ঢাকা ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
প্রতিশ্রুতি দিয়েও ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র হামলার, কথা রাখলেন না ট্রাম্প ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে নিহত ২, আহত অন্তত ৩০ যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরাকে ১৫ জন নিহত,আহত অন্তত ৩০ জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে একমত সংসদীয় কমিটি অপরাধ দমনে চালু হচ্ছে ‘হটলাইন’: প্রতিমন্ত্রী পুতুল দেশে জ্বালানি মজুত নিয়ে আশ্বাস, তবে সরবরাহে চাপ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে সারাদেশের পেট্রোল পাম্প যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে তেল-নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে: সতর্কবার্তা মির্জা ফখরুলের পাবনায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে গৃহবধূ নিহত, আহত ১০ আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই ভোল পাল্টালেন ট্রাম্প

ধরলা তীরের পতিত জমিতে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলল, সোনার ফসলে কৃষকের হাসি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫
  • / 244

ছবি সংগৃহীত

 

 

লালমনিরহাটের ধরলা নদীর তীরবর্তী পতিত জমিগুলো যেন এখন স্বর্ণক্ষেত্র। আগে যেখানে কোনো ফসল হতো না, এখন সেখানে চাষ হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া। আর সেই কুমড়াই বদলে দিচ্ছে কৃষকদের ভাগ্য। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও বিনা মূল্যের বীজে এবার আশাতীত ফলনে খুশি স্থানীয় চাষিরা।

আরও পড়ুন  আগাম বোরো ধান কাটা শুরু, কৃষকের মুখে হাসি

পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয় উন্নতমানের মিষ্টি কুমড়ার বীজ। নদীর পলিমাটিতে চাষ হওয়া গাছে ধরেছে গড়ে পাঁচ থেকে দশটি কুমড়া। প্রতিটি কুমড়ার ওজন প্রায় পাঁচ থেকে সাত কেজি। বাজারে বর্তমানে কেজি প্রতি ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা থেকে ভালো লাভ করছেন চাষিরা।

চাষি সাফিউল ইসলাম বলেন, “ধরলা নদীর পাড়ের কাদা মাটিতে বীজ রোপণ করেই এমন ফলন পেয়েছি। এক-দুই মাসের মধ্যেই কুমড়া তুলবো। বর্ষাকালে বাজারে তুললে আরও ভালো দাম পাব।”

জেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি রবি মৌসুমে ২০০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বাস্তবে কুমড়া চাষ হয়েছে প্রায় ৩০০ হেক্টরে। এতে বোঝা যাচ্ছে কৃষকদের আগ্রহ কতটা বেড়েছে। পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও তারা বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন।

পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি উপসহকারী শাহিনুর রহমান বলেন, “আমরা চাষিদের বিনা মূল্যে বীজ দিয়েছি, পরামর্শ দিয়েছি। প্রতিটি গাছে গড়ে ৫-১০টি কুমড়া ধরেছে। এটা তাদের জীবিকায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল গফফার জানান, “ধরলা তীরের পতিত জমি কাজে লাগিয়ে আমরা মিষ্টি কুমড়ার চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছি। আগামীতে আরও বড় পরিসরে চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।”

পটভূমিতে একসময় অনাবাদি পড়ে থাকা এই জমিগুলো আজ স্থানীয় কৃষকের জীবনে এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার আলো। মিষ্টি কুমড়ার সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এই সাফল্য নিঃসন্দেহে বদলে দিচ্ছে লালমনিরহাটের কৃষিচিত্র।

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

ধরলা তীরের পতিত জমিতে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলল, সোনার ফসলে কৃষকের হাসি

আপডেট সময় ০৫:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫

 

 

লালমনিরহাটের ধরলা নদীর তীরবর্তী পতিত জমিগুলো যেন এখন স্বর্ণক্ষেত্র। আগে যেখানে কোনো ফসল হতো না, এখন সেখানে চাষ হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া। আর সেই কুমড়াই বদলে দিচ্ছে কৃষকদের ভাগ্য। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও বিনা মূল্যের বীজে এবার আশাতীত ফলনে খুশি স্থানীয় চাষিরা।

আরও পড়ুন  কুষ্টিয়ায় ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে রাসেলস ভাইপারের কামড়ে দুই কৃষকের মৃত্যু

পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয় উন্নতমানের মিষ্টি কুমড়ার বীজ। নদীর পলিমাটিতে চাষ হওয়া গাছে ধরেছে গড়ে পাঁচ থেকে দশটি কুমড়া। প্রতিটি কুমড়ার ওজন প্রায় পাঁচ থেকে সাত কেজি। বাজারে বর্তমানে কেজি প্রতি ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা থেকে ভালো লাভ করছেন চাষিরা।

চাষি সাফিউল ইসলাম বলেন, “ধরলা নদীর পাড়ের কাদা মাটিতে বীজ রোপণ করেই এমন ফলন পেয়েছি। এক-দুই মাসের মধ্যেই কুমড়া তুলবো। বর্ষাকালে বাজারে তুললে আরও ভালো দাম পাব।”

জেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি রবি মৌসুমে ২০০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বাস্তবে কুমড়া চাষ হয়েছে প্রায় ৩০০ হেক্টরে। এতে বোঝা যাচ্ছে কৃষকদের আগ্রহ কতটা বেড়েছে। পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও তারা বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন।

পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি উপসহকারী শাহিনুর রহমান বলেন, “আমরা চাষিদের বিনা মূল্যে বীজ দিয়েছি, পরামর্শ দিয়েছি। প্রতিটি গাছে গড়ে ৫-১০টি কুমড়া ধরেছে। এটা তাদের জীবিকায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল গফফার জানান, “ধরলা তীরের পতিত জমি কাজে লাগিয়ে আমরা মিষ্টি কুমড়ার চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছি। আগামীতে আরও বড় পরিসরে চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।”

পটভূমিতে একসময় অনাবাদি পড়ে থাকা এই জমিগুলো আজ স্থানীয় কৃষকের জীবনে এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার আলো। মিষ্টি কুমড়ার সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এই সাফল্য নিঃসন্দেহে বদলে দিচ্ছে লালমনিরহাটের কৃষিচিত্র।