ভোট ও গণভোট অগ্নিপরীক্ষায় ইসি
- আপডেট সময় ০৩:৩০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
- / 111
এখনও পর্যন্ত কোনো নির্বাচন সম্পূর্ণ না করা অনভিজ্ঞ নির্বাচন কমিশন (ইসি) সামনে ভোট ও গণভোটের মত অগ্নিপরীক্ষা। একই দিনে করতে হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট।
দেশের ইতিহাসে প্রথম বার হতে যাচ্ছে একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সেই গুরু দায়িত্ব এবার সামলাতে হবে অনভিজ্ঞ ইসিকেই। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতির প্রায় শেষ বলে ইসি অনেক আগেই জানিছিলেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নির্দেশনা দিবার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন নিয়ে বর্তমান কমিশন সঠিক সময়ে ভোট গ্রহণ শেষ করাও হবে বড় চ্যালেঞ্জ। পড়তে পারে উপকরণসহ (লজিস্টিকস) নানান চ্যালেঞ্জের মুখে।
কমিশনের সূত্র বলছে, বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং হলেও কঠিন নয়। সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। গণভোটের জন্য শুধু ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ অন্যান্য উপকরণের ব্যবস্থা করতে হবে। সময়মতো ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে দুই ভোট গ্রহণ শেষ করা যায় কি না, তা বোঝার জন্য ২৯ নভেম্বর মক (মহড়া) ভোটের আয়োজন করবে ইসি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের আশপাশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই মক ভোট করা হবে। মূল ভোটে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন, মক ভোটেও তাঁদের রাখা হবে। নারী-পুরুষের জন্য আলাদা বুথ থাকবে। বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভোটকক্ষে কী ধরনের ব্যবস্থা রাখতে হবে, তাও মক ভোটে পরীক্ষা করা হবে। নির্বাচন কমিশনাররা সেখানে গিয়ে ভোট গ্রহণ, ভোট দিতে কত সময় লাগছে, দুটি ভোট দিতে কোনো জটিলতা হচ্ছে কি না, এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করবেন।
তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নিজেও সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট নেওয়াকে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে দেখছেন। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট করার ঘোষণার পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়ে বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে পূর্ববর্তী কোনো নির্বাচন কমিশনকে পড়তে হয়নি। এতটা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়নি, যা বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের দাবি বাস্তবায়নে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোট প্রদানের ব্যবস্থা করছে ইসি। ইসি আগামী মাসের (ডিসেম্বর) প্রথমার্ধে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে ১৩ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার এক সপ্তাহ পর গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ চিঠি দিয়ে ইসিকে গণভোট আয়োজনের সরকারের নির্দেশনার বিষয়টি জানায়।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট করতে এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসি দায়িত্ব নেয়।
সূত্র জানায়, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট যেহেতু ইসির প্রথম ও প্রধান কাজ তাই সেটি বাস্তবায়নে ইসিকে অতিরিক্ত ব্যালট বাক্সেরও ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমানে ইসির সংগ্রহে ৩ লাখ ৪০ হাজারের মতো ব্যালট বাক্স রয়েছে। সংসদ নির্বাচনে সাধারণত ২ লাখ ৮৮ হাজারের মতো ব্যালট বাক্স লাগে। সে হিসেবে ৫০ হাজারের বেশি ব্যালট বাক্স অতিরিক্ত আছে। বুথ ৪০ থেকে ৪২ হাজার বাড়ালেও প্রভাব পড়বে না। একটি ব্যালট বাক্সে ১ হাজার ৫শত এর মতো ব্যালট পেপার রাখা যায়। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট হবে আগের মতোই সাদা-কালো। গণভোটের জন্য সবুজ বা গোলাপি রঙের ব্যালট ছাপানোর চিন্তা করা হচ্ছে। তবে বিধিমালা ঠিক হলে এটি চূড়ান্ত করবে কমিশন। গতকাল সোমবার ডাক বিভাগের সঙ্গে পোস্টাল ভোট নিয়ে বৈঠক করেছে ইসি। একই সিরিয়াল নম্বরের সংসদ ও গণভোটের ব্যালট পেপার যেন একসঙ্গে থাকে ডাক বিভাগকে সেই নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।
সূত্র জানায়, প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের প্রাপক জেলা প্রশাসককে করা হবে না। যিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকবেন তাঁর দপ্তরে এই ব্যালট আসবে। যেসব জেলায় বেশি সংসদীয় আসন রয়েছে, সেখানে একাধিক রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের চিন্তা করছে কমিশন।
তফসিল ঘোষণার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর প্রধানদের সঙ্গে ২৭ নভেম্বর এবং ৩০ নভেম্বর সচিব ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে ইসি। ওই বৈঠকে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল তৈরিসহ সার্বিক বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেবে ইসি।


























