ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে: শফিকুর রহমান ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে ট্রাম্প টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু রাজবাড়ীতে রেলব্রিজে ধাক্কা লেগে ট্রেনের ছাদে থাকা যুবকের মৃত্যু শাহেদ ধাঁচে নতুন ড্রোন: ব্যাপক উৎপাদনে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘লুকাস’ সস্তা ড্রোনে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের সমীকরণ: ব্যয়ের অসমতায় চাপে প্রচলিত শক্তি আফগানিস্তানে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কমপ্লেক্সের একটি ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলা বিশ্বজুড়ে তিন দিন ঈদ: আজ, কাল ও পরশু কবে কোথায় জানুন

মাদারীপুরে বাজি ফাটানো নিয়ে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, এএসপি-ওসি-এসআইসহ আহত অর্ধশতাধিক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:২৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / 339

ছবি সংগৃহীত

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় বাজি ফাটানোকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বদরপাশা ও পশ্চিম রাজৈর গ্রামের বাসিন্দারা। রোববার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টার এ সংঘর্ষে বিস্ফোরিত হয় একাধিক ককটেল, ভাঙচুর হয় দোকানপাট, আর আহত হন পুলিশসহ অর্ধশতাধিক মানুষ।

সংঘর্ষের শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টায় রাজৈর উপজেলা সদরের বেপারীপাড়া মোড়ে। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হয় উভয় পক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশ টিয়ারশেল ছোড়ে, কিন্তু তাতেও থামেনি উত্তেজনা। একপর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও দোকানে অগ্নিসংযোগে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগের দিন শনিবার (১২ এপ্রিল) রাতেও বাজি ফাটানোকে কেন্দ্র করে প্রায় তিন ঘণ্টা সংঘর্ষে জড়ায় দুই গ্রাম। তাতে অন্তত ১০ পুলিশসহ ২৫ জন আহত হন। এরপর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রোববার দুপুরে উভয় পক্ষকে মীমাংসার টেবিলে বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঠিক পরদিন সকাল ১০টায় বসার কথা থাকলেও সন্ধ্যায় আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়।

আরও পড়ুন  গোপালগঞ্জে কাশিয়ানীতে জমিতে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: নিহত ১ নারী, আহত ১০

বদরপাশা গ্রামের লোকজনের ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। অন্তত ১২টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়।

অবশেষে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। রাজৈর ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের মধ্যে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, রাজৈর থানার ওসি ও একাধিক পুলিশ সদস্য রয়েছেন। গুরুতর আহত পশ্চিম রাজৈর গ্রামের মেহেদী মীর, রাসেল শেখ, মনোতোষ সাহা ও তাওফিককে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাত ১২টার দিকে রাজৈর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। মজুমদার কান্দি গ্রামের লোকজন মিটিং করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তারা পুলিশের দুটি পিকআপে হামলা চালায়। এতে এসআই মোস্তফা ও চালক শাহাবুদ্দিন গুরুতর আহত হন।

রাজৈর থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, “সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। সংঘর্ষে পুলিশের সাহসী ভূমিকা ছিল। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মাদারীপুরে বাজি ফাটানো নিয়ে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, এএসপি-ওসি-এসআইসহ আহত অর্ধশতাধিক

আপডেট সময় ০২:২৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় বাজি ফাটানোকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বদরপাশা ও পশ্চিম রাজৈর গ্রামের বাসিন্দারা। রোববার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টার এ সংঘর্ষে বিস্ফোরিত হয় একাধিক ককটেল, ভাঙচুর হয় দোকানপাট, আর আহত হন পুলিশসহ অর্ধশতাধিক মানুষ।

সংঘর্ষের শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টায় রাজৈর উপজেলা সদরের বেপারীপাড়া মোড়ে। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হয় উভয় পক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশ টিয়ারশেল ছোড়ে, কিন্তু তাতেও থামেনি উত্তেজনা। একপর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও দোকানে অগ্নিসংযোগে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগের দিন শনিবার (১২ এপ্রিল) রাতেও বাজি ফাটানোকে কেন্দ্র করে প্রায় তিন ঘণ্টা সংঘর্ষে জড়ায় দুই গ্রাম। তাতে অন্তত ১০ পুলিশসহ ২৫ জন আহত হন। এরপর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রোববার দুপুরে উভয় পক্ষকে মীমাংসার টেবিলে বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঠিক পরদিন সকাল ১০টায় বসার কথা থাকলেও সন্ধ্যায় আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়।

আরও পড়ুন  ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনায় সংঘর্ষ এড়াতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

বদরপাশা গ্রামের লোকজনের ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। অন্তত ১২টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়।

অবশেষে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। রাজৈর ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের মধ্যে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, রাজৈর থানার ওসি ও একাধিক পুলিশ সদস্য রয়েছেন। গুরুতর আহত পশ্চিম রাজৈর গ্রামের মেহেদী মীর, রাসেল শেখ, মনোতোষ সাহা ও তাওফিককে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাত ১২টার দিকে রাজৈর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। মজুমদার কান্দি গ্রামের লোকজন মিটিং করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তারা পুলিশের দুটি পিকআপে হামলা চালায়। এতে এসআই মোস্তফা ও চালক শাহাবুদ্দিন গুরুতর আহত হন।

রাজৈর থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, “সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। সংঘর্ষে পুলিশের সাহসী ভূমিকা ছিল। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।