ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চিত্রনায়িকা পূজা চেরির বাবা গ্রেপ্তার ডেনমার্ক উত্তর ইউরোপের উন্নত জীবন ও সুখের দেশ ‘জামায়াত আমির সুস্থ চিন্তা করতে পারেন না’, পল্টনে মির্জা ফখরুল উৎপাদনে ফেরার ১৫ ঘণ্টায় আবারও অচল বড়পুকুরিয়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শঙ্কা নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার গণমাধ্যম দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে: শ্রমমন্ত্রী মাত্র এক লাখ টাকায় রেসিং কার: রিজওয়ানের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার সামান্যই দেখিয়েছে ইরান; পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ভোলায় আড়াই কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারি আটক পিএসএলের ফাইনালেই শুধু দর্শক প্রবেশের অনুমতি

উৎপাদনে ফেরার ১৫ ঘণ্টায় আবারও অচল বড়পুকুরিয়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শঙ্কা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 17

ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনে ফেরার মাত্র ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটের বয়লার টিউব বিস্ফোরিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বর্তমানে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের একটি থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না, যা উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এজাহারে বা যান্ত্রিক তথ্যে উল্লেখ আছে যে, গত বুধবার রাতে প্রথম দফায় বয়লার পাইপ ফেটে যাওয়ায় ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ হয়েছিল। প্রায় ৪৬ ঘণ্টার নিবিড় মেরামত কাজ শেষে গত শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিটে ইউনিটটি পুনরায় সচল করা হয়। তবে সচল হওয়ার মাত্র ১৫ ঘণ্টার মাথায় আবারও একই ধরনের বিপত্তি ঘটল। কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ার পর বর্তমানে স্টিম ঠান্ডা করার প্রক্রিয়া চলছে। মেরামত কাজ শেষে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে ৫ থেকে ৬ দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বড়পুকুরিয়ার ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার পুরোটাই এখন অকেজো। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে এবং ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। একমাত্র সচল থাকা প্রথম ইউনিটটিও বারবার বিকল হওয়ায় পুরো কেন্দ্রটি এখন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পড়েছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি যান্ত্রিক জটিলতা ও সংস্কারের অভাবে পূর্ণ ক্ষমতায় কখনোই চলতে পারেনি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

আরও পড়ুন  গরমে বিদ্যুৎ সংকট বাড়তে পারে, রোজার মাসে বাড়বে লোডশেডিং

উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মোট ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট হলেও বারবার যান্ত্রিক বিকলতা এর নির্ভরযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বর্তমানে বয়লার টিউব বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি বারবার অচল হয়ে পড়ছে, যার ফলে জাতীয় গ্রিডে লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি বাড়ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

উৎপাদনে ফেরার ১৫ ঘণ্টায় আবারও অচল বড়পুকুরিয়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শঙ্কা

আপডেট সময় ০৫:৫৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনে ফেরার মাত্র ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটের বয়লার টিউব বিস্ফোরিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বর্তমানে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের একটি থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না, যা উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এজাহারে বা যান্ত্রিক তথ্যে উল্লেখ আছে যে, গত বুধবার রাতে প্রথম দফায় বয়লার পাইপ ফেটে যাওয়ায় ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ হয়েছিল। প্রায় ৪৬ ঘণ্টার নিবিড় মেরামত কাজ শেষে গত শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিটে ইউনিটটি পুনরায় সচল করা হয়। তবে সচল হওয়ার মাত্র ১৫ ঘণ্টার মাথায় আবারও একই ধরনের বিপত্তি ঘটল। কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ার পর বর্তমানে স্টিম ঠান্ডা করার প্রক্রিয়া চলছে। মেরামত কাজ শেষে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে ৫ থেকে ৬ দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বড়পুকুরিয়ার ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার পুরোটাই এখন অকেজো। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে এবং ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। একমাত্র সচল থাকা প্রথম ইউনিটটিও বারবার বিকল হওয়ায় পুরো কেন্দ্রটি এখন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পড়েছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি যান্ত্রিক জটিলতা ও সংস্কারের অভাবে পূর্ণ ক্ষমতায় কখনোই চলতে পারেনি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

আরও পড়ুন  শেরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই কৃষকের মৃত্যু, আহত একজন

উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মোট ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট হলেও বারবার যান্ত্রিক বিকলতা এর নির্ভরযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বর্তমানে বয়লার টিউব বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি বারবার অচল হয়ে পড়ছে, যার ফলে জাতীয় গ্রিডে লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি বাড়ছে।