ড্রোনের লাইভ ফিডে ভোট পর্যবেক্ষণে প্রধান উপদেষ্টা
- আপডেট সময় ০১:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 31
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বিমান বাহিনীর ড্রোন থেকে পাওয়া লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে তিনি সার্বিক পরিস্থিতি নজরে রাখবেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিমান বাহিনীর পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র্যাবও ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে। তবে বিমান বাহিনীর ড্রোনের লাইভ ফিড নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েও সরবরাহ করতে হবে। অন্যদিকে বিজিবি ও র্যাব তাদের ড্রোনের লাইভ ফিড কেবল ইসির আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে পাঠাবে।
ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থা নির্ণয়, সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে ড্রোন নজরদারি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বিবেচনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বিজিবি ও র্যাবের মহাপরিচালকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো দায়িত্ব পালন করবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, নির্বাচনকালীন যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বল্প সময়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি নির্বাচন পরিচালনায় সহায়ক হবে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিক মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাইবার মনিটরিং সেল এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বয় সেল, যেগুলো সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো ধরনের ড্রোন ব্যবহার করা যাবে না। তবে প্রয়োজনের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, যারা ভাঙচুর, সহিংসতা বা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, ভোটের দিন মাঠপর্যায়ে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। সেনাবাহিনীর এক লাখের বেশি সদস্যের পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে এআইভিত্তিক অপতথ্য মোকাবেলায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে ফেসবুক থেকে। অপতথ্য শনাক্তে ইউএনডিপির ‘ই-মনিটর প্লাস’ প্ল্যাটফর্ম ইসিকে সহায়তা করছে। শনাক্ত তথ্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠানো হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনী তা মোকাবেলায় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৭৯টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে।






















