গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় এআই ব্যবহার করে নকলের চেষ্টা: পরীক্ষার্থী বহিষ্কার
- আপডেট সময় ০৩:৪১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
- / 15
২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নকলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নোয়াখালী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ডিজিটাল জালিয়াতির দায়ে মো. হিজবুল্লাহ ইসলাম অভি নামে এক পরীক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার ও আটক করা হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর ওই পরীক্ষার্থীর গতিবিধি দেখে দায়িত্বরত শিক্ষকদের সন্দেহ হয়। পরে তাকে তল্লাশি করা হলে তার কাছে একটি সচল মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। অধিকতর তদন্তে দেখা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ইন্টারনেটের মাধ্যমে ‘গুগল জেমিনি’ নামক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুল ব্যবহার করে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছিলেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিজিটাল জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষা কমিটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, “ভর্তি পরীক্ষার পবিত্রতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। প্রযুক্তির সহায়তায় কোনো ধরনের অসদুপায় অবলম্বন সহ্য করা হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি রোধে কেন্দ্রগুলোতে আরও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।”
উল্লেখ্য, শুক্রবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ জেলার মোট সাতটি কেন্দ্রে একযোগে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অভিযুক্ত ওই পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কারের ঘটনাটি ছাড়া বাকি সব কেন্দ্রে পরীক্ষা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিগত কয়েক বছর ধরে ভর্তি পরীক্ষায় ঘড়ি বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ থাকলেও, এবার সরাসরি এআই ব্যবহারের ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে এখন সাধারণ তল্লাশির পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বহিষ্কৃত ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
























