গাইবান্ধায় থানায় ঢুকে ওসির ওপর হামলার অভিযোগ,যুব জামায়াত নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় ০৬:৩৪:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
- / 20
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় প্রবেশ করে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় উপজেলা যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম পলাশসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পুলিশ বাদী হয়ে থানায় এই মামলাটি দায়ের করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার কালিবাড়ি বাজারে সরকারি সেডের একটি দোকান ঘরের মালিকানা নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এই বিষয়ে বুধবার রাতে একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় যান যুব জামায়াত নেতা মাহমুদুল ইসলাম পলাশ ও তার সঙ্গীরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, অভিযোগের বিষয়ে ওসির সঙ্গে আলাপকালে এক পর্যায়ে তর্কের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ উঠেছে, আলোচনার এক পর্যায়ে যুব জামায়াত নেতা পলাশ ওসিকে বিতর্কিত ওই দোকানে তালা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। পুলিশ আইনি প্রক্রিয়ার কথা বললে তিনি উত্তেজিত হয়ে সমর্থকদের খবর দেন। পরবর্তীতে ৮-১০ জনের একটি দল থানায় ঢুকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার ঘটনায় পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খানসহ অন্তত ৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. সোহাগ জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে সাতজন পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে ৩-৪ জনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাদের ভর্তি রাখা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এবিএম রশীদুল বারী ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, সরকারি বরাদ্দের দোকানের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ওসি সরোয়ার আলম খান বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও তারা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং এক পর্যায়ে পুলিশকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।” এই ঘটনায় জড়িত বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
তবে হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে স্থানীয় যুব জামায়াত। দলটির নেতা মাহমুদুল ইসলাম পলাশ দাবি করেছেন, পুলিশই প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এতে তাদের দুইজন কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের ভাষ্যমতে, পুলিশ জামায়াত কর্মীদের মারধর করে এখন উল্টো তাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।
























