অভাব ভুলে আনন্দ দিতেই ভিডিও করেন তাজু: নেপথ্যে এক জীবন সংগ্রামের গল্প
- আপডেট সময় ১২:৩৩:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
- / 9
‘জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?’— কুড়িগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় এক জিলাপি বিক্রেতাকে করা এমন একটি সাধারণ ও সহজ-সরল প্রশ্ন রাতারাতি বদলে দিয়েছে রাজমিস্ত্রির সহকারী তাইজুল ইসলামের জীবন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন তিনি ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে পরিচিত। কোনো প্রথাগত শিক্ষা না থাকলেও তার ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা ভঙ্গি ও সারল্য এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত উত্তর ঢাকডহর সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল। চরম দারিদ্র্যের কারণে শৈশবে বিদ্যালয়ের দোরগোড়ায় পা রাখার সুযোগ হয়নি তার। জীবিকার তাগিদে বর্তমানে তিনি ঢাকার বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। কাজের ফাঁকে শখের বশে করা ভিডিওই তাকে আজকের পরিচিতি এনে দিয়েছে।
গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্থানীয় বাজারে জিলাপি বিক্রির একটি ভিডিও ধারণ করেন তাইজুল। সেখানে গ্রাম্য ঢঙে তার ‘সরকারি রেট’ সংক্রান্ত প্রশ্নটি নেটিজেনদের নজর কাড়ে। ভিডিওটি ইতিমধ্যে প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ দেখেছেন এবং তার ফেসবুক পেজের ফলোয়ার সংখ্যা কয়েক দিনের ব্যবধানে ৬ হাজার থেকে বেড়ে ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
নিজের কাজ সম্পর্কে তাইজুল ইসলাম জানান, তিনি কোনো পেশাদার সাংবাদিক নন। তার বাবা ও মা দুজনেই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের এই নিরন্তর অভাব আর কষ্ট থেকে কিছুটা মুক্তি পেতেই তিনি ভিডিও তৈরি শুরু করেন। তিনি বলেন, “আমি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে। আমাদের চরাঞ্চলের খবর কেউ তুলে ধরে না বলেই আমি ভিডিও করি। লোকে ট্রল করলেও আমি মনে কষ্ট নিই না।”
তাজু ভাইয়ের ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে তার এই সাদামাটা জীবন ও কথা বলার ধরনের প্রশংসা করলেও কিছু মানুষ ব্যঙ্গ বা ট্রল করছেন। তবে এসব ছাপিয়ে তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তাইজুল অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন ছেলে। রাজমিস্ত্রির কাজ করে সে যেভাবে পরিচিতি পেয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় তাইজুল এখন তার এই পরিচিতিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে চান। নিজের পরিবারের অভাব দূর করার পাশাপাশি চরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরাই এখন তার মূল লক্ষ্য। তিনি আশা করেন, তার এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে একদিন চরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

























