ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
  • / 389

ছবি: সংগৃহীত

 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে এক লাখ ৮০ হাজারকে প্রথম ধাপে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার সরকার।

শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান এবং মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউ থান শোয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন  বড়লেখা সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ ১০ রোহিঙ্গা আটক

বৈঠকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের তালিকা থেকে এক লাখ ৮০ হাজার জনকে মিয়ানমারে ফেরত নেয়ার জন্য উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে।

উল্লেখযোগ্য যে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ধাপে ধাপে মোট ছয়টি তালিকা মিয়ানমারকে হস্তান্তর করে। এই প্রক্রিয়ায় এখনো আরও ৭০ হাজার রোহিঙ্গার যাচাই-বাছাই চলছে, যাদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ছবি ও নাম ভিত্তিক ভেরিফিকেশন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যাচাই শেষে এদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও রাষ্ট্রের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কক্সবাজার এবং ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের এই সদিচ্ছার বার্তা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা রক্ষা করা হবে কিনা, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

এই প্রক্রিয়া সফল হলে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কও নতুন গতিপথে প্রবাহিত হতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার

আপডেট সময় ০২:৩৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে এক লাখ ৮০ হাজারকে প্রথম ধাপে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার সরকার।

শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান এবং মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউ থান শোয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন  ঝুঁকিতে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ, ইউনিসেফের জরুরি তহবিলের আবেদন

বৈঠকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের তালিকা থেকে এক লাখ ৮০ হাজার জনকে মিয়ানমারে ফেরত নেয়ার জন্য উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে।

উল্লেখযোগ্য যে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ধাপে ধাপে মোট ছয়টি তালিকা মিয়ানমারকে হস্তান্তর করে। এই প্রক্রিয়ায় এখনো আরও ৭০ হাজার রোহিঙ্গার যাচাই-বাছাই চলছে, যাদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ছবি ও নাম ভিত্তিক ভেরিফিকেশন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যাচাই শেষে এদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও রাষ্ট্রের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কক্সবাজার এবং ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের এই সদিচ্ছার বার্তা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা রক্ষা করা হবে কিনা, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

এই প্রক্রিয়া সফল হলে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কও নতুন গতিপথে প্রবাহিত হতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।