ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র গরমে উল্টো চিত্র, জুনের সকালবেলা ঘন কুয়াশায় ঢাকা শহর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
  • / 646

ছবি: সংগৃহীত

 

দেশজুড়ে যখন খরতাপের দাপট, তখন এক ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিক দৃশ্যের সাক্ষী হলো উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও। জুনের মাঝামাঝি সময়ে যেখানে সাধারণত বর্ষার জলে ভিজে চারপাশ, সেখানে বুধবার (১১ জুন) সকালে জেলা শহরসহ আশপাশের এলাকায় নামে ঘন কুয়াশা। আষাঢ়ের সকালে এমন কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে বিস্মিত স্থানীয়রা কেউ কেউ চোখকে বিশ্বাসই করতে পারেননি।

গত কয়েকদিন ধরেই ঠাকুরগাঁওয়ে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এই প্রখর রোদের মাঝে বুধবার সকালটা শুরু হয় ঠান্ডা ও কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে। কিন্তু এই স্বস্তি ছিল ক্ষণিকের। সকাল পেরিয়ে রোদের তীব্রতা ফিরে আসতেই গরম আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন  আজ উত্তরবঙ্গের কোন ৩ জেলায় যাচ্ছেন তারেক রহমান

সালান্দর এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম জানান, ‘সকালে জানালা খুলে দেখি চারদিক শুধু সাদা কুয়াশায় ঢাকা। জুন মাসে এমনটা আগে কখনো দেখিনি।’ বেগুনবাড়ি গ্রামের প্রবীণ কৃষক আব্দুল করিম শেখ বলেন, ‘সত্তর বছরে এই প্রথম জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে কুয়াশা দেখলাম। আগে এই সময় বৃষ্টি হতো, এখন বৃষ্টির নামগন্ধ নেই। ধানের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে, পাটগাছ বাড়ছে না বড় চিন্তায় আছি।’

গৃহবধূ আমেনা বেগম বলেন, ‘রাতে ঠান্ডা লেগে কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হয়েছে। সকালে উঠেই দেখি উঠানে কুয়াশা। ছেলেমেয়েরা তো অবাক! কিন্তু বেলা বাড়তেই রোদের উত্তাপে ঘর থেকে বের হওয়া যায় না।’ কৃষক রমজান আলী জানিয়েছেন, ‘কুয়াশা দেখে প্রথমে ভয়ই পেয়েছিলাম। ফসলের কী হবে, পোকামাকড় বাড়বে কিনা এই চিন্তা। পরে দুপুরে গরমে সবজি খেত শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।’

আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালিপনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক ও সাধারণ মানুষ। এই আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, জ্বর ও হিটস্ট্রোকের রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক রকিবুল আলম চয়ন বলেন, ‘দিনে প্রচণ্ড গরম ও রাতে ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে শিশু ও বয়স্কদের ফুসফুসের সংক্রমণসহ নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। সবাইকে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।’

আবহাওয়াবিদদের মতে, আষাঢ়ে এমন কুয়াশা জলবায়ু পরিবর্তনের অশনিসংকেত। ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. আলমগীর কবির বলেন, ‘এটি “রেডিয়েশন ফগ” বা বিকিরণ কুয়াশার উদাহরণ। এই কুয়াশা মূলত গরমের ফলে বাতাসে জলীয় বাষ্প বেড়ে যাওয়া এবং রাতের তাপ দ্রুত হ্রাস পাওয়ার কারণে হয়েছে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।’

এমন প্রাকৃতিক অস্বাভাবিকতা শুধু বিস্ময় নয়, বরং জনজীবন ও কৃষির জন্য এক অশনি সংকেতও বয়ে আনছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র গরমে উল্টো চিত্র, জুনের সকালবেলা ঘন কুয়াশায় ঢাকা শহর

আপডেট সময় ১২:২৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫

 

দেশজুড়ে যখন খরতাপের দাপট, তখন এক ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিক দৃশ্যের সাক্ষী হলো উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও। জুনের মাঝামাঝি সময়ে যেখানে সাধারণত বর্ষার জলে ভিজে চারপাশ, সেখানে বুধবার (১১ জুন) সকালে জেলা শহরসহ আশপাশের এলাকায় নামে ঘন কুয়াশা। আষাঢ়ের সকালে এমন কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে বিস্মিত স্থানীয়রা কেউ কেউ চোখকে বিশ্বাসই করতে পারেননি।

গত কয়েকদিন ধরেই ঠাকুরগাঁওয়ে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এই প্রখর রোদের মাঝে বুধবার সকালটা শুরু হয় ঠান্ডা ও কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে। কিন্তু এই স্বস্তি ছিল ক্ষণিকের। সকাল পেরিয়ে রোদের তীব্রতা ফিরে আসতেই গরম আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন  ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে ২৩ নারী-পুরুষ ও শিশুকে পুশইন করলো বিএসএফ

সালান্দর এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম জানান, ‘সকালে জানালা খুলে দেখি চারদিক শুধু সাদা কুয়াশায় ঢাকা। জুন মাসে এমনটা আগে কখনো দেখিনি।’ বেগুনবাড়ি গ্রামের প্রবীণ কৃষক আব্দুল করিম শেখ বলেন, ‘সত্তর বছরে এই প্রথম জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে কুয়াশা দেখলাম। আগে এই সময় বৃষ্টি হতো, এখন বৃষ্টির নামগন্ধ নেই। ধানের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে, পাটগাছ বাড়ছে না বড় চিন্তায় আছি।’

গৃহবধূ আমেনা বেগম বলেন, ‘রাতে ঠান্ডা লেগে কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হয়েছে। সকালে উঠেই দেখি উঠানে কুয়াশা। ছেলেমেয়েরা তো অবাক! কিন্তু বেলা বাড়তেই রোদের উত্তাপে ঘর থেকে বের হওয়া যায় না।’ কৃষক রমজান আলী জানিয়েছেন, ‘কুয়াশা দেখে প্রথমে ভয়ই পেয়েছিলাম। ফসলের কী হবে, পোকামাকড় বাড়বে কিনা এই চিন্তা। পরে দুপুরে গরমে সবজি খেত শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।’

আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালিপনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক ও সাধারণ মানুষ। এই আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, জ্বর ও হিটস্ট্রোকের রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক রকিবুল আলম চয়ন বলেন, ‘দিনে প্রচণ্ড গরম ও রাতে ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে শিশু ও বয়স্কদের ফুসফুসের সংক্রমণসহ নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। সবাইকে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।’

আবহাওয়াবিদদের মতে, আষাঢ়ে এমন কুয়াশা জলবায়ু পরিবর্তনের অশনিসংকেত। ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. আলমগীর কবির বলেন, ‘এটি “রেডিয়েশন ফগ” বা বিকিরণ কুয়াশার উদাহরণ। এই কুয়াশা মূলত গরমের ফলে বাতাসে জলীয় বাষ্প বেড়ে যাওয়া এবং রাতের তাপ দ্রুত হ্রাস পাওয়ার কারণে হয়েছে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।’

এমন প্রাকৃতিক অস্বাভাবিকতা শুধু বিস্ময় নয়, বরং জনজীবন ও কৃষির জন্য এক অশনি সংকেতও বয়ে আনছে।