বাংলাদেশে একটি স্পেশালাইজড হাসপাতাল গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছে চীন – প্রেস সচিব শফিকুল আলম
বাংলাদেশে একটি আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণে উদ্যোগ নিচ্ছে চীন। প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই হাসপাতালের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজছে সরকার। জায়গা নির্ধারণ হলেই দ্রুত কাজ শুরু করবে চীন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসব তথ্য জানিয়েছেন।
প্রেস সচিব বলেন, “চীনের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এশিয়ার অন্যতম উন্নত। তাদের প্রযুক্তি, চিকিৎসা মান এবং দক্ষতা আশেপাশের অনেক দেশের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। বাংলাদেশিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে চীন অঙ্গীকার করেছে তাদের নাগরিকদের মতোই খরচে বাংলাদেশিদের চিকিৎসা দেবে।”
চীনের কুনমিংয়ে অবস্থিত ৪ হাজার বেডের ফার্স্ট পিপলস হাসপাতালে ইতিমধ্যে একটি ফ্লোর বাংলাদেশিদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রোগীদের সুবিধার্থে সেখানে দোভাষীর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
যাতায়াত ব্যয় প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে মাত্র দেড় ঘণ্টার ফ্লাইটে কুনমিং পৌঁছানো যায়। টিকিট খরচ ১৫-২০ হাজার টাকার মধ্যে। এই খরচ আরও কমাতে আমরা কাজ করছি।”
বন্দর উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ নিয়েও কথা বলেন তিনি। “আমরা চাই সাশ্রয়ী উপায়ে পণ্য রপ্তানি হোক। এজন্য বন্দরগুলোর উন্নয়ন জরুরি। যদি চীনের প্রস্তাব আমাদের অর্থনীতির জন্য উপকারী হয়, সুদের হার কম হয় তবে কেন নয়?”
প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ। এ বিষয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং-এর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হয়েছে এবং তিনি বাংলাদেশের অনুরোধকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যিক খাতে চীনের এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।