দীর্ঘ ৩৫ বছর পর পুরুষ সরকারপ্রধান পাচ্ছে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় ০১:২৮:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 44
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন একজন পুরুষ নেতা। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজী জাফর আহমেদ এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এই প্রথম কোনো পুরুষ নেতা বাংলাদেশের শাসনভার গ্রহণ করছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয়লাভ করায় দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আগামীকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিতে যাচ্ছেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও পরিবর্তনের ধারা ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত (অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাদে) বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যায়ক্রমে বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার হাতেই ছিল। দীর্ঘ ৩৫ বছরের এই গৌরবময় ‘নারী নেতৃত্ব’ যুগের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আবারও একজন পুরুষ নেতা সরকারপ্রধানের দায়িত্বে আসছেন। তারেক রহমান বাংলাদেশের ৯ম পুরুষ সরকারপ্রধান হিসেবে শপথ নেবেন।
নির্বাচনী ফলাফল ও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংস্কারের পক্ষে জনগণের এই রায়কে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি আগামীকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (মঙ্গলবার) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
শপথ গ্রহণ: বিকাল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
বিদেশি অভিনন্দন: জয়ের পরপরই ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেক দেশের প্রতিনিধিরা আগামীকালকের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এক নজরে উল্লেখযোগ্য তথ্যাবলি:
নেতৃত্বের পরিবর্তন: ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম কোনো পুরুষ নেতা দেশের প্রশাসনিক শীর্ষ পদে আসীন হচ্ছেন।
বিপুল বিজয়: বিএনপি এককভাবে ২১১টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট পেয়েছে।
গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা: জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনকে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।























