০৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
সাংবাদিকতার স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বনির্ভরতা জরুরি: শফিক রেহমান হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চরমোনাইয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে জামায়াত জোট আইসিসি ভারতীয় কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ, ভারতীয় মিডিয়ার দাবি একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ খুঁজছে: সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে : তারেক রহমান আচরণবিধি লঙ্ঘন: অপসাংবাদিকতার শিকার বললেন মামুনুল হক পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে ইসি গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে তারেক রহমান জাতিসংঘের এলডিসি উত্তরণবিষয়ক প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত

জুলাই হত্যা মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 175

ছবি সংগৃহীত

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এ রায় দেন। প্যানেলের অন্য দুই বিচারপতি হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার জন্য ১৭ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। তাদের মধ্যে মামুন পরে রাজসাক্ষী হয়ে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠনের পর প্রথম মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, যা বিচারকাজ শুরু হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। সেদিনই তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

চলতি বছরের ১৬ মার্চ প্রসিকিউশনের আবেদনের পর সাবেক আইজিপি মামুনকে আসামির তালিকায় যুক্ত করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে ১২ মে এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয় ১ জুন।

পাঁচটি অভিযোগ

শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মোট পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়। সেগুলো হলো—

1. গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান

2. হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের দমন ও নির্মূলের নির্দেশ

3. রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ

4. রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ

5. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ

 

গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল এসব পাঁচটি অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শেখ হাসিনার নির্দেশে দেড় হাজারের বেশি নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে হত্যার জন্য মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল এবং আহত হয় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

আসামিদের অবস্থান

মামলার তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামাল বর্তমানে ভারতের আশ্রয়ে পলাতক রয়েছেন। একমাত্র গ্রেফতার আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক

মোট ৫৪ জন সাক্ষী, যার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও রয়েছেন, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ৮ অক্টোবর। এরপর ১২ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার জন্য ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

আপিলের সুযোগ নেই পলাতক আসামিদের

প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার জানান, ট্রাইব্যুনাল আইনে পরিষ্কার বলা আছে—রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হলে আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে হবে বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার থাকতে হবে। পলাতক অবস্থায় আপিল করার কোনো সুযোগ নেই।

আদালত অবমাননার মামলাও ছিল

এ বছরের শুরুতে শেখ হাসিনার একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়— “২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি।” এ বক্তব্য বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে আদালত অবমাননার মামলা হয়।
ওই মামলায় গত ২ জুলাই তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-১।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই হত্যা মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৬:০০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এ রায় দেন। প্যানেলের অন্য দুই বিচারপতি হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার জন্য ১৭ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। তাদের মধ্যে মামুন পরে রাজসাক্ষী হয়ে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠনের পর প্রথম মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, যা বিচারকাজ শুরু হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। সেদিনই তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

চলতি বছরের ১৬ মার্চ প্রসিকিউশনের আবেদনের পর সাবেক আইজিপি মামুনকে আসামির তালিকায় যুক্ত করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে ১২ মে এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয় ১ জুন।

পাঁচটি অভিযোগ

শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মোট পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়। সেগুলো হলো—

1. গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান

2. হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের দমন ও নির্মূলের নির্দেশ

3. রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ

4. রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ

5. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ

 

গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল এসব পাঁচটি অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শেখ হাসিনার নির্দেশে দেড় হাজারের বেশি নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে হত্যার জন্য মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল এবং আহত হয় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

আসামিদের অবস্থান

মামলার তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামাল বর্তমানে ভারতের আশ্রয়ে পলাতক রয়েছেন। একমাত্র গ্রেফতার আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক

মোট ৫৪ জন সাক্ষী, যার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও রয়েছেন, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ৮ অক্টোবর। এরপর ১২ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার জন্য ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

আপিলের সুযোগ নেই পলাতক আসামিদের

প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার জানান, ট্রাইব্যুনাল আইনে পরিষ্কার বলা আছে—রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হলে আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে হবে বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার থাকতে হবে। পলাতক অবস্থায় আপিল করার কোনো সুযোগ নেই।

আদালত অবমাননার মামলাও ছিল

এ বছরের শুরুতে শেখ হাসিনার একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়— “২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি।” এ বক্তব্য বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে আদালত অবমাননার মামলা হয়।
ওই মামলায় গত ২ জুলাই তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-১।