১২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
চরমোনাইয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে জামায়াত জোট আইসিসি ভারতীয় কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ, ভারতীয় মিডিয়ার দাবি একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ খুঁজছে: সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে : তারেক রহমান আচরণবিধি লঙ্ঘন: অপসাংবাদিকতার শিকার বললেন মামুনুল হক পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে ইসি গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে তারেক রহমান জাতিসংঘের এলডিসি উত্তরণবিষয়ক প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রথম স্বয়ংক্রিয় হেলিকপ্টারের সফল প্রথম উড্ডয়ন ৬ কোটি টন ধ্বংসস্তূপের নিচে গা*জা, অপসারণে লাগবে কমপক্ষে সাত বছর

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এখন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নয়: মার্কিন রাষ্ট্রদূত হাকাবি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
  • / 85

ছবি: সংগৃহীত

 

ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে এখন আর কাজ করছে না যুক্তরাষ্ট্র এমন মন্তব্য করেছেন ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি।

মঙ্গলবার (১০ জুন) ব্লুমবার্গে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য কি না? জবাবে হাকাবি বলেন, “আমি তা মনে করি না।”

বিজ্ঞাপন

হাকাবির এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত কিনা জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি এটুকু জানান, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক নীতি নির্ধারণে সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউস।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও সরাসরি প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে ট্রাম্পের পূর্বের গাজা সংক্রান্ত প্রস্তাবের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। বছরের শুরুতে ট্রাম্প গাজা দখলের যে পরিকল্পনা উত্থাপন করেছিলেন, তা বিশ্বজুড়ে আরব দেশগুলো প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়ে।

কট্টর ইহুদিবাদী হিসেবে পরিচিত হাকাবি বরাবরই ‘গ্রেটার ইসরাইল’ ধারণার প্রবল সমর্থক। তিনি চান, দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের স্থায়ী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে কি না জানতে চাইলে হাকাবি বলেন, “আমি বলছি না, এটা কখনোই হবে না। কিন্তু সংস্কৃতিগত দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন না হলে তা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “সম্ভবত আমাদের জীবদ্দশায় এসব বাস্তবায়িত হবে না।”

ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও দ্বিরাষ্ট্র সমাধান নিয়ে অনীহা প্রকাশ করেছে, যদিও এটিই ছিল বহু দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির মূল ভিত্তি।

হাকাবি বলেন, “যদি কোনোদিন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা হয়ও, সেটি যেন ইসরাইলের কোনো ভূখণ্ডের ওপর না হয়।” এমনকি তিনি একধাপ এগিয়ে প্রস্তাব দেন“ একটি মুসলিম দেশের কিছু অংশ নিয়ে সেখানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে।”

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে হাকাবি বলেন, “মুসলিম দেশগুলোর মোট ভূমির পরিমাণ ইসরাইলের চেয়ে ৬৪৪ গুণ বেশি। সত্যিকারের যদি আগ্রহ থাকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে, তাহলে কেউ না কেউ হয়তো জায়গা দিতে রাজি হবে।”

এই মন্তব্য ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এখন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নয়: মার্কিন রাষ্ট্রদূত হাকাবি

আপডেট সময় ০৪:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫

 

ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে এখন আর কাজ করছে না যুক্তরাষ্ট্র এমন মন্তব্য করেছেন ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি।

মঙ্গলবার (১০ জুন) ব্লুমবার্গে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য কি না? জবাবে হাকাবি বলেন, “আমি তা মনে করি না।”

বিজ্ঞাপন

হাকাবির এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত কিনা জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি এটুকু জানান, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক নীতি নির্ধারণে সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউস।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও সরাসরি প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে ট্রাম্পের পূর্বের গাজা সংক্রান্ত প্রস্তাবের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। বছরের শুরুতে ট্রাম্প গাজা দখলের যে পরিকল্পনা উত্থাপন করেছিলেন, তা বিশ্বজুড়ে আরব দেশগুলো প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়ে।

কট্টর ইহুদিবাদী হিসেবে পরিচিত হাকাবি বরাবরই ‘গ্রেটার ইসরাইল’ ধারণার প্রবল সমর্থক। তিনি চান, দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের স্থায়ী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে কি না জানতে চাইলে হাকাবি বলেন, “আমি বলছি না, এটা কখনোই হবে না। কিন্তু সংস্কৃতিগত দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন না হলে তা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “সম্ভবত আমাদের জীবদ্দশায় এসব বাস্তবায়িত হবে না।”

ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও দ্বিরাষ্ট্র সমাধান নিয়ে অনীহা প্রকাশ করেছে, যদিও এটিই ছিল বহু দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির মূল ভিত্তি।

হাকাবি বলেন, “যদি কোনোদিন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা হয়ও, সেটি যেন ইসরাইলের কোনো ভূখণ্ডের ওপর না হয়।” এমনকি তিনি একধাপ এগিয়ে প্রস্তাব দেন“ একটি মুসলিম দেশের কিছু অংশ নিয়ে সেখানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে।”

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে হাকাবি বলেন, “মুসলিম দেশগুলোর মোট ভূমির পরিমাণ ইসরাইলের চেয়ে ৬৪৪ গুণ বেশি। সত্যিকারের যদি আগ্রহ থাকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে, তাহলে কেউ না কেউ হয়তো জায়গা দিতে রাজি হবে।”

এই মন্তব্য ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।