আজ দেশে ফিরছেন তারেক রহমান: রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু
- আপডেট সময় ১০:১৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 86
বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সবকিছু ঠিক থাকলে বেলা পৌনে ১২টার দিকে তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এরই মধ্যে ঢাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্র জানিয়েছে, বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে বিজি-২০২ নম্বর ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানও দেশে ফিরছেন।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাঁকে স্বাগত জানাবেন। এরপর সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কুড়িলের ৩০০ ফুট এলাকায় দলের পক্ষ থেকে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। সেখান থেকে তিনি অসুস্থ মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। পরে গুলশানের বাসভবনে ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।
২০০৭ সালের জানুয়ারিতে এক-এগারোর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। প্রায় ১৮ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান তিনি। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে যান। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে কাটিয়ে আজ দেশে ফিরছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে দলীয়
নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। কুড়িল থেকে সংবর্ধনাস্থল পর্যন্ত সড়কজুড়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে সাজানো হয়েছে রাজধানী। সংবর্ধনা মঞ্চের দুই পাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মাইক স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার বিকেল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেন। বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাসে করে অনেকেই নিজ উদ্যোগে রাজধানীতে পৌঁছান। সংবর্ধনাস্থলের আশপাশে গভীর রাত থেকেই বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে পুলিশ ও বিএনপির চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
এদিকে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ৩০০ ফুটের আয়োজনটি কোনো জনসভা নয়। তিনি বলেন, সংবর্ধনায় তারেক রহমান ছাড়া অন্য কোনো বক্তা থাকবেন না। তিনি স্বল্প সময়ের জন্য উপস্থিত থেকে সেখান থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন।
জনসমাগমের কারণে সম্ভাব্য ভোগান্তির জন্য আগাম দুঃখ প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারেক রহমান এমন কোনো কর্মসূচিকে সমর্থন করেন না, যা জনদুর্ভোগের কারণ হয়। তবুও যদি সাময়িক অসুবিধা হয়, সে জন্য দলের পক্ষ থেকে আগাম ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে।
দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের পরবর্তী কর্মসূচির কথাও জানান তিনি। শুক্রবার বাদ জুমা তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন। শনিবার তিনি ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। একই দিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে পঙ্গু হাসপাতালে এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন।
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যাত্রী ছাড়া দর্শনার্থীদের টার্মিনালে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দুই হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, এপিবিএন, সিটিটিসি, সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
ডিএমপি আজ সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বিমানবন্দর থেকে কুড়িল হয়ে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।






















