০৬:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
প্রকৃতির হাতে আঁকা ভূমি: নর্থ ডাকোটা ব্যাডল্যান্ড সাংবাদিকতার স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বনির্ভরতা জরুরি: শফিক রেহমান হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চরমোনাইয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে জামায়াত জোট আইসিসি ভারতীয় কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ, ভারতীয় মিডিয়ার দাবি একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ খুঁজছে: সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে : তারেক রহমান আচরণবিধি লঙ্ঘন: অপসাংবাদিকতার শিকার বললেন মামুনুল হক পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে ইসি গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে তারেক রহমান

সাংবাদিকতার স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বনির্ভরতা জরুরি: শফিক রেহমান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:০৪:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 25

ছবি: সংগৃহীত

 

প্রবীণ সম্পাদক শফিক রেহমান বলেছেন, সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে সাংবাদিকদের আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া অপরিহার্য।

শনিবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’-এ প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর চলমান আঘাতের প্রতিবাদ এবং স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে এ সম্মেলনের আয়োজন করে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদ।

বিজ্ঞাপন

শফিক রেহমান বলেন, শুধু সাংবাদিকতার আয়ের ওপর নির্ভরশীল হলে এক সময় আপসের চাপে পড়তে হয়। তাই সাংবাদিকদের বিকল্প পেশাগত দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি শিক্ষকতা, গবেষণা, অর্থনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

সাংবাদিকদের ‘দালাল’ আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান বদলের কারণে সাংবাদিকদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে পেশার সম্মান বাড়ে না, বরং ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এখনো পুরোপুরি মর্যাদাসম্পন্ন পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়নি। এই মর্যাদা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সাংবাদিকদেরই নিতে হবে। এ জন্য পত্রিকার সম্পাদনা ও পেশাগত নীতিমালার মান নির্ধারণে একটি মানদণ্ডভিত্তিক কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে শফিক রেহমান বলেন, নামের আগে বিশেষণ ব্যবহারের প্রবণতা তিনি পছন্দ করেন না। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ব্যক্তি নয়, কাজ ও প্রতিষ্ঠানই মুখ্য হওয়া উচিত।

নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাকে দেশ ছাড়তে হয় এবং দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়। লন্ডনে প্রায় ২৯ বছর অবস্থানকালে তিনি ব্রিটিশ গণমাধ্যম ও সম্প্রচার অঙ্গনে কাজ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নানা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তবে সচেতনভাবে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলেছেন বলেও জানান।

সাংবাদিকতার দায়িত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রকাশক, সম্পাদক ও লেখকের ভূমিকা আলাদা। লেখকের কাজ চিন্তা করে লেখা, ক্ষমতার সঙ্গে আপস করা নয়। নিজেকে বক্তা নয়, লেখক হিসেবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি।
শারীরিক সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন শফিক রেহমান। তিনি বলেন, কারাবন্দি থাকার সময় তিনি বাম চোখ ও বাম কানের শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন, ডান কানে কম শুনতে পান এবং ডান চোখে মাত্র অর্ধেক দেখতে পান। কানে যন্ত্র ব্যবহার করেই তিনি বক্তব্য দিচ্ছেন। তবু এসব প্রতিবন্ধকতা তাকে মতপ্রকাশ থেকে বিরত রাখতে পারেনি।

দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, দীর্ঘদিনের ভুল নীতি সিদ্ধান্তের প্রভাব এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মানুষের সোনার দিকে ঝুঁকে পড়াকে তিনি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং শক্তিশালী ও মানসম্মত ব্যাংকিং কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

সাংবাদিকতার স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বনির্ভরতা জরুরি: শফিক রেহমান

আপডেট সময় ০৯:০৪:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

 

প্রবীণ সম্পাদক শফিক রেহমান বলেছেন, সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে সাংবাদিকদের আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া অপরিহার্য।

শনিবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’-এ প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর চলমান আঘাতের প্রতিবাদ এবং স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে এ সম্মেলনের আয়োজন করে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদ।

বিজ্ঞাপন

শফিক রেহমান বলেন, শুধু সাংবাদিকতার আয়ের ওপর নির্ভরশীল হলে এক সময় আপসের চাপে পড়তে হয়। তাই সাংবাদিকদের বিকল্প পেশাগত দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি শিক্ষকতা, গবেষণা, অর্থনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

সাংবাদিকদের ‘দালাল’ আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান বদলের কারণে সাংবাদিকদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে পেশার সম্মান বাড়ে না, বরং ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এখনো পুরোপুরি মর্যাদাসম্পন্ন পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়নি। এই মর্যাদা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সাংবাদিকদেরই নিতে হবে। এ জন্য পত্রিকার সম্পাদনা ও পেশাগত নীতিমালার মান নির্ধারণে একটি মানদণ্ডভিত্তিক কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে শফিক রেহমান বলেন, নামের আগে বিশেষণ ব্যবহারের প্রবণতা তিনি পছন্দ করেন না। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ব্যক্তি নয়, কাজ ও প্রতিষ্ঠানই মুখ্য হওয়া উচিত।

নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাকে দেশ ছাড়তে হয় এবং দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়। লন্ডনে প্রায় ২৯ বছর অবস্থানকালে তিনি ব্রিটিশ গণমাধ্যম ও সম্প্রচার অঙ্গনে কাজ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নানা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তবে সচেতনভাবে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলেছেন বলেও জানান।

সাংবাদিকতার দায়িত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রকাশক, সম্পাদক ও লেখকের ভূমিকা আলাদা। লেখকের কাজ চিন্তা করে লেখা, ক্ষমতার সঙ্গে আপস করা নয়। নিজেকে বক্তা নয়, লেখক হিসেবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি।
শারীরিক সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন শফিক রেহমান। তিনি বলেন, কারাবন্দি থাকার সময় তিনি বাম চোখ ও বাম কানের শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন, ডান কানে কম শুনতে পান এবং ডান চোখে মাত্র অর্ধেক দেখতে পান। কানে যন্ত্র ব্যবহার করেই তিনি বক্তব্য দিচ্ছেন। তবু এসব প্রতিবন্ধকতা তাকে মতপ্রকাশ থেকে বিরত রাখতে পারেনি।

দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, দীর্ঘদিনের ভুল নীতি সিদ্ধান্তের প্রভাব এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মানুষের সোনার দিকে ঝুঁকে পড়াকে তিনি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং শক্তিশালী ও মানসম্মত ব্যাংকিং কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।