১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
চরমোনাইয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে জামায়াত জোট আইসিসি ভারতীয় কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ, ভারতীয় মিডিয়ার দাবি একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ খুঁজছে: সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে : তারেক রহমান আচরণবিধি লঙ্ঘন: অপসাংবাদিকতার শিকার বললেন মামুনুল হক পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে ইসি গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে তারেক রহমান জাতিসংঘের এলডিসি উত্তরণবিষয়ক প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রথম স্বয়ংক্রিয় হেলিকপ্টারের সফল প্রথম উড্ডয়ন ৬ কোটি টন ধ্বংসস্তূপের নিচে গা*জা, অপসারণে লাগবে কমপক্ষে সাত বছর

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে জিম্মি ট্রেনের সব যাত্রী উদ্ধার, ৩৩ সন্ত্রাসীসহ সর্বমোট নিহত ৫৮

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫
  • / 120

ছবি সংগৃহীত

 

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ভয়াবহ হামলায় ২১ যাত্রী নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী সফল অভিযান চালিয়ে সকল যাত্রীকে উদ্ধার করেছে। অভিযানে ৩৩ হামলাকারী নিহত হয়েছেন, তবে লড়াই চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনটি মঙ্গলবার বেলুচিস্তানের বোলান এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার শিকার হয়। হামলাকারীরা ট্রেন থামিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে।

বিজ্ঞাপন

আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, ট্রেনটিতে প্রায় ৪৪০ জন যাত্রী ছিলেন। অভিযান শেষে কোনো যাত্রী হতাহত না হলেও, হামলার প্রাথমিক পর্যায়ে ২১ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। অভিযানের মাধ্যমে সব হামলাকারীকে নির্মূল করা হয়েছে।

এই নৃশংস হামলার দায় স্বীকার করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রগুলো জানায়, হামলাকারীরা স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে ‘বিদেশি সহায়তাকারী’দের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী আফগানিস্তানে অবস্থান করছিল।

নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, হামলাকারীরা ট্রেনে থাকা নারী ও শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছিল, যা অভিযানে চরম সতর্কতা অবলম্বনের অন্যতম কারণ।

এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পবিত্র রমজান মাসে নিরীহ যাত্রীদের লক্ষ্যবস্তু বানানো প্রমাণ করে, এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর ইসলাম, পাকিস্তান কিংবা বেলুচিস্তানের স্বার্থের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।”

এই ভয়াবহ হামলা পাকিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে বেলুচিস্তান অঞ্চলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে জিম্মি ট্রেনের সব যাত্রী উদ্ধার, ৩৩ সন্ত্রাসীসহ সর্বমোট নিহত ৫৮

আপডেট সময় ০১:২০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫

 

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ভয়াবহ হামলায় ২১ যাত্রী নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী সফল অভিযান চালিয়ে সকল যাত্রীকে উদ্ধার করেছে। অভিযানে ৩৩ হামলাকারী নিহত হয়েছেন, তবে লড়াই চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনটি মঙ্গলবার বেলুচিস্তানের বোলান এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার শিকার হয়। হামলাকারীরা ট্রেন থামিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে।

বিজ্ঞাপন

আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, ট্রেনটিতে প্রায় ৪৪০ জন যাত্রী ছিলেন। অভিযান শেষে কোনো যাত্রী হতাহত না হলেও, হামলার প্রাথমিক পর্যায়ে ২১ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। অভিযানের মাধ্যমে সব হামলাকারীকে নির্মূল করা হয়েছে।

এই নৃশংস হামলার দায় স্বীকার করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রগুলো জানায়, হামলাকারীরা স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে ‘বিদেশি সহায়তাকারী’দের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী আফগানিস্তানে অবস্থান করছিল।

নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, হামলাকারীরা ট্রেনে থাকা নারী ও শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছিল, যা অভিযানে চরম সতর্কতা অবলম্বনের অন্যতম কারণ।

এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পবিত্র রমজান মাসে নিরীহ যাত্রীদের লক্ষ্যবস্তু বানানো প্রমাণ করে, এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর ইসলাম, পাকিস্তান কিংবা বেলুচিস্তানের স্বার্থের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।”

এই ভয়াবহ হামলা পাকিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে বেলুচিস্তান অঞ্চলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।