ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

গা/জা/য় ভয়াবহ খাদ্য সংকট: দুর্ভিক্ষের মুখে ২১ লাখ মানুষ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
  • / 125

ছবি সংগৃহীত

 

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় এখন চলছে চরম খাদ্য সংকট। জাতিসংঘ-সমর্থিত সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) জানিয়েছে, সেখানে প্রায় ২১ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে।

সংস্থাটির মতে, ইসরায়েলের অব্যাহত অবরোধের ফলে ত্রাণ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে এলাকাবাসী পড়েছে ‘চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়’।

আরও পড়ুন  গাজা সিটির দিকে ইসরায়েলের পূর্ণ দখল অভিযান, ৮ লাখ মানুষের জীবন হুমকিতে।

আইপিসি জাতিসংঘ, দাতা সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের সরকারের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি সংস্থা, যারা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্ভিক্ষের সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করে থাকে।

সোমবার প্রকাশিত আইপিসির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে গাজার খাদ্য পরিস্থিতির নাটকীয় অবনতি ঘটেছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়নি, তবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকটময় হয়ে উঠছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েল-হামাসের দুই মাসব্যাপী যুদ্ধবিরতির সময় গাজায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু সম্প্রতি নতুন করে বৈরিতা ও সহিংসতা শুরু হওয়ায় সেই স্বস্তি আবারও হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েল কর্তৃক মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা সৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বর্তমানে গাজার প্রায় দুই লাখ ৪৪ হাজার মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে আইপিসি। এ অবস্থায় তীব্র দুর্ভিক্ষ রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গাজার প্রতি পাঁচজনের একজন, অর্থাৎ প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এখন অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া আগামী ১১ মাসে, অর্থাৎ ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত, সেখানে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৭১ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইপিসি জানিয়েছে, খাবারের অভাবে অনেক পরিবার চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ ভিক্ষা করছে, কেউবা ময়লা-আবর্জনা কুড়িয়ে তা বিক্রি করে খাদ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

এই মানবিক বিপর্যয় রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

গা/জা/য় ভয়াবহ খাদ্য সংকট: দুর্ভিক্ষের মুখে ২১ লাখ মানুষ

আপডেট সময় ০৩:৪৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

 

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় এখন চলছে চরম খাদ্য সংকট। জাতিসংঘ-সমর্থিত সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) জানিয়েছে, সেখানে প্রায় ২১ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে।

সংস্থাটির মতে, ইসরায়েলের অব্যাহত অবরোধের ফলে ত্রাণ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে এলাকাবাসী পড়েছে ‘চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়’।

আরও পড়ুন  ধ্বংসের ছায়ার মাঝেই পবিত্র মাহে রমজানের আগমনী প্রস্তুতি নিচ্ছে গাজাবাসী 

আইপিসি জাতিসংঘ, দাতা সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের সরকারের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি সংস্থা, যারা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্ভিক্ষের সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করে থাকে।

সোমবার প্রকাশিত আইপিসির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে গাজার খাদ্য পরিস্থিতির নাটকীয় অবনতি ঘটেছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়নি, তবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকটময় হয়ে উঠছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েল-হামাসের দুই মাসব্যাপী যুদ্ধবিরতির সময় গাজায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু সম্প্রতি নতুন করে বৈরিতা ও সহিংসতা শুরু হওয়ায় সেই স্বস্তি আবারও হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েল কর্তৃক মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা সৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বর্তমানে গাজার প্রায় দুই লাখ ৪৪ হাজার মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে আইপিসি। এ অবস্থায় তীব্র দুর্ভিক্ষ রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গাজার প্রতি পাঁচজনের একজন, অর্থাৎ প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এখন অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া আগামী ১১ মাসে, অর্থাৎ ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত, সেখানে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৭১ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইপিসি জানিয়েছে, খাবারের অভাবে অনেক পরিবার চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ ভিক্ষা করছে, কেউবা ময়লা-আবর্জনা কুড়িয়ে তা বিক্রি করে খাদ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

এই মানবিক বিপর্যয় রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।