ঢাকা ০৩:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

কুমিল্লার গোমতী চরের মিষ্টিকুমড়ার বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:১৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫
  • / 307

ছবি সংগৃহীত

 

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গোমতী নদীর ভান্তির চরে এ বছর মিষ্টিকুমড়ার বাম্পার ফলনে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ। সবুজের মাঝে মিষ্টিকুমড়া বিকশিত হচ্ছে, যা পুরো চরের কৃষিজমি জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ফলন কৃষকদের মনে নতুন আশা এনে দিয়েছে।

মিষ্টিকুমড়া চাষে সফলতার পেছনে রয়েছে গত বছর আগস্টে হওয়া ভয়াবহ বন্যার পরের পরিস্থিতি। বন্যার স্রোতে গোমতী নদীর চরের কৃষিজমিতে প্রচুর পলি জমেছিল, যা এ বছর মিষ্টিকুমড়ার ভালো ফলন নিশ্চিত করেছে। নভেম্বরের শুরুতে জমিতে আলু ও মিষ্টিকুমড়ার চারা রোপণ করা হয়েছিল। বর্তমানে জমিগুলোতে শুধুমাত্র মিষ্টিকুমড়া রয়েছে এবং কৃষকরা এখন এসব তুলে বাজারে পাঠাচ্ছেন।

আরও পড়ুন  কুমিল্লার মুরাদনগরে নারীসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য

এ বছর গোমতীর চরে শুধু মিষ্টিকুমড়া নয়, আলুরও ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকরা গোমতীর বেড়িবাঁধ সড়কে মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করছেন। প্রতিটি খেত থেকে ৪০-৬০ টাকায় মিষ্টিকুমড়া বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা চরে এসে এসব মিষ্টিকুমড়া সংগ্রহ করে বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন।

ভান্তির গ্রামের কৃষক মো. মানিক জানান, গত বছর বন্যার পর জমির পলি ও দূষণের কারণে এ বছর ফসলের ফলন ভালো হয়েছে। তিনি ২৬ শতাংশ জমিতে আলু ও মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছেন এবং ইতিমধ্যে আলু বিক্রি করে ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় করেছেন। এখন মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করে ৪০-৫০ হাজার টাকার আশা করছেন।

মিষ্টিকুমড়ার চাষে সফলতা পেয়েছে বেশ কিছু হাইব্রিড জাত, যেমন মোহনা, পিরিতি সুপার, অনিক-১ ও ওয়ান্ডার বল। কৃষকদের মতে, মাটি ও আবহাওয়া এই ফলনের জন্য সহায়ক হয়েছে। বালীখাড়ার কৃষক মামুন মিয়া বলেন, ‘এই বছর মিষ্টিকুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে, আশা করছি দাম আরও বাড়বে।’

কৃষি বিভাগের উপপরিচালক আইউব মাহমুদ বলেন, ‘বন্যার পর জমির পলি জমার কারণে মিষ্টিকুমড়ার ফলন ভালো হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

এ বছর গোমতী চরের কৃষকরা মিষ্টিকুমড়ার ভালো ফলনে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করার সুযোগ পেয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

কুমিল্লার গোমতী চরের মিষ্টিকুমড়ার বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট সময় ০৩:১৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫

 

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গোমতী নদীর ভান্তির চরে এ বছর মিষ্টিকুমড়ার বাম্পার ফলনে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ। সবুজের মাঝে মিষ্টিকুমড়া বিকশিত হচ্ছে, যা পুরো চরের কৃষিজমি জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ফলন কৃষকদের মনে নতুন আশা এনে দিয়েছে।

মিষ্টিকুমড়া চাষে সফলতার পেছনে রয়েছে গত বছর আগস্টে হওয়া ভয়াবহ বন্যার পরের পরিস্থিতি। বন্যার স্রোতে গোমতী নদীর চরের কৃষিজমিতে প্রচুর পলি জমেছিল, যা এ বছর মিষ্টিকুমড়ার ভালো ফলন নিশ্চিত করেছে। নভেম্বরের শুরুতে জমিতে আলু ও মিষ্টিকুমড়ার চারা রোপণ করা হয়েছিল। বর্তমানে জমিগুলোতে শুধুমাত্র মিষ্টিকুমড়া রয়েছে এবং কৃষকরা এখন এসব তুলে বাজারে পাঠাচ্ছেন।

আরও পড়ুন  কুমিল্লার গোমতী নদীতে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে পানির স্তর, প্রস্তুত ৫৮৬ আশ্রয়কেন্দ্র

এ বছর গোমতীর চরে শুধু মিষ্টিকুমড়া নয়, আলুরও ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকরা গোমতীর বেড়িবাঁধ সড়কে মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করছেন। প্রতিটি খেত থেকে ৪০-৬০ টাকায় মিষ্টিকুমড়া বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা চরে এসে এসব মিষ্টিকুমড়া সংগ্রহ করে বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন।

ভান্তির গ্রামের কৃষক মো. মানিক জানান, গত বছর বন্যার পর জমির পলি ও দূষণের কারণে এ বছর ফসলের ফলন ভালো হয়েছে। তিনি ২৬ শতাংশ জমিতে আলু ও মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছেন এবং ইতিমধ্যে আলু বিক্রি করে ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় করেছেন। এখন মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করে ৪০-৫০ হাজার টাকার আশা করছেন।

মিষ্টিকুমড়ার চাষে সফলতা পেয়েছে বেশ কিছু হাইব্রিড জাত, যেমন মোহনা, পিরিতি সুপার, অনিক-১ ও ওয়ান্ডার বল। কৃষকদের মতে, মাটি ও আবহাওয়া এই ফলনের জন্য সহায়ক হয়েছে। বালীখাড়ার কৃষক মামুন মিয়া বলেন, ‘এই বছর মিষ্টিকুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে, আশা করছি দাম আরও বাড়বে।’

কৃষি বিভাগের উপপরিচালক আইউব মাহমুদ বলেন, ‘বন্যার পর জমির পলি জমার কারণে মিষ্টিকুমড়ার ফলন ভালো হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

এ বছর গোমতী চরের কৃষকরা মিষ্টিকুমড়ার ভালো ফলনে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করার সুযোগ পেয়েছেন।