ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মাতৃত্বের পর নতুন রূপে কিয়ারা উড়োজাহাজের কার্গো টয়লেট থেকে ৩৮ কোটি টাকার সোনা উদ্ধার গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে স্কুল অধ্যক্ষের মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যে ৩৫০০ মার্কিন মেরিন সেনা, ইরান বলছে—কফিন প্রস্তুত সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন সেনা প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান ময়মনসিংহ মেডিকেলে ১১ দিনে ১০৫ শিশু ভর্তি, প্রাণ হারালো ৩ জন বোচাগঞ্জে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, বিকল্প লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক গাজায় পুলিশ চেকপয়েন্টে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৬ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তি, পারস্য উপসাগরে ইউক্রেনীয় প্রযুক্তিতে ঠেকানো হবে ইরানি ড্রোন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গণবিস্ফোরণ: ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে রাজপথে ৮০ লাখ মানুষ

ময়মনসিংহ মেডিকেলে ১১ দিনে ১০৫ শিশু ভর্তি, প্রাণ হারালো ৩ জন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • / 21

ছবি: সংগৃহীত

 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। গত ১১ দিনে হাসপাতালটিতে ১০৫ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করেছে এবং আক্রান্তদের জন্য বিশেষ ‘হাম কর্নার’ চালু করেছে। তবে রোগীর চাপ বাড়ায় শয্যা সংকটে সাধারণ রোগীদের সাথেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেক শিশুকে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের চিত্র এখন উদ্বেগজনক। নির্ধারিত ১০ শয্যার ‘হাম/মিসেলস কর্নারে’ স্থান সংকুলান না হওয়ায় ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ শয্যা ও মেঝেতেও আক্রান্ত শিশুদের রাখা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে একটি বিছানায় দুই শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ময়মনসিংহ সদর ছাড়াও শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের মতো পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে আসা রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন  ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে পোলিং অফিসারের মৃত্যু

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে মিশ্র তথ্য পাওয়া গেছে। কিশোরগঞ্জ থেকে আসা এক দম্পতি জানান, সঠিক সময়ে বেড়াতে যাওয়ায় তারা যমজ সন্তানদের হামের টিকা দিতে পারেননি। আবার ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে আসা এক মা দাবি করেছেন, তার সন্তানকে জন্মের পর সব টিকা দেওয়া হলেও সে হামে আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, টিকা না নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত শিশুর হাঁচি, কাশি বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হামের পরবর্তী জটিলতা হিসেবে শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং চোখ ও মস্তিষ্কের প্রদাহ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অধিকাংশ শিশুর মধ্যেই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার লক্ষণ স্পষ্ট।

হাসপাতালের নথিপত্র অনুযায়ী, গত ১৮ মার্চ থেকে হামে আক্রান্তদের আলাদা পরিসংখ্যান রাখা শুরু হয়। ১৮ মার্চ গৌরীপুরের ৪ মাস বয়সী শিশু ওয়াজকুরুনির মৃত্যু হয়। এরপর ২৬ মার্চ নগরীর নওমহল এলাকার ৩ বছরের শিশু তনুসা এবং একই দিন পুলিশ লাইনস এলাকার ২ বছরের শিশু সামিয়া প্রাণ হারায়। বর্তমানে হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটে প্রায় ৬৯ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতাল প্রশাসনের দাবি, করোনা মহামারি ও গত ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশের অনেক জায়গায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়েছে, যা বর্তমান প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ হতে পারে।

বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নমুনা সংগ্রহ করছে। তবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে আমরা আইসোলেশন বেডের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি।”

সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও হামের জন্য তিনটি করে আলাদা শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ময়মনসিংহ মেডিকেলে ১১ দিনে ১০৫ শিশু ভর্তি, প্রাণ হারালো ৩ জন

আপডেট সময় ১২:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। গত ১১ দিনে হাসপাতালটিতে ১০৫ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করেছে এবং আক্রান্তদের জন্য বিশেষ ‘হাম কর্নার’ চালু করেছে। তবে রোগীর চাপ বাড়ায় শয্যা সংকটে সাধারণ রোগীদের সাথেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেক শিশুকে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের চিত্র এখন উদ্বেগজনক। নির্ধারিত ১০ শয্যার ‘হাম/মিসেলস কর্নারে’ স্থান সংকুলান না হওয়ায় ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ শয্যা ও মেঝেতেও আক্রান্ত শিশুদের রাখা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে একটি বিছানায় দুই শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ময়মনসিংহ সদর ছাড়াও শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের মতো পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে আসা রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন  ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৩৫৮

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে মিশ্র তথ্য পাওয়া গেছে। কিশোরগঞ্জ থেকে আসা এক দম্পতি জানান, সঠিক সময়ে বেড়াতে যাওয়ায় তারা যমজ সন্তানদের হামের টিকা দিতে পারেননি। আবার ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে আসা এক মা দাবি করেছেন, তার সন্তানকে জন্মের পর সব টিকা দেওয়া হলেও সে হামে আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, টিকা না নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত শিশুর হাঁচি, কাশি বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হামের পরবর্তী জটিলতা হিসেবে শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং চোখ ও মস্তিষ্কের প্রদাহ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অধিকাংশ শিশুর মধ্যেই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার লক্ষণ স্পষ্ট।

হাসপাতালের নথিপত্র অনুযায়ী, গত ১৮ মার্চ থেকে হামে আক্রান্তদের আলাদা পরিসংখ্যান রাখা শুরু হয়। ১৮ মার্চ গৌরীপুরের ৪ মাস বয়সী শিশু ওয়াজকুরুনির মৃত্যু হয়। এরপর ২৬ মার্চ নগরীর নওমহল এলাকার ৩ বছরের শিশু তনুসা এবং একই দিন পুলিশ লাইনস এলাকার ২ বছরের শিশু সামিয়া প্রাণ হারায়। বর্তমানে হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটে প্রায় ৬৯ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতাল প্রশাসনের দাবি, করোনা মহামারি ও গত ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশের অনেক জায়গায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়েছে, যা বর্তমান প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ হতে পারে।

বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নমুনা সংগ্রহ করছে। তবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে আমরা আইসোলেশন বেডের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি।”

সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও হামের জন্য তিনটি করে আলাদা শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।