকিভ শহর। বসবাসযোগ্য আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে এমন হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। ইউক্রেন সরকার ও আন্তর্জাতিক মহল এসব হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে।

এমন অবস্থায় ইউক্রেনীয় জনগণের মাঝে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার তাগিদে অনেকেই শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যাচ্ছেন।