ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ট্রাফিকে কাজ করা শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ নেই, কার্যক্রম বন্ধ সংসদেই নির্ধারিত হবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ভবিষ্যৎ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্ষুব্ধ উপসাগরীয় মিত্ররা! ইরান যুদ্ধ: তেল নয়, পানি হতে পারে প্রধান অস্ত্র বিমানবন্দরে হারানো লাগেজ খুঁজে দেবে গুগল! কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত সাংবাদিক আনিস আলমগীর সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করলে রাজপথে নামবে ১১ দলীয় ঐক্য ঈদের আগেই শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের নির্দেশ: শ্রমমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া নিলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার ১৬টি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে, আরও তিনটি আসছে

বিজিবিতে ফেলানীর ভাইয়ের নিয়োগ জীবন দিয়ে সীমান্ত রক্ষা শপথ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 326

ছবি: সংগৃহীত

 

ওয়েব হেড:
বোনের রক্তের স্মৃতি বুকে নিয়ে বিজিবিতে আরফান, সীমান্ত রক্ষার শপথ

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) নিয়োগ পেয়েছেন ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই আরফান হোসেন। বুধবার বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন তিনি।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসিএন্ডসি) ঐতিহ্যবাহী বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে নবীন সৈনিকদের শপথগ্রহণ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই বিজিবির একজন সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করেন আরফান হোসেন।

আরও পড়ুন  নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন: বিজিবির দাবি, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা হোক

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ফেলানী খাতুনকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং তাঁর মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ওই ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর তাঁর ছোট ভাই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে যোগ দিলেন।

কুচকাওয়াজ শেষে আরফান হোসেন সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৬-৭ বছর। বোনকে নির্মমভাবে হত্যার পর থেকেই তাঁর বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল, তিনি যেন দেশের জন্য কাজ করতে পারেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নিজেকে গড়ে তুলে বিজিবিতে যোগ দেন তিনি।

আরফান জানান, তাঁদের পরিবারে তিন ভাই ও দুই বোন। তিনি ২০২২ সালে স্থানীয় নাখারগঞ্জ হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। গত বছর বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তিনি আবেদন করেন। প্রাথমিক বাছাই শেষে টানা চার মাস কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আজ চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আরফান বলেন, সীমান্তে তাঁর বোনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তিনি চান না আর কোনো পরিবার এমন বেদনার মুখোমুখি হোক। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে চান।

তিনি বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন বিপন্ন হলেও তিনি চেষ্টা করবেন যেন আর কোনো মা-বাবাকে ফেলানীর মতো সন্তান হারাতে না হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিজিবিতে ফেলানীর ভাইয়ের নিয়োগ জীবন দিয়ে সীমান্ত রক্ষা শপথ

আপডেট সময় ০৬:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

 

ওয়েব হেড:
বোনের রক্তের স্মৃতি বুকে নিয়ে বিজিবিতে আরফান, সীমান্ত রক্ষার শপথ

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) নিয়োগ পেয়েছেন ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই আরফান হোসেন। বুধবার বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন তিনি।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসিএন্ডসি) ঐতিহ্যবাহী বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে নবীন সৈনিকদের শপথগ্রহণ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই বিজিবির একজন সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করেন আরফান হোসেন।

আরও পড়ুন  ভারতের সঙ্গে অসম চুক্তিতে ছাড় নয়: বিজিবি মহাপরিচালক

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ফেলানী খাতুনকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং তাঁর মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ওই ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর তাঁর ছোট ভাই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে যোগ দিলেন।

কুচকাওয়াজ শেষে আরফান হোসেন সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৬-৭ বছর। বোনকে নির্মমভাবে হত্যার পর থেকেই তাঁর বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল, তিনি যেন দেশের জন্য কাজ করতে পারেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নিজেকে গড়ে তুলে বিজিবিতে যোগ দেন তিনি।

আরফান জানান, তাঁদের পরিবারে তিন ভাই ও দুই বোন। তিনি ২০২২ সালে স্থানীয় নাখারগঞ্জ হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। গত বছর বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তিনি আবেদন করেন। প্রাথমিক বাছাই শেষে টানা চার মাস কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আজ চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আরফান বলেন, সীমান্তে তাঁর বোনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তিনি চান না আর কোনো পরিবার এমন বেদনার মুখোমুখি হোক। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে চান।

তিনি বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন বিপন্ন হলেও তিনি চেষ্টা করবেন যেন আর কোনো মা-বাবাকে ফেলানীর মতো সন্তান হারাতে না হয়।