দৌলতদিয়ায় বাস ডুবিতে বাড়ল মৃতের সংখ্যা, প্রাণ গেল আরও তিন মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর
- আপডেট সময় ০১:২২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
- / 32
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৮ জন শিশু ও ৬ জন পুরুষ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস কুমার পাল। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জোহরা অন্তি এবং তার স্বামী সৌম্য। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়াও বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি)-এর শিক্ষার্থী সাইফ আহমেদ ও তার সহধর্মিণী এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
অন্যদিকে, সিআরপির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএইচপিআই-এর ফিজিওথেরাপি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সোমা (অকুপেশনাল থেরাপি, ১৭তম ব্যাচ) ও তাদের সাত মাস বয়সী সন্তান নিহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নুরুজ্জামান তার মেয়েকে নদী দেখানোর জন্য বাস থেকে নিচে নামলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। চোখের সামনেই তার স্ত্রী ও কোলের সন্তানসহ বাসটি তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ান ও তার ভাগ্নের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার (২৫ মার্চ) তার মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং তার বড় বোনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে স্বজন ও সহপাঠীরা তাদের মরদেহ শনাক্ত করেন।
বুধবার রাত ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সাহায্যে শক্তিশালী ক্রেন দিয়ে বাসটি টেনে তোলার কাজ শুরু হয়। উদ্ধারকারী দল জানায়, বাসের সামনের অংশ ইতিমধ্যে পানির ওপরে তোলা সম্ভব হয়েছে। বাসের দরজাগুলো ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং ভেতর থেকে যাত্রীদের স্কুলব্যাগ, জুতা ও ব্যক্তিগত সামগ্রী ভেসে উঠছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য দুর্ঘটনাস্থলে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো বর্তমানে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন জানান, বাসে থাকা আরও প্রায় ৪০ জন যাত্রী এখনও নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডুবুরি দল নিরলসভাবে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা বাসটি দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে ৪৫ থেকে ৫০ জন যাত্রী থাকলেও মাত্র সাতজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। বেঁচে যাওয়া যাত্রী আব্দুল আজিজুল জানান, তিনি নিজে প্রাণে বাঁচলেও তার স্ত্রী ও সন্তান এখনও নিখোঁজ।






















