০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :

বাংলাদেশ ইস্যুতে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান, বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর ইঙ্গিত সরকারের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 75

ছবি: সংগৃহীত

 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছে পাকিস্তান। বিষয়টিকে বৈষম্যমূলক ও অন্যায় বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের পথেও হাঁটতে পারে দেশটি। এই ইস্যুতে আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ ও দ্য নিউজ সরকারি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজিত আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পিসিবিকে দল পাঠানোর অনুমতি নাও দিতে পারে ফেডারেল সরকার। সূত্রগুলোর ভাষ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসির আচরণকে দ্বিচারিতা হিসেবেই দেখছে ইসলামাবাদ।

মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। তারা ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ করলেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে। নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই দাবি করে বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের চাপ দেওয়া হয়, এমনকি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার হুমকিও আসে।

বাংলাদেশ সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে শেষ পর্যন্ত তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় পাকিস্তান। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি প্রকাশ্যে জানান, সরকার চাইলে তারাও বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আজ ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী ও পিসিবি নেতৃত্বের বৈঠকেই চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে।

এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা দ্য নিউজকে বলেন, “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর হলেও ইঙ্গিত স্পষ্ট—বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া আচরণের প্রতিবাদে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে অংশ নিতে না-ও দেওয়া হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “এটি কেবল ক্রিকেট নয়, নীতির প্রশ্ন। বাংলাদেশকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। একদিকে ভারত নিজের সুবিধামতো ভেন্যু বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা পায়, অন্যদিকে নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের মতো দেশ ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ পায় না। আইসিসি যদি সত্যিই ক্রিকেটকে বৈশ্বিক খেলায় পরিণত করতে চায়, তবে এই বৈষম্য বন্ধ করা জরুরি।

এদিকে, পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও পিসিবি চেয়ারম্যানের অবস্থানের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। লাহোরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে খেলোয়াড়রা জানান, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ফেডারেল সরকারের অবস্থানের সঙ্গেই সামঞ্জস্য রেখে নেওয়া হবে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান যদি সত্যিই বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়, তবে তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করবে। একই সঙ্গে আইসিসির নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ইস্যুতে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান, বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর ইঙ্গিত সরকারের

আপডেট সময় ০১:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছে পাকিস্তান। বিষয়টিকে বৈষম্যমূলক ও অন্যায় বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের পথেও হাঁটতে পারে দেশটি। এই ইস্যুতে আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ ও দ্য নিউজ সরকারি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজিত আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পিসিবিকে দল পাঠানোর অনুমতি নাও দিতে পারে ফেডারেল সরকার। সূত্রগুলোর ভাষ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসির আচরণকে দ্বিচারিতা হিসেবেই দেখছে ইসলামাবাদ।

মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। তারা ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ করলেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে। নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই দাবি করে বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের চাপ দেওয়া হয়, এমনকি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার হুমকিও আসে।

বাংলাদেশ সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে শেষ পর্যন্ত তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় পাকিস্তান। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি প্রকাশ্যে জানান, সরকার চাইলে তারাও বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আজ ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী ও পিসিবি নেতৃত্বের বৈঠকেই চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে।

এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা দ্য নিউজকে বলেন, “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর হলেও ইঙ্গিত স্পষ্ট—বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া আচরণের প্রতিবাদে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে অংশ নিতে না-ও দেওয়া হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “এটি কেবল ক্রিকেট নয়, নীতির প্রশ্ন। বাংলাদেশকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। একদিকে ভারত নিজের সুবিধামতো ভেন্যু বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা পায়, অন্যদিকে নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের মতো দেশ ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ পায় না। আইসিসি যদি সত্যিই ক্রিকেটকে বৈশ্বিক খেলায় পরিণত করতে চায়, তবে এই বৈষম্য বন্ধ করা জরুরি।

এদিকে, পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও পিসিবি চেয়ারম্যানের অবস্থানের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। লাহোরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে খেলোয়াড়রা জানান, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ফেডারেল সরকারের অবস্থানের সঙ্গেই সামঞ্জস্য রেখে নেওয়া হবে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান যদি সত্যিই বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়, তবে তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করবে। একই সঙ্গে আইসিসির নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠবে।