ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে চীন
- আপডেট সময় ০৬:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / 6
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ইরান খুব দ্রুত চীন-নির্মিত কাঁধে বহনযোগ্য ৪০০টি আকাশ প্রতিরক্ষা উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা পেতে যাচ্ছে।
এই চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনটি সূত্র এ তথ্য রয়টার্সকে জানিয়েছে। ৬০-৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এসব আধুনিক অস্ত্র যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করে ইরান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
চলমান এই যুদ্ধ ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো রক্ষা করার সক্ষমতার দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছে।
তথ্যসূত্রগুলো বলছে, এই চুক্তির আওতায় প্রায় ৪০০টি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা হবে, যার মধ্যে চীনের তৈরি কিউডব্লিউ-১২ এবং এফএন-১৬ ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ঝংকিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ইরানের পক্ষ ও চীনা সরবরাহকারীর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য দিয়েছে।
এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চীন শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা পালন করে আসছে।
তবে এ সংবাদের বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
চলমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের লড়াইয়ের মধ্যেই অস্ত্রভান্ডার আবারও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছে তেহরান।
চলমান এই লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এর জবাবে ইরান পাল্টা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ২৫ জুলাই (শনিবার) থেকে ওয়াশিংটন হামলা স্থগিত করেছে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, পাঁচ মাস ধরে চলা এই সংঘাতের অবসানে আলোচনা ব্যর্থ হলে পুনরায় হামলা শুরু হবে।
ম্যানপ্যাড সরবরাহের ফলে ইরানের স্বল্প-পাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ভান্ডার বৃদ্ধি পাবে এবং চীনের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
সূত্রগুলো সতর্ক করেছে যে, যদিও চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবে সরবরাহের সময়সূচি, পরিমাণ এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত অন্যান্য বিবরণ পরিবর্তিত হতে পারে।
সূত্রগুলোর মতে, পরিকল্পনা অনুযায়ী সরবরাহ প্রাথমিকভাবে পশ্চিম চীনের উরুমকি থেকে আকাশপথে করা হবে এবং তারপর পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে ইরানে পাঠানো হবে। তবে এই হস্তান্তর কোন পথ দিয়ে হবে, তা সূত্রগুলো স্পষ্ট করেনি।
পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ শাখা বলেছে, চীন থেকে ইরানে বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্র সরবরাহে পাকিস্তানের জড়িত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
ইরান গত দুই দশকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডারের উন্নয়নে অনেক বিনিয়োগ করেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া যায় এবং ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করা যায়, যা এগুলোকে স্থির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারির তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
কিউডব্লিউ-১২ ও এফএন-১৬ হলো অত্যাধুনিক কাঁধে বহনযোগ্য ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যা নিচু দিয়ে উড়ন্ত হেলিকপ্টার ও ড্রোনকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
কিউডব্লিউ-১২ ও এফএন-১৬-এর গতিশীলতার কারণে সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থানের আশপাশে এগুলো দ্রুত মোতায়েন করা সম্ভব।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা কিউডব্লিউ-১২-কে কিউডব্লিউ-১৮ ও কিউডব্লিউ-১৯-সহ নতুন কিউডব্লিউ সংস্করণগুলোর তুলনায় কম সক্ষম বলে মনে করেন। তবে তাদের ধারণা, এই ব্যবস্থাগুলো ড্রোন ও নিচু দিয়ে উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা প্রদান করতে পারে।
পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্র ও একজন ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান চীনা সামরিক সরঞ্জাম এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ গোপনে স্থানান্তরের জন্য স্থলপথ ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে।
তবে সূত্রগুলো বলছে, এই ক্রয় প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বছরের পর বছর ধরে দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন এবং বিদেশি সরবরাহকারীদের সঙ্গে ইরানের গোপন যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। অস্ত্রভান্ডারকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ইরান এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে চায়।

























