হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালের ১০ বছরের কারাদণ্ড
- আপডেট সময় ০৩:০০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 15
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলকে অস্ত্র আইনের একটি মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীন এই রায় ঘোষণা করেন।
আসামি বর্তমানে পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৭ নভেম্বর ঢাকার আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটিতে অভিযান চালায় র্যাব-২। সেখান থেকে পালানোর সময় ফয়সাল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে র্যাব। এই ঘটনায় আদাবর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্ত শেষে গত বছরের মার্চে ফয়সালের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হলে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিচার চলাকালীন ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত আজ এই রায় প্রদান করল।
অস্ত্র মামলায় জামিনে থাকাকালীন গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে ফয়সালের নাম উঠে আসে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ছেন ফয়সাল। ১৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
ততক্ষণে ফয়সাল আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশ ত্যাগ করেন। তবে দীর্ঘ চেষ্টার পর চলতি বছরের মার্চ মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বনগাঁ সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়।
মামলার এজাহারে ফয়সাল করিমকে এলাকার ‘চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, খুন-জখম এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের নেতৃত্ব দেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে আজ তাকে এই দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড প্রদান করা হলো।























