ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মে দিবসে নয়াপল্টনে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশ: প্রধান অতিথি হিসেবে থাকছেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজের নাম নিজের নামে রাখলেন ট্রাম্প জার্মানি—প্রযুক্তি, শৃঙ্খলা ও ইতিহাসের শক্তিশালী দেশ বাংলাদেশ সীমান্তে বিষধর সাপ ও কুমির মোতায়েনের পরিকল্পনা ভারতের সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ হয়নি: স্পিকারের কাছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা ১১ দলীয় ঐক্যের নতুন কর্মসূচি: মহাসমাবেশ ও সমাবেশের ঘোষণা ২৮ ও ২৯ এপ্রিল হয়নি কোনো লোডশেডিং: বিদ্যুৎ বিভাগ কক্সবাজারের আবাসিক হোটেলের বন্ধ কক্ষ থেকে ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ভিডিও ভাইরালের পর গ্রেপ্তার ৩ ডেমরায় কালি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে লড়ছে ফায়ার সার্ভিস

সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ হয়নি: স্পিকারের কাছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:১০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 14

ছবি: সংগৃহীত

 

জাতীয় সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আলোচিত কেনাকাটায় কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা ‘হরিলুট’ সংঘটিত হয়নি। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কমিটির আহ্বায়ক ও হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের কমিটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেয়।

পরবর্তীতে সংসদ ভবনের টানেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে ৩টি লেন্সের দাম ৩৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা বলে দাবি করা হলেও দাপ্তরিক নথিপত্র অনুযায়ী এর প্রকৃত মূল্য ছিল ৩ লাখ ৭৪ হাজার ১০০ টাকা। তদন্ত কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক কমিটির কাছে এটি ‘মুদ্রণজনিত ভুল’ হতে পারে বলে স্বীকার করেছেন। এছাড়া তদন্ত চলাকালীন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি এবং প্রতিটি পণ্যে কার্যাদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো সঠিক পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন  ​নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে ভ্যাট, ট্যাক্স ও ঠিকাদারের যৌক্তিক মুনাফা যোগ করেই পণ্যের দাপ্তরিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে একটি পদ্ধতিগত ত্রুটি চিহ্নিত করেছে কমিটি; কার্যাদেশে ক্যামেরার উৎপত্তিস্থল জাপান উল্লেখ থাকলেও সরবরাহ করা হয়েছে থাইল্যান্ডে তৈরি পণ্য। এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তৎকালীন সচিব কানিজ মাওলার লিখিত অনুমতি গ্রহণ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সংসদের গণসংযোগ শাখার সরঞ্জাম জরুরি ভিত্তিতে প্রতিস্থাপনের জন্য এই ক্রয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম কেনাকাটায় বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনমনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এর প্রেক্ষিতে স্পিকার ৫ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন। হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, মো. সাইফুল আলম, হুমাম কাদের চৌধুরী এবং হাসনাত আবদুল্লাহ। গত ২১ এপ্রিল সংসদ সচিবালয় থেকে জারিকৃত অফিস আদেশের মাধ্যমে কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ হয়নি: স্পিকারের কাছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা

আপডেট সময় ০৬:১০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

 

জাতীয় সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আলোচিত কেনাকাটায় কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা ‘হরিলুট’ সংঘটিত হয়নি। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কমিটির আহ্বায়ক ও হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের কমিটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেয়।

পরবর্তীতে সংসদ ভবনের টানেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে ৩টি লেন্সের দাম ৩৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা বলে দাবি করা হলেও দাপ্তরিক নথিপত্র অনুযায়ী এর প্রকৃত মূল্য ছিল ৩ লাখ ৭৪ হাজার ১০০ টাকা। তদন্ত কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক কমিটির কাছে এটি ‘মুদ্রণজনিত ভুল’ হতে পারে বলে স্বীকার করেছেন। এছাড়া তদন্ত চলাকালীন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি এবং প্রতিটি পণ্যে কার্যাদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো সঠিক পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন  ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ৩৬১ সাংবাদিক কারাবন্দি, বাংলাদেশী ৪ জন

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে ভ্যাট, ট্যাক্স ও ঠিকাদারের যৌক্তিক মুনাফা যোগ করেই পণ্যের দাপ্তরিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে একটি পদ্ধতিগত ত্রুটি চিহ্নিত করেছে কমিটি; কার্যাদেশে ক্যামেরার উৎপত্তিস্থল জাপান উল্লেখ থাকলেও সরবরাহ করা হয়েছে থাইল্যান্ডে তৈরি পণ্য। এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তৎকালীন সচিব কানিজ মাওলার লিখিত অনুমতি গ্রহণ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সংসদের গণসংযোগ শাখার সরঞ্জাম জরুরি ভিত্তিতে প্রতিস্থাপনের জন্য এই ক্রয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম কেনাকাটায় বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনমনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এর প্রেক্ষিতে স্পিকার ৫ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন। হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, মো. সাইফুল আলম, হুমাম কাদের চৌধুরী এবং হাসনাত আবদুল্লাহ। গত ২১ এপ্রিল সংসদ সচিবালয় থেকে জারিকৃত অফিস আদেশের মাধ্যমে কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।