নিজের কাজের হিসাব দিলেন আসিফ নজরুল
- আপডেট সময় ১১:১৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 46
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল দেড় বছরের দায়িত্বকালে নিজের কাজের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি সমালোচনার জবাব দিয়ে বিভিন্ন আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের তালিকা প্রকাশ করেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, আইন মন্ত্রণালয়ের টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কাজগুলো হয়েছে এবং প্রতিটি উদ্যোগে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করা, ছুটির দিনেও সচিবালয়ে সময় দেওয়া—এ কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আইনি সংস্কার
উপদেষ্টার দাবি, দেড় বছরে ২২টি আইনি সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত আইন সংশোধন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে স্বতন্ত্র জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, বাণিজ্যিক আদালত চালু, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন, দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধিতে পরিবর্তন এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন।
তিনি জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা চালুর ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির হার বেড়েছে এবং যৌতুকের মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন
১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটাল উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা জোরদার, তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন, কেন্দ্রীয়ভাবে আদালতের কর্মচারী নিয়োগ, ই-কজলিস্ট চালু, ই-ফ্যামিলি কোর্ট, অনলাইন বেইলবন্ড এবং আইন মন্ত্রণালয়ে ডি-নথি কার্যক্রম শুরু করার কথা জানান।
এ সময় রেকর্ড সংখ্যক নতুন আদালত সৃষ্টির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মামলা প্রত্যাহার
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক হিসেবে চিহ্নিত ২৩ হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান আসিফ নজরুল। সাইবার আইনে দায়ের হওয়া শতাধিক ‘স্পিচ অফেন্স’ মামলা এবং গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে দায়ের করা অনেক মামলা প্রত্যাহারের কথাও বলেন।
গণহত্যা মামলার বিচার
তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট গণহত্যার বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক ও প্রসিকিউটর নিয়োগ এবং আইন সংশোধনে সহায়তা করেছে মন্ত্রণালয়। কয়েকটি মামলার রায় হয়েছে এবং আরও কয়েকটি বিচার শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করেন।
দৈনন্দিন কার্যক্রম
আইনি মতামত প্রদান, নথি নিষ্পত্তি এবং অংশীজন সভা আয়োজনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের সময়ের তুলনায় কাজের গতি বেড়েছে।
পোস্টের শেষে তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নিজের দায়িত্বকালের কাজের বিবরণও শিগগির প্রকাশ করবেন।























