১২:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
প্রকৃতির হাতে আঁকা ভূমি: নর্থ ডাকোটা ব্যাডল্যান্ড সাংবাদিকতার স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বনির্ভরতা জরুরি: শফিক রেহমান হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চরমোনাইয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে জামায়াত জোট আইসিসি ভারতীয় কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ, ভারতীয় মিডিয়ার দাবি একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ খুঁজছে: সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে : তারেক রহমান আচরণবিধি লঙ্ঘন: অপসাংবাদিকতার শিকার বললেন মামুনুল হক পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে ইসি গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে তারেক রহমান

বিজিবিতে ফেলানীর ভাইয়ের নিয়োগ জীবন দিয়ে সীমান্ত রক্ষা শপথ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 82

ছবি: সংগৃহীত

 

ওয়েব হেড:
বোনের রক্তের স্মৃতি বুকে নিয়ে বিজিবিতে আরফান, সীমান্ত রক্ষার শপথ

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) নিয়োগ পেয়েছেন ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই আরফান হোসেন। বুধবার বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন তিনি।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসিএন্ডসি) ঐতিহ্যবাহী বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে নবীন সৈনিকদের শপথগ্রহণ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই বিজিবির একজন সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করেন আরফান হোসেন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ফেলানী খাতুনকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং তাঁর মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ওই ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর তাঁর ছোট ভাই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে যোগ দিলেন।

কুচকাওয়াজ শেষে আরফান হোসেন সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৬-৭ বছর। বোনকে নির্মমভাবে হত্যার পর থেকেই তাঁর বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল, তিনি যেন দেশের জন্য কাজ করতে পারেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নিজেকে গড়ে তুলে বিজিবিতে যোগ দেন তিনি।

আরফান জানান, তাঁদের পরিবারে তিন ভাই ও দুই বোন। তিনি ২০২২ সালে স্থানীয় নাখারগঞ্জ হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। গত বছর বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তিনি আবেদন করেন। প্রাথমিক বাছাই শেষে টানা চার মাস কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আজ চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আরফান বলেন, সীমান্তে তাঁর বোনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তিনি চান না আর কোনো পরিবার এমন বেদনার মুখোমুখি হোক। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে চান।

তিনি বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন বিপন্ন হলেও তিনি চেষ্টা করবেন যেন আর কোনো মা-বাবাকে ফেলানীর মতো সন্তান হারাতে না হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিজিবিতে ফেলানীর ভাইয়ের নিয়োগ জীবন দিয়ে সীমান্ত রক্ষা শপথ

আপডেট সময় ০৬:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

 

ওয়েব হেড:
বোনের রক্তের স্মৃতি বুকে নিয়ে বিজিবিতে আরফান, সীমান্ত রক্ষার শপথ

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) নিয়োগ পেয়েছেন ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই আরফান হোসেন। বুধবার বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন তিনি।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসিএন্ডসি) ঐতিহ্যবাহী বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে নবীন সৈনিকদের শপথগ্রহণ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই বিজিবির একজন সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করেন আরফান হোসেন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ফেলানী খাতুনকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং তাঁর মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ওই ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর তাঁর ছোট ভাই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে যোগ দিলেন।

কুচকাওয়াজ শেষে আরফান হোসেন সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৬-৭ বছর। বোনকে নির্মমভাবে হত্যার পর থেকেই তাঁর বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল, তিনি যেন দেশের জন্য কাজ করতে পারেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নিজেকে গড়ে তুলে বিজিবিতে যোগ দেন তিনি।

আরফান জানান, তাঁদের পরিবারে তিন ভাই ও দুই বোন। তিনি ২০২২ সালে স্থানীয় নাখারগঞ্জ হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। গত বছর বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তিনি আবেদন করেন। প্রাথমিক বাছাই শেষে টানা চার মাস কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আজ চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আরফান বলেন, সীমান্তে তাঁর বোনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তিনি চান না আর কোনো পরিবার এমন বেদনার মুখোমুখি হোক। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে চান।

তিনি বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন বিপন্ন হলেও তিনি চেষ্টা করবেন যেন আর কোনো মা-বাবাকে ফেলানীর মতো সন্তান হারাতে না হয়।