রিটার্ন জমায় নতুন দিগন্ত: আগামী অর্থবছর থেকে সারাবছর কর দেওয়ার সুযোগ
- আপডেট সময় ০৫:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
- / 17
দেশের কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী অর্থবছর থেকে করদাতারা নির্দিষ্ট সময়সীমার পরিবর্তে সারাবছরই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, যদিও সারাবছর রিটার্ন জমার সুযোগ থাকবে, তবে করদাতাদের উৎসাহিত করতে বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। যারা অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মধ্যে রিটার্ন দাখিল করবেন, তাদের জন্য বিশেষ কর প্রণোদনা বা ছাড়ের সুবিধা রাখা হবে। এর মাধ্যমে করদাতাদের সময়মতো দায়িত্ব পালনে আগ্রহী করে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার।
চলতি বছরের কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিগত যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার বেশি হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশে কর অব্যাহতির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় আশানুরূপ রাজস্ব সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি কমিয়ে আনার ইঙ্গিত দেন তিনি।
করের হার না বাড়িয়ে বরং করের আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এনবিআর। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ট্যাক্স লিকেজ’ বা কর চুরির পথ বন্ধ করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসাথে এনবিআরের ভেতরে সুশাসন নিশ্চিত করতে সৎ কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে কর ফাঁকিবাজদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।
আলোচনা সভায় সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন ‘নোয়াব’-এর পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। তারা বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ উৎসে কর ও আগাম কর কমানোর দাবি জানান। পাশাপাশি শিক্ষা ও তথ্য প্রসারের স্বার্থে নিউজপ্রিন্ট আমদানির ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের জোরালো আবেদন জানায় সংগঠনটি।
এনবিআর চেয়ারম্যানের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আগামী বাজেটগুলোতে সরাসরি কর আদায়ের চেয়ে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় করের আওতা বাড়ানো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে সরকারের মূল লক্ষ্য। এতে সাধারণ করদাতাদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থের প্রবাহ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

























