ঢাকা ০৯:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

সরকারি দামে অনীহা ট্যানারির, চামড়া নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪১:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫
  • / 176

ছবি সংগৃহীত

 

 

চামড়ার হাটে সরকার নির্ধারিত মূল্যের কোনো বাস্তব প্রতিফলন নেই এমনই অভিযোগ তুলছেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা চামড়া ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন  চীনা রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য: আমাদের সহযোগিতা জনগণের জন্য, সরকারের জন্য নয়

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ হাটে ঈদের পর প্রথম হাট বসতেই চরম অসন্তোষ দেখা গেছে স্থানীয় ও আগত ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে, তা শুধুই কাগজে-কলমে থেকে যাচ্ছে। বাস্তবে ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেট করে অনেক কম দামে চামড়া কিনছেন।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থেকে আসা চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রায় ৮০০টি চামড়া সংগ্রহ করেছেন। প্রতিটি চামড়ায় প্রক্রিয়াজাত করতে গড়ে ৯০০ টাকা খরচ হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যাতায়াত, লবণ, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচ। অথচ ট্যানারি প্রতিনিধিরা একেকটি চামড়ার দাম বলছেন মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। তিনি বলেন, “এই দামে বিক্রি করলে লাভ তো দূরের কথা, নিজের পুঁজি তোলাই অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে।”

শম্ভুগঞ্জ চামড়ার হাট ময়মনসিংহ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চামড়ার হাট হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর ঈদের পর হাজার হাজার চামড়া কেনাবেচা হয় এই হাটে। কিন্তু এবারের হাটে চাহিদার তুলনায় দাম কম থাকায় অনেক ব্যবসায়ী চামড়া বিক্রি না করে ফেলে রাখছেন। লোকসানের ভয়ে কেউ কেউ চামড়া পচে গেলেও বিক্রি করছেন না।

ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে অবশ্য ভিন্ন বক্তব্য উঠে এসেছে। তাঁদের দাবি, চামড়ার মান অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করছেন তারা। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কেনা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয় বলেও জানান তারা।

শম্ভুগঞ্জ চামড়ার হাটের ইজারাদার আবু জাফর সুমন বলেন, “এবার হাটে আটটি দিনব্যাপী কার্যক্রম চলবে। প্রায় অর্ধলক্ষাধিক চামড়া কেনাবেচার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় সংখ্যা ও দাম দুটোই কম।”

এদিকে বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সরকার যদি মাঠপর্যায়ে তদারকি না করে, তবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দরপতন চলতেই থাকবে। ফলে চামড়া শিল্পে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারি দামে অনীহা ট্যানারির, চামড়া নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় ১১:৪১:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫

 

 

চামড়ার হাটে সরকার নির্ধারিত মূল্যের কোনো বাস্তব প্রতিফলন নেই এমনই অভিযোগ তুলছেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা চামড়া ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন  অন্তর্বর্তী সরকারের ছাত্র উপদেষ্টারা এনসিপির নয়, গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি: হাসনাত আবদুল্লাহ

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ হাটে ঈদের পর প্রথম হাট বসতেই চরম অসন্তোষ দেখা গেছে স্থানীয় ও আগত ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে, তা শুধুই কাগজে-কলমে থেকে যাচ্ছে। বাস্তবে ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেট করে অনেক কম দামে চামড়া কিনছেন।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থেকে আসা চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রায় ৮০০টি চামড়া সংগ্রহ করেছেন। প্রতিটি চামড়ায় প্রক্রিয়াজাত করতে গড়ে ৯০০ টাকা খরচ হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যাতায়াত, লবণ, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচ। অথচ ট্যানারি প্রতিনিধিরা একেকটি চামড়ার দাম বলছেন মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। তিনি বলেন, “এই দামে বিক্রি করলে লাভ তো দূরের কথা, নিজের পুঁজি তোলাই অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে।”

শম্ভুগঞ্জ চামড়ার হাট ময়মনসিংহ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চামড়ার হাট হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর ঈদের পর হাজার হাজার চামড়া কেনাবেচা হয় এই হাটে। কিন্তু এবারের হাটে চাহিদার তুলনায় দাম কম থাকায় অনেক ব্যবসায়ী চামড়া বিক্রি না করে ফেলে রাখছেন। লোকসানের ভয়ে কেউ কেউ চামড়া পচে গেলেও বিক্রি করছেন না।

ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে অবশ্য ভিন্ন বক্তব্য উঠে এসেছে। তাঁদের দাবি, চামড়ার মান অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করছেন তারা। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কেনা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয় বলেও জানান তারা।

শম্ভুগঞ্জ চামড়ার হাটের ইজারাদার আবু জাফর সুমন বলেন, “এবার হাটে আটটি দিনব্যাপী কার্যক্রম চলবে। প্রায় অর্ধলক্ষাধিক চামড়া কেনাবেচার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় সংখ্যা ও দাম দুটোই কম।”

এদিকে বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সরকার যদি মাঠপর্যায়ে তদারকি না করে, তবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দরপতন চলতেই থাকবে। ফলে চামড়া শিল্পে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।