০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

রাবাত: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধুনিক মরক্কোর রাজধানী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:১৪:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 40

ছবি সংগৃহীত

 

উত্তর আফ্রিকার ঐতিহাসিক দেশ মরক্কোর রাজধানী রাবাত এমন একটি শহর, যেখানে আরব, বেরবার ও ইউরোপীয় সংস্কৃতির প্রভাব একসঙ্গে দৃশ্যমান। আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত এই শহরটি শুধু দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, বরং মরক্কোর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।

রাবাতের ইতিহাসের সূচনা দ্বাদশ শতকে, আলমোহাদ সাম্রাজ্যের শাসনামলে। এই সময়েই নির্মিত হয় শহরের অন্যতম প্রতীক হাসান টাওয়ার। যদিও মিনারটি অসম্পূর্ণ থেকে গেছে, তবু এটি মধ্যযুগীয় ইসলামী স্থাপত্যের গৌরবময় নিদর্শন হিসেবে আজও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
হাসান টাওয়ারের সন্নিকটে অবস্থিত মরক্কোর সাবেক রাজা মোহাম্মদ পঞ্চমের সমাধিসৌধ। আধুনিক মরক্কো রাষ্ট্র গঠনে তাঁর অবদান স্মরণে নির্মিত এই স্থাপনাটি জাতীয় মর্যাদা ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

বিজ্ঞাপন

রাবাতের আরেক ঐতিহাসিক এলাকা কাসবা অব দ্য উদাইয়া। আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত সাদা-নীল রঙে সাজানো এই প্রাচীন দুর্গনগরী আন্দালুসীয় স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য উদাহরণ। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই এলাকা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
শহরের পুরোনো অংশ রাবাত মদিনা মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী জীবনধারার প্রতিচ্ছবি। সরু গলি, স্থানীয় বাজার এবং কারুশিল্পের দোকানগুলো এখানকার সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরে। বিশেষ করে হস্তশিল্প, চামড়াজাত পণ্য ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

ইতিহাসের পাশাপাশি আধুনিকতার দিক থেকেও রাবাত একটি সুসংগঠিত নগরী। প্রশস্ত সড়ক, সবুজ উদ্যান, আধুনিক জাদুঘর ও সমসাময়িক স্থাপত্য শহরটিকে করে তুলেছে আরামদায়ক ও বাসযোগ্য। এ কারণেই রাবাতকে আফ্রিকার অন্যতম শান্ত ও পরিকল্পিত রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সব মিলিয়ে রাবাত এমন একটি শহর, যেখানে অতীতের ঐতিহ্য ও বর্তমানের আধুনিকতা পরস্পরের সঙ্গে শান্তভাবে সহাবস্থান করছে। মরক্কো ভ্রমণে রাবাত তাই শুধু একটি রাজধানী শহর নয়, বরং ইতিহাস ও সংস্কৃতির গভীর অভিজ্ঞতার এক অনন্য গন্তব্য।

রাবাত সম্পর্কে ভিডিও পেতে লিংকে ক্লিক করুন:  https://youtu.be/a0omDKp1roo  

নিউজটি শেয়ার করুন

রাবাত: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধুনিক মরক্কোর রাজধানী

আপডেট সময় ০৫:১৪:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

 

উত্তর আফ্রিকার ঐতিহাসিক দেশ মরক্কোর রাজধানী রাবাত এমন একটি শহর, যেখানে আরব, বেরবার ও ইউরোপীয় সংস্কৃতির প্রভাব একসঙ্গে দৃশ্যমান। আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত এই শহরটি শুধু দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, বরং মরক্কোর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।

রাবাতের ইতিহাসের সূচনা দ্বাদশ শতকে, আলমোহাদ সাম্রাজ্যের শাসনামলে। এই সময়েই নির্মিত হয় শহরের অন্যতম প্রতীক হাসান টাওয়ার। যদিও মিনারটি অসম্পূর্ণ থেকে গেছে, তবু এটি মধ্যযুগীয় ইসলামী স্থাপত্যের গৌরবময় নিদর্শন হিসেবে আজও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
হাসান টাওয়ারের সন্নিকটে অবস্থিত মরক্কোর সাবেক রাজা মোহাম্মদ পঞ্চমের সমাধিসৌধ। আধুনিক মরক্কো রাষ্ট্র গঠনে তাঁর অবদান স্মরণে নির্মিত এই স্থাপনাটি জাতীয় মর্যাদা ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

বিজ্ঞাপন

রাবাতের আরেক ঐতিহাসিক এলাকা কাসবা অব দ্য উদাইয়া। আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত সাদা-নীল রঙে সাজানো এই প্রাচীন দুর্গনগরী আন্দালুসীয় স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য উদাহরণ। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই এলাকা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
শহরের পুরোনো অংশ রাবাত মদিনা মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী জীবনধারার প্রতিচ্ছবি। সরু গলি, স্থানীয় বাজার এবং কারুশিল্পের দোকানগুলো এখানকার সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরে। বিশেষ করে হস্তশিল্প, চামড়াজাত পণ্য ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

ইতিহাসের পাশাপাশি আধুনিকতার দিক থেকেও রাবাত একটি সুসংগঠিত নগরী। প্রশস্ত সড়ক, সবুজ উদ্যান, আধুনিক জাদুঘর ও সমসাময়িক স্থাপত্য শহরটিকে করে তুলেছে আরামদায়ক ও বাসযোগ্য। এ কারণেই রাবাতকে আফ্রিকার অন্যতম শান্ত ও পরিকল্পিত রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সব মিলিয়ে রাবাত এমন একটি শহর, যেখানে অতীতের ঐতিহ্য ও বর্তমানের আধুনিকতা পরস্পরের সঙ্গে শান্তভাবে সহাবস্থান করছে। মরক্কো ভ্রমণে রাবাত তাই শুধু একটি রাজধানী শহর নয়, বরং ইতিহাস ও সংস্কৃতির গভীর অভিজ্ঞতার এক অনন্য গন্তব্য।

রাবাত সম্পর্কে ভিডিও পেতে লিংকে ক্লিক করুন:  https://youtu.be/a0omDKp1roo