ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জেন-জি আন্দোলনে চাপে মোদি সরকার, নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • / 46

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থী আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বেকারত্ব, সীমিত কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ কমে যাওয়ায় তরুণদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলনের বিস্তার ঘটছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০-২১ সালের কৃষক আন্দোলনের পর এটিই মোদি সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় গণআন্দোলনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও সিজেপি এখন দেশজুড়ে একটি সংগঠিত আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।

আরও পড়ুন  সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: প্রধানমন্ত্রী

গত ৬ জুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত মে মাসে একাধিক জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর দায় রয়েছে। তবে গত সোমবার পার্লামেন্ট অভিমুখে শিক্ষার্থীদের মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে দিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে।

দিল্লি পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।

এ বিষয়ে সিএনবিসির মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই সিজেপির সূচনা। এক শুনানিতে তিনি দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাওয়া কিছু ‘পরজীবী’র সঙ্গে বেকার তরুণদের যুক্ত থাকার কথা বলেছিলেন। পরে তার দাবি, ওই মৌখিক বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এরপর গত ১৬ মে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা সংগঠনটির অনুসারীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে। পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগে জবাবদিহির দাবিতে বিরোধী দলগুলোর নেতারা, যার মধ্যে রাহুল গান্ধীও রয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন। এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাহুল গান্ধীকে আটক করা হলেও কয়েক ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গত মে মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল করা হয়, যাতে লাখো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে জুন মাসে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।

গত বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক উদ্বেগের সমাধানে সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তবে সরকারের এ আশ্বাসেও আন্দোলনের তীব্রতা কমেনি। সিজেপির দাবি, আন্দোলন ইতোমধ্যে ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিজেপির আন্দোলনে বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ও কৃষক সংগঠনও সমর্থন জানিয়েছে। কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইত প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

ইউরেশিয়া গ্রুপের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রধান প্রমিত পাল চৌধুরীর মতে, সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এটি দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে আন্দোলন আরও বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠার ঝুঁকিও বাড়ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জেন-জি আন্দোলনে চাপে মোদি সরকার, নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত

আপডেট সময় ১১:২৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ভারতে অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থী আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বেকারত্ব, সীমিত কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ কমে যাওয়ায় তরুণদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলনের বিস্তার ঘটছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০-২১ সালের কৃষক আন্দোলনের পর এটিই মোদি সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় গণআন্দোলনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও সিজেপি এখন দেশজুড়ে একটি সংগঠিত আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।

আরও পড়ুন  আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টের পতন ঘটলেও ফ্যাসিস্টিক ব্যবস্থা এখনও বিদ্যমান: নাহিদ ইসলাম

গত ৬ জুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত মে মাসে একাধিক জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর দায় রয়েছে। তবে গত সোমবার পার্লামেন্ট অভিমুখে শিক্ষার্থীদের মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে দিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে।

দিল্লি পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।

এ বিষয়ে সিএনবিসির মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই সিজেপির সূচনা। এক শুনানিতে তিনি দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাওয়া কিছু ‘পরজীবী’র সঙ্গে বেকার তরুণদের যুক্ত থাকার কথা বলেছিলেন। পরে তার দাবি, ওই মৌখিক বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এরপর গত ১৬ মে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা সংগঠনটির অনুসারীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে। পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগে জবাবদিহির দাবিতে বিরোধী দলগুলোর নেতারা, যার মধ্যে রাহুল গান্ধীও রয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন। এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাহুল গান্ধীকে আটক করা হলেও কয়েক ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গত মে মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল করা হয়, যাতে লাখো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে জুন মাসে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।

গত বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক উদ্বেগের সমাধানে সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তবে সরকারের এ আশ্বাসেও আন্দোলনের তীব্রতা কমেনি। সিজেপির দাবি, আন্দোলন ইতোমধ্যে ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিজেপির আন্দোলনে বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ও কৃষক সংগঠনও সমর্থন জানিয়েছে। কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইত প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

ইউরেশিয়া গ্রুপের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রধান প্রমিত পাল চৌধুরীর মতে, সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এটি দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে আন্দোলন আরও বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠার ঝুঁকিও বাড়ছে।