চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোসাব্বিরকে হত্যা: ডিবি
- আপডেট সময় ০৩:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / 75
রাজধানীর ব্যস্ততম কারওয়ান বাজার এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে একাধিক চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কাজ করেছে বলে দাবি পুলিশের।
শনিবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত অন্তত ৮ থেকে ৯টি সক্রিয় সিন্ডিকেট রয়েছে। এসব সিন্ডিকেটের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ ও অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে মোসাব্বিরকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিদেশে অবস্থানরত আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসী দিলীপ ওরফে ‘বিনাশ’-এর নির্দেশনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
ডিবির প্রধান আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজদের কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক পরিচয় নেই। বড় বাজার এলাকায় দখল ধরে রাখতে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়াল নেয়।’
গত ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয় স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোসাব্বিরকে। এ ঘটনায় সরাসরি গুলি চালানোয় জড়িত অন্যতম প্রধান শুটার মো. রহিমকে শুক্রবার নরসিংদীর মাধবদী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
গ্রেপ্তারের সময় রহিমের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এর আগে একই মামলায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচজন আসামি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে রহিম ও জিন্নাত নামের দুই ব্যক্তি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার হওয়া একজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে ‘দাদা’ নামে পরিচিত বিনাশের নির্দেশের কথা উঠে এসেছে। বিনাশ বর্তমানে বিদেশে থাকলেও তাঁর নাম ব্যবহার করে কারওয়ান বাজারে নিয়মিত চাঁদাবাজি চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান সতর্ক করে বলেন, কারওয়ান বাজারে সক্রিয় সব চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে। তিনি আরও জানান, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে একটি গোষ্ঠী অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে পুলিশ সতর্ক রয়েছে এবং গত এক মাসে রাজধানী থেকে সর্বোচ্চ ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
























