ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

জার্মানির AfD দমন নিয়ে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র, ‘গণতন্ত্র হুমকির মুখে’- বললেন মার্কিন নেতারা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:২০:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫
  • / 136

ছবি সংগৃহীত

 

জার্মানির কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (AfD)-কে ‘চরমপন্থী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা। এই সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকরা। তাদের মতে, এটি গণতন্ত্রের পরিপন্থী এবং স্বৈরাচারী আচরণ।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ বিষয়ে কড়া ভাষায় বলেন, “শরণার্থীদের জন্য খোলা সীমান্ত নীতিই আসলে চরমপন্থার প্রতীক, AfD নয়। জনগণের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে এই নীতিই বাস্তব হুমকি।”

আরও পড়ুন  ইরানের হুঁশিয়ারি: আক্রমণ হলে কঠোর জবাব পাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র

আর ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স একধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেন, “এক সময় পশ্চিমা বিশ্ব একত্র হয়ে বার্লিন প্রাচীর ভেঙেছিল। অথচ আজ সেই দেয়াল আবার গড়ে উঠছে এবার রাশিয়া নয়, জার্মান সরকারই নিজ দেশে তা করছে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, AfD-কে চরমপন্থী হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা রয়েছে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ এসেছে, যখন সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে AfD-এর জনপ্রিয়তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ শতাংশে যা ক্ষমতাসীন CDU-SPD জোটের চেয়েও বেশি।

এই দলটি অভিবাসনবিরোধী অবস্থান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা এবং জার্মানির ঐতিহ্যগত জাতীয়তাবাদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। তবে তাদের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান মহল নির্বাচনের আগ থেকেই AfD-এর প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব প্রকাশ করে আসছে। তাই দলটিকে চরমপন্থী ঘোষণার ঘটনায় তারা বিষয়টিকে রাজনৈতিক দমনপীড়ন হিসেবে দেখছে।

এদিকে জার্মান সরকার বলছে, চরমপন্থার বিরুদ্ধে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় গোয়েন্দা সংস্থার এই পদক্ষেপ আইনগতভাবেই বৈধ। তবে মার্কিন নেতাদের এমন প্রকাশ্য সমালোচনায় বার্লিন-ওয়াশিংটন সম্পর্কের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের।

এ নিয়ে এখনো পর্যন্ত জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া না এলেও বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

জার্মানির AfD দমন নিয়ে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র, ‘গণতন্ত্র হুমকির মুখে’- বললেন মার্কিন নেতারা

আপডেট সময় ০৭:২০:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫

 

জার্মানির কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (AfD)-কে ‘চরমপন্থী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা। এই সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকরা। তাদের মতে, এটি গণতন্ত্রের পরিপন্থী এবং স্বৈরাচারী আচরণ।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ বিষয়ে কড়া ভাষায় বলেন, “শরণার্থীদের জন্য খোলা সীমান্ত নীতিই আসলে চরমপন্থার প্রতীক, AfD নয়। জনগণের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে এই নীতিই বাস্তব হুমকি।”

আরও পড়ুন  মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগদানের আমন্ত্রণ পেলেন প্রধান উপদেষ্টা 

আর ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স একধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেন, “এক সময় পশ্চিমা বিশ্ব একত্র হয়ে বার্লিন প্রাচীর ভেঙেছিল। অথচ আজ সেই দেয়াল আবার গড়ে উঠছে এবার রাশিয়া নয়, জার্মান সরকারই নিজ দেশে তা করছে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, AfD-কে চরমপন্থী হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা রয়েছে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ এসেছে, যখন সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে AfD-এর জনপ্রিয়তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ শতাংশে যা ক্ষমতাসীন CDU-SPD জোটের চেয়েও বেশি।

এই দলটি অভিবাসনবিরোধী অবস্থান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা এবং জার্মানির ঐতিহ্যগত জাতীয়তাবাদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। তবে তাদের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান মহল নির্বাচনের আগ থেকেই AfD-এর প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব প্রকাশ করে আসছে। তাই দলটিকে চরমপন্থী ঘোষণার ঘটনায় তারা বিষয়টিকে রাজনৈতিক দমনপীড়ন হিসেবে দেখছে।

এদিকে জার্মান সরকার বলছে, চরমপন্থার বিরুদ্ধে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় গোয়েন্দা সংস্থার এই পদক্ষেপ আইনগতভাবেই বৈধ। তবে মার্কিন নেতাদের এমন প্রকাশ্য সমালোচনায় বার্লিন-ওয়াশিংটন সম্পর্কের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের।

এ নিয়ে এখনো পর্যন্ত জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া না এলেও বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এতে কোনো সন্দেহ নেই।