ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

ইউরোপের কারাগারে বন্দী ভিড়: ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত বন্দী সংকট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫
  • / 174

ছবি সংগৃহীত

 

ইউরোপের অনেক দেশের কারাগারে বর্তমানে এমন অবস্থা বিরাজ করছে যে, সেখানে ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি বন্দী রাখা হচ্ছে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, কিছু দেশে এই সংখ্যা চরম মাত্রায় পৌঁছেছে, যা মানবাধিকার ও কারা ব্যবস্থার ওপর গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, যেসব দেশে প্রতি ১০০ জন ধারণক্ষমতার স্থানে ১০৫ জন বা তার চেয়েও বেশি বন্দী রাখা হচ্ছে, সেই দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সাইপ্রাস। সেখানে প্রতি ১০০ জনের জায়গায় রাখা হচ্ছে ১৬৬ জন বন্দী। এরপর আছে রোমানিয়া (১২০), ফ্রান্স (১১৯), বেলজিয়াম (১১৫), হাঙ্গেরি (১১২), ইতালি (১০৯) এবং স্লোভেনিয়া (১০৭)।

আরও পড়ুন  কারাগারে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার একসঙ্গে নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

এছাড়াও কিছু দেশে অতিরিক্ত হলেও তুলনামূলকভাবে একটু কম মাত্রায় এই সমস্যা বিরাজ করছে। ১০০ থেকে ১০৫ জন বন্দী প্রতি ১০০ জনের জায়গায় রাখা হচ্ছে গ্রিস (১০৩), সুইডেন (১০২), উত্তর ম্যাসেডোনিয়া (১০১), ক্রোয়েশিয়া (১০১) এবং তুরস্কে (১০০)।

এই অতিরিক্ত বন্দীসংখ্যা শুধু কারা কর্তৃপক্ষের জন্যই নয়, বন্দীদের জন্যও এক ভয়াবহ সংকট তৈরি করছে। সীমিত স্থানে গাদাগাদি করে রাখা বন্দীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে মানসিক চাপ, শারীরিক অসুস্থতা, এবং সহিংসতার ঝুঁকি। বন্দীদের মৌলিক মানবাধিকার যেমন নিরাপদ আবাসন, পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন – এসব নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ অবস্থায় ইউরোপের অনেক দেশ বিকল্প শাস্তি ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। ছোটখাটো অপরাধের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পরিবর্তে সামাজিক সেবা, আর্থিক জরিমানা বা মনিটরিংয়ের মতো বিকল্প পন্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, কিছু দেশে নতুন কারাগার নির্মাণ এবং পুরনো কারাগার সংস্কার করার উদ্যোগও শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র অবকাঠামো বাড়ালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অপরাধীদের পুনর্বাসন, শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ বাড়িয়ে অপরাধ পুনরাবৃত্তির হার কমানো এবং ন্যায়বিচারের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান।

ইউরোপের এই কারা সংকট এখন আর শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয় নয়, এটি হয়ে উঠেছে একটি মানবিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ যার সমাধান প্রয়োজন নীতিগত, প্রশাসনিক এবং মানবিক সমন্বয়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউরোপের কারাগারে বন্দী ভিড়: ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত বন্দী সংকট

আপডেট সময় ১০:০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫

 

ইউরোপের অনেক দেশের কারাগারে বর্তমানে এমন অবস্থা বিরাজ করছে যে, সেখানে ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি বন্দী রাখা হচ্ছে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, কিছু দেশে এই সংখ্যা চরম মাত্রায় পৌঁছেছে, যা মানবাধিকার ও কারা ব্যবস্থার ওপর গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, যেসব দেশে প্রতি ১০০ জন ধারণক্ষমতার স্থানে ১০৫ জন বা তার চেয়েও বেশি বন্দী রাখা হচ্ছে, সেই দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সাইপ্রাস। সেখানে প্রতি ১০০ জনের জায়গায় রাখা হচ্ছে ১৬৬ জন বন্দী। এরপর আছে রোমানিয়া (১২০), ফ্রান্স (১১৯), বেলজিয়াম (১১৫), হাঙ্গেরি (১১২), ইতালি (১০৯) এবং স্লোভেনিয়া (১০৭)।

আরও পড়ুন  যেভাবে ট্রাম্প হয়ে গেলেন ইউরোপের প্রেসিডেন্ট

এছাড়াও কিছু দেশে অতিরিক্ত হলেও তুলনামূলকভাবে একটু কম মাত্রায় এই সমস্যা বিরাজ করছে। ১০০ থেকে ১০৫ জন বন্দী প্রতি ১০০ জনের জায়গায় রাখা হচ্ছে গ্রিস (১০৩), সুইডেন (১০২), উত্তর ম্যাসেডোনিয়া (১০১), ক্রোয়েশিয়া (১০১) এবং তুরস্কে (১০০)।

এই অতিরিক্ত বন্দীসংখ্যা শুধু কারা কর্তৃপক্ষের জন্যই নয়, বন্দীদের জন্যও এক ভয়াবহ সংকট তৈরি করছে। সীমিত স্থানে গাদাগাদি করে রাখা বন্দীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে মানসিক চাপ, শারীরিক অসুস্থতা, এবং সহিংসতার ঝুঁকি। বন্দীদের মৌলিক মানবাধিকার যেমন নিরাপদ আবাসন, পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন – এসব নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ অবস্থায় ইউরোপের অনেক দেশ বিকল্প শাস্তি ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। ছোটখাটো অপরাধের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পরিবর্তে সামাজিক সেবা, আর্থিক জরিমানা বা মনিটরিংয়ের মতো বিকল্প পন্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, কিছু দেশে নতুন কারাগার নির্মাণ এবং পুরনো কারাগার সংস্কার করার উদ্যোগও শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র অবকাঠামো বাড়ালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অপরাধীদের পুনর্বাসন, শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ বাড়িয়ে অপরাধ পুনরাবৃত্তির হার কমানো এবং ন্যায়বিচারের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান।

ইউরোপের এই কারা সংকট এখন আর শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয় নয়, এটি হয়ে উঠেছে একটি মানবিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ যার সমাধান প্রয়োজন নীতিগত, প্রশাসনিক এবং মানবিক সমন্বয়ে।