প্রচার পর্ব শেষ, নিরাপত্তার চাদরে দেশ
- আপডেট সময় ১১:২৩:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 41
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক প্রচার পর্ব শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রচার চালানো আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এর মধ্য দিয়ে দেশ প্রবেশ করেছে ভোটের শেষ প্রস্তুতির ধাপে, যেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় ঢেকে দেওয়া হয়েছে পুরো দেশ।
প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, ব্যালট পেপারসহ সব ধরনের নির্বাচনি সরঞ্জাম বুধবার কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনের ভোট স্থগিত রয়েছে। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে দুই হাজারের বেশি প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। জুলাই সনদে উল্লেখিত সংস্কার প্রস্তাবের ওপর চারটি প্রশ্নে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে।
পৌনে ১৩ কোটি ভোটার সারা দেশের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। নির্বাচন কমিশনের হিসেবে, টানা দুই মাসের প্রস্তুতির পর এখন ভোটের রায় দেওয়ার অপেক্ষা।
এবার প্রথমবার আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় প্রবাসী ও নির্দিষ্ট তিন শ্রেণির নাগরিক ভোট দিয়েছেন। এসব ব্যালট ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছাতে হবে।
প্রচার মাঠের চিত্র:
গত তিন সপ্তাহে প্রার্থীরা শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জে ভোটের প্রচারে সক্রিয় ছিলেন। প্রচারের শেষ দিকে বিএনপি, জামায়াতসহ কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতারা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভাষণ দেন।
তবে এই প্রচার পর্বে সংঘর্ষ, হামলা, আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগও ছিল। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত না করার অভিযোগ তুলেছে একাধিক দল।
নির্বাচন বিশ্লেষক ও সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা জেসমিন টুলী বলেন, শেষ দিকে প্রচার জমজমাট হলেও প্রার্থীরা ভোটারের কাছে গেছেন—এটি ইতিবাচক দিক। তবে আচরণবিধি লঙ্ঘনে কমিশন তুলনামূলকভাবে নমনীয় ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভোটের ট্রেন গন্তব্যের কাছাকাছি:
নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বলেন, প্রচার শেষে বড় ধরনের সহিংসতা না হওয়ায় শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার মতে, আওয়ামী লীগবিহীন এ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ২০০৮ সালের মতো নাও হতে পারে। গুজব ও অনিশ্চয়তার কারণে অংশগ্রহণ কিছুটা কমতে পারে।
নিরাপত্তা প্রস্তুতি:
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে পুরোপুরি মাঠে নেমেছে। সেনাবাহিনী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচনকালীন দায়িত্বে রয়েছে। কয়েক লাখ সদস্য এক সপ্তাহ ধরে ভোটের কাজে মোতায়েন থাকবেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার আশা, কোনো ধরনের অনিয়ম বা সহিংসতার সুযোগ থাকবে না।
তিনি জানান, সব আসনের ফলাফল ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালের মধ্যেই প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
এক নজরে নির্বাচন
>>ভোটগ্রহণ: ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৭:৩০ থেকে বিকাল ৪:৩০
>>সংসদ ও গণভোট—একই দিনে
>>দুটি ব্যালট: সংসদেরটি সাদাকালো, গণভোটেরটি গোলাপি
>>মোট ভোটার: ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি
>>ভোটকেন্দ্র: ৪২,৭৭৯টি
>>ভোটকক্ষ: ২,৪৭,৪৮২টি
>>নির্বাচনি কর্মকর্তা: প্রায় ৮ লাখ
>>নিরাপত্তা বাহিনী: ৯ লাখের বেশি সদস্য























