ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নেপালে আন্তর্জাতিক জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে বিকেএসপি’র অভাবনীয় সাফল্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন। কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে শিশু-নারীসহ নিহত ১২ ফেনীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ: বাস-অ্যাম্বুলেন্স-মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৩ ঈদের দিনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: জামালপুরে ভেঙে পড়ল ড্রাম ব্রিজ, নিহত ৫ ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ জামালপুরে সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ঈদের খাবার: মোগল দরবার থেকে বাঙালির ঘরে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে: জাতিসংঘ মনে হয় নির্বাচনের পর দেশের মালিকানা অনেকাংশেই মানুষ ফিরে পেয়েছে: অর্থমন্ত্রী ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গড়তে চাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বব্যাপী ঋণ সংকটের আশঙ্কা: হুঁশিয়ারি দিলেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 155

ছবি সংগৃহীত

 

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং বাণিজ্যে মন্দা দেখা দেওয়ায় ঋণ সংকটের ঝুঁকিতে থাকা দেশের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল জানিয়েছেন, গত এক বছরে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫-এ।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে যদি প্রবৃদ্ধির গতি কমে, বাণিজ্যের পরিমাণ হ্রাস পায় এবং সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে স্থির থাকে, তাহলে বহু দেশ ঋণ সংকটে পড়বে। এমনকি যারা পণ্য রফতানিকারক দেশ বলেও পরিচিত, তারাও এই সংকটের বাইরে থাকবে না।

আরও পড়ুন  ভিসা জালিয়াতদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আজীবন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি

বিশ্বব্যাপী এই ঝুঁকির পেছনে মূল কারণ হিসেবে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক মন্দার কথা উল্লেখ করেন। বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছে, যা অনেক দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে তুলেছে। ফলে, এসব দেশের জন্য ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে গেছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার এই আশঙ্কাজনক প্রবণতা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, তাদের বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা অনেক বেশি। ইন্দরমিত গিলের মতে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘‘বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি খুবই জটিল। অনেক দেশের ঋণের বোঝা বেড়েছে, কিন্তু আয়ের উৎস কমে যাচ্ছে। বাণিজ্য যদি আরও কমে এবং সুদের হার যদি কমানো না হয়, তাহলে এই সমস্যা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করবে।’’

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে যেসব দেশ মূলত পণ্য রফতানির ওপর নির্ভরশীল, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ, বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার ফলে তাদের রফতানি আয় হ্রাস পাচ্ছে এবং ঋণ পরিশোধে তারা হিমশিম খাচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে এই সতর্কবার্তা এমন সময় এলো, যখন অনেক দেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তবে ইন্দরমিত গিলের মতে, সঠিক নীতিমালা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বব্যাপী ঋণ সংকটের আশঙ্কা: হুঁশিয়ারি দিলেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ

আপডেট সময় ১১:২১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫

 

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং বাণিজ্যে মন্দা দেখা দেওয়ায় ঋণ সংকটের ঝুঁকিতে থাকা দেশের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল জানিয়েছেন, গত এক বছরে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫-এ।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে যদি প্রবৃদ্ধির গতি কমে, বাণিজ্যের পরিমাণ হ্রাস পায় এবং সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে স্থির থাকে, তাহলে বহু দেশ ঋণ সংকটে পড়বে। এমনকি যারা পণ্য রফতানিকারক দেশ বলেও পরিচিত, তারাও এই সংকটের বাইরে থাকবে না।

আরও পড়ুন  শীর্ষ পতনে সৌদি শেয়ারবাজারে ধস , বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ

বিশ্বব্যাপী এই ঝুঁকির পেছনে মূল কারণ হিসেবে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক মন্দার কথা উল্লেখ করেন। বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছে, যা অনেক দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে তুলেছে। ফলে, এসব দেশের জন্য ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে গেছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার এই আশঙ্কাজনক প্রবণতা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, তাদের বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা অনেক বেশি। ইন্দরমিত গিলের মতে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘‘বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি খুবই জটিল। অনেক দেশের ঋণের বোঝা বেড়েছে, কিন্তু আয়ের উৎস কমে যাচ্ছে। বাণিজ্য যদি আরও কমে এবং সুদের হার যদি কমানো না হয়, তাহলে এই সমস্যা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করবে।’’

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে যেসব দেশ মূলত পণ্য রফতানির ওপর নির্ভরশীল, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ, বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার ফলে তাদের রফতানি আয় হ্রাস পাচ্ছে এবং ঋণ পরিশোধে তারা হিমশিম খাচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে এই সতর্কবার্তা এমন সময় এলো, যখন অনেক দেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তবে ইন্দরমিত গিলের মতে, সঠিক নীতিমালা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।