ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

উৎপাদনে ফেরার ১৫ ঘণ্টায় আবারও অচল বড়পুকুরিয়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শঙ্কা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 100

ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনে ফেরার মাত্র ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটের বয়লার টিউব বিস্ফোরিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বর্তমানে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের একটি থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না, যা উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এজাহারে বা যান্ত্রিক তথ্যে উল্লেখ আছে যে, গত বুধবার রাতে প্রথম দফায় বয়লার পাইপ ফেটে যাওয়ায় ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ হয়েছিল। প্রায় ৪৬ ঘণ্টার নিবিড় মেরামত কাজ শেষে গত শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিটে ইউনিটটি পুনরায় সচল করা হয়। তবে সচল হওয়ার মাত্র ১৫ ঘণ্টার মাথায় আবারও একই ধরনের বিপত্তি ঘটল। কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ার পর বর্তমানে স্টিম ঠান্ডা করার প্রক্রিয়া চলছে। মেরামত কাজ শেষে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে ৫ থেকে ৬ দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বড়পুকুরিয়ার ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার পুরোটাই এখন অকেজো। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে এবং ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। একমাত্র সচল থাকা প্রথম ইউনিটটিও বারবার বিকল হওয়ায় পুরো কেন্দ্রটি এখন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পড়েছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি যান্ত্রিক জটিলতা ও সংস্কারের অভাবে পূর্ণ ক্ষমতায় কখনোই চলতে পারেনি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

আরও পড়ুন  গাজায় নতুন সংকটের আশঙ্কা: পানি-বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের পরিকল্পনায় ইসরায়েল

উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মোট ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট হলেও বারবার যান্ত্রিক বিকলতা এর নির্ভরযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বর্তমানে বয়লার টিউব বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি বারবার অচল হয়ে পড়ছে, যার ফলে জাতীয় গ্রিডে লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি বাড়ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

উৎপাদনে ফেরার ১৫ ঘণ্টায় আবারও অচল বড়পুকুরিয়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শঙ্কা

আপডেট সময় ০৫:৫৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনে ফেরার মাত্র ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটের বয়লার টিউব বিস্ফোরিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বর্তমানে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের একটি থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না, যা উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এজাহারে বা যান্ত্রিক তথ্যে উল্লেখ আছে যে, গত বুধবার রাতে প্রথম দফায় বয়লার পাইপ ফেটে যাওয়ায় ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ হয়েছিল। প্রায় ৪৬ ঘণ্টার নিবিড় মেরামত কাজ শেষে গত শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিটে ইউনিটটি পুনরায় সচল করা হয়। তবে সচল হওয়ার মাত্র ১৫ ঘণ্টার মাথায় আবারও একই ধরনের বিপত্তি ঘটল। কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ার পর বর্তমানে স্টিম ঠান্ডা করার প্রক্রিয়া চলছে। মেরামত কাজ শেষে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে ৫ থেকে ৬ দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বড়পুকুরিয়ার ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার পুরোটাই এখন অকেজো। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে এবং ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। একমাত্র সচল থাকা প্রথম ইউনিটটিও বারবার বিকল হওয়ায় পুরো কেন্দ্রটি এখন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পড়েছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি যান্ত্রিক জটিলতা ও সংস্কারের অভাবে পূর্ণ ক্ষমতায় কখনোই চলতে পারেনি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

আরও পড়ুন  কোন কোন এলাকায় আজ ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মোট ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট হলেও বারবার যান্ত্রিক বিকলতা এর নির্ভরযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বর্তমানে বয়লার টিউব বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি বারবার অচল হয়ে পড়ছে, যার ফলে জাতীয় গ্রিডে লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি বাড়ছে।