কানাডায় অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে ৫ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় ১০:২৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 28
কানাডায় জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে বাংলাদেশি নাগরিকদের অস্থায়ী ভিসা পেতে সহায়তার অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দেশটির সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা (সিবিএসএ) জানিয়েছে, দীর্ঘ তদন্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে চারজন আদালতে হাজির হলেও পঞ্চম ব্যক্তি বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম হাজির হন। পঞ্চম অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় সংস্থাটি।
সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়েতে একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে বসবাসকারীদের বিষয়ে নিয়ম মেনে চলা ও নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত পরিদর্শন চালানো হয়। ওই পরিদর্শনে কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের বেশ কিছু লক্ষণ পাওয়া যায়। এর পর ওই বছরের আগস্টে অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তে উঠে আসে, ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য মোট ২৪৩টি অস্থায়ী আবাসিক ভিসার (টিআরভি) আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। এসব আবেদনে কানাডার নাগরিকদের আমন্ত্রণকারী বা আতিথ্যদাতা হিসেবে দেখানো হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাল নথি ও মিথ্যা বিবৃতি ব্যবহার করে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা পেতে সহায়তার জন্য একটি পরিকল্পিত জালিয়াতির ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।
২০২৫ সালের ৩ জুন সিবিএসএ কুইবেক ও অন্টারিওতে চারটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করে। ওই অভিযানে সংগ্রহ করা নথিপত্র, কম্পিউটার সরঞ্জাম ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে পাঁচ অভিযুক্তের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। জালিয়াতির ঘটনাটি ব্যাপক ও জটিল হওয়ায় তদন্তকারীরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ রয়েছে বলে বিবেচিত ৭৯টি ভিসার আবেদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কানাডায় এক বা একাধিক ব্যক্তির প্রবেশের ব্যবস্থা করা বা এ কাজে সহায়তার ষড়যন্ত্র, অভিবাসন আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুলভাবে উপস্থাপনে জেনেশুনে সহায়তা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে জেনেশুনে প্ররোচনা দেওয়া, সহায়তা করা বা সহযোগিতা করা। সিবিএসএ জানিয়েছে, এসব অভিযোগ এখনো আদালতের যাচাইয়ের অধীন।
কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারী বলেছেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায্যতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এই ব্যবস্থাকে জালিয়াতির কাজে ব্যবহার করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সিবিএসএর কুইবেক অঞ্চলের আঞ্চলিক মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের বলেন, কানাডার অভিবাসনব্যবস্থার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা চক্রগুলো শনাক্ত করা এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধে সংস্থাটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর মতে, তদন্তকারীদের এ ধরনের কাজ অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করে।




















