০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
গাজা প্রশাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন বেসামরিক কমিটি গঠন গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন বিবেচনা করছে জার্মানি চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির উপর শুল্ক কমালো কানাডা খালে পড়ে ট্রাক, পাকিস্তানে একই পরিবারের ১৪ জনের মৃত্যু সিলেটে তিন বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১০ ঢাকায় আংশিক মেঘলা ও কুয়াশার সম্ভাবনা অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে আজ ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ ঢাকায় সকাল কুয়াশা, দিনের বেলা শুষ্ক আবহাওয়ার পূর্বাভাস নওগাঁয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে টানাপোড়েন: ১০ নেতাকর্মীর একযোগে পদত্যাগ তেল নিয়ে টাকা না দিয়ে ‘পালানোর সময়’ গাড়িচাপায় যুবক নিহত

জামালপুরে নগর মাতৃসদনে ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যু, আটক ২ নার্স

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
  • / 116

ছবি সংগৃহীত

 

জামালপুর শহরের ফুলবাড়িয়া এলাকায় পৌরসভার আওতাধীন নগর মাতৃসদন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বেলটিয়া এলাকার মো. সোহেল মিয়ার স্ত্রী নরিন জান্নাত (২১) প্রসব ব্যথা নিয়ে নগর মাতৃসদন হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না, ফলে দায়িত্বে থাকা নার্সরাই প্রসবের চেষ্টা চালান।

বিজ্ঞাপন

নরিনের অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে এক নার্স মেসেঞ্জারে অজ্ঞাত এক চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে রিপোর্ট পাঠান। পরে সিজার ছাড়াই টানাহেঁচড়া করে সন্তান প্রসব করানোর চেষ্টা করা হয়। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর মৃত নবজাতক ভূমিষ্ঠ হয়।

নরিনের স্বামী সোহেল আনসারী জানান, ‘আমি বারবার ডাক্তার আনতে বলেছি, কিন্তু কেউ আসেনি। নার্স আর এক বয় মিলে প্রসব করাতে গিয়ে আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। আমার স্ত্রীও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তিন ঘণ্টা পর তাকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

শনিবার ভোর ৮টার দিকে নবজাতকের স্বজন এবং স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা হাসপাতালের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নার্স শিরিনসহ দুইজনকে হেফাজতে নেয়।

নগর মাতৃসদন হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট রহিমা বেগম জানান, ঘটনার সময় কোনো ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন না। নার্সদের চেষ্টাতেই প্রসব সম্পন্ন হয়, এবং নবজাতক মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়।

এদিকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রোগীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। তবে হাসপাতালে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প ব্যবস্থাপক মফিজ উদ্দিন শেখের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুল হক বলেন, ‘হাসপাতালটি পৌরসভার প্রকল্পভিত্তিক। আমরা পৌরসভার প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শন করেছি। নবজাতকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রসূতির চিকিৎসা চলছে। প্রাথমিকভাবে দুজনকে আটক করা হয়েছে, তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ঘটনায় এলাকায় চরম শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

জামালপুরে নগর মাতৃসদনে ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যু, আটক ২ নার্স

আপডেট সময় ০৭:১৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫

 

জামালপুর শহরের ফুলবাড়িয়া এলাকায় পৌরসভার আওতাধীন নগর মাতৃসদন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বেলটিয়া এলাকার মো. সোহেল মিয়ার স্ত্রী নরিন জান্নাত (২১) প্রসব ব্যথা নিয়ে নগর মাতৃসদন হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না, ফলে দায়িত্বে থাকা নার্সরাই প্রসবের চেষ্টা চালান।

বিজ্ঞাপন

নরিনের অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে এক নার্স মেসেঞ্জারে অজ্ঞাত এক চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে রিপোর্ট পাঠান। পরে সিজার ছাড়াই টানাহেঁচড়া করে সন্তান প্রসব করানোর চেষ্টা করা হয়। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর মৃত নবজাতক ভূমিষ্ঠ হয়।

নরিনের স্বামী সোহেল আনসারী জানান, ‘আমি বারবার ডাক্তার আনতে বলেছি, কিন্তু কেউ আসেনি। নার্স আর এক বয় মিলে প্রসব করাতে গিয়ে আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। আমার স্ত্রীও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তিন ঘণ্টা পর তাকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

শনিবার ভোর ৮টার দিকে নবজাতকের স্বজন এবং স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা হাসপাতালের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নার্স শিরিনসহ দুইজনকে হেফাজতে নেয়।

নগর মাতৃসদন হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট রহিমা বেগম জানান, ঘটনার সময় কোনো ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন না। নার্সদের চেষ্টাতেই প্রসব সম্পন্ন হয়, এবং নবজাতক মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়।

এদিকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রোগীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। তবে হাসপাতালে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প ব্যবস্থাপক মফিজ উদ্দিন শেখের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুল হক বলেন, ‘হাসপাতালটি পৌরসভার প্রকল্পভিত্তিক। আমরা পৌরসভার প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শন করেছি। নবজাতকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রসূতির চিকিৎসা চলছে। প্রাথমিকভাবে দুজনকে আটক করা হয়েছে, তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ঘটনায় এলাকায় চরম শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।