০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেগম খালেদা জিয়া, কূটনীতি, মর্যাদা ও নেতৃত্বে অনন্য

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 69

ছবি: সংগৃহীত

 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া এক অনন্য নাম। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের পরিচয়, মর্যাদা ও কূটনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহুপাক্ষিক কূটনীতি, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সক্রিয় ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তার মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক মহল তার অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ:
শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্রের পরিচয় বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ শান্তি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নেয়। তাঁর সরকারের সময় শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়, যা বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ধীরে ধীরে শান্তিরক্ষায় অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের প্রতি আস্থা বাড়াতে সহায়ক হয়।

সার্ক ও আঞ্চলিক কূটনীতি:
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-এর কার্যক্রমে বেগম খালেদা জিয়া বিশেষ গুরুত্ব দেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর সরকার সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া ছিল তাঁর পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

মুসলিম বিশ্ব ও ওআইসি-তে সক্রিয় ভূমিকা:
অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) এবং মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বেগম খালেদা জিয়া সক্রিয় ছিলেন। ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটে তিনি বাংলাদেশের নৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরেন।
এর ফলে মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পায়।
উন্নত বিশ্ব ও উদীয়মান অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্ক
বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারিত হয়। উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং শ্রমবাজার সম্প্রসারণে তাঁর সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য ছিল।

বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য শ্রমবাজারে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়, যা রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার এবং জনগণের মতামতের গুরুত্বের কথা বিশ্বমঞ্চে বারবার উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক পরিসরে নারী নেতৃত্ব:
দক্ষিণ এশিয়ায় নারী নেতৃত্বের যে সীমাবদ্ধতা ছিল, সেখানে বেগম খালেদা জিয়া একজন প্রভাবশালী নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর উপস্থিতি বিশ্ববাসীর সামনে উন্নয়নশীল দেশের নারী নেতৃত্বের সক্ষমতা ও সম্ভাবনার একটি শক্ত উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার আন্তর্জাতিক ভূমিকা বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মতাদর্শগত বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে বলা যায়, মৃত্যু অবধি বেগম খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শান্তি ও উন্নয়নের প্রশ্নে তিনি বাংলাদেশের জন্য একটি সম্মানজনক ও দৃশ্যমান অবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেগম খালেদা জিয়া, কূটনীতি, মর্যাদা ও নেতৃত্বে অনন্য

আপডেট সময় ০৬:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া এক অনন্য নাম। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের পরিচয়, মর্যাদা ও কূটনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহুপাক্ষিক কূটনীতি, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সক্রিয় ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তার মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক মহল তার অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ:
শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্রের পরিচয় বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ শান্তি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নেয়। তাঁর সরকারের সময় শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়, যা বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ধীরে ধীরে শান্তিরক্ষায় অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের প্রতি আস্থা বাড়াতে সহায়ক হয়।

সার্ক ও আঞ্চলিক কূটনীতি:
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-এর কার্যক্রমে বেগম খালেদা জিয়া বিশেষ গুরুত্ব দেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর সরকার সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া ছিল তাঁর পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

মুসলিম বিশ্ব ও ওআইসি-তে সক্রিয় ভূমিকা:
অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) এবং মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বেগম খালেদা জিয়া সক্রিয় ছিলেন। ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটে তিনি বাংলাদেশের নৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরেন।
এর ফলে মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পায়।
উন্নত বিশ্ব ও উদীয়মান অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্ক
বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারিত হয়। উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং শ্রমবাজার সম্প্রসারণে তাঁর সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য ছিল।

বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য শ্রমবাজারে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়, যা রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার এবং জনগণের মতামতের গুরুত্বের কথা বিশ্বমঞ্চে বারবার উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক পরিসরে নারী নেতৃত্ব:
দক্ষিণ এশিয়ায় নারী নেতৃত্বের যে সীমাবদ্ধতা ছিল, সেখানে বেগম খালেদা জিয়া একজন প্রভাবশালী নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর উপস্থিতি বিশ্ববাসীর সামনে উন্নয়নশীল দেশের নারী নেতৃত্বের সক্ষমতা ও সম্ভাবনার একটি শক্ত উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার আন্তর্জাতিক ভূমিকা বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মতাদর্শগত বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে বলা যায়, মৃত্যু অবধি বেগম খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শান্তি ও উন্নয়নের প্রশ্নে তিনি বাংলাদেশের জন্য একটি সম্মানজনক ও দৃশ্যমান অবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হন।