ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

আসামে একদিনে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত, ভাঙল ১৩২ বছরের পুরনো রেকর্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
  • / 137

ছবি সংগৃহীত

 

ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচরে জুন মাসের প্রথম দিনেই একদিনে ৪১৫.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। গত রবিবারের এ বৃষ্টিপাত ১৩২ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ১৮৯৩ সালে শহরটিতে একদিনে সর্বোচ্চ ২৯০.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এবারের বৃষ্টিপাত সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। খবর এনডিটিভি।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, উচ্চ বায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণি প্রবাহ এবং নিম্নস্তরের একটি ট্রফের সংমিশ্রণের কারণে এই অতিবর্ষণ হয়েছে। উত্তর প্রদেশ থেকে বিস্তৃত একটি আবহাওয়াজনিত ট্রফ বর্তমানে আসামের মধ্যাঞ্চল থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চলে বৈরি আবহাওয়া দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন  ২০৫ জন ভারতীয় অবৈধ অভিবাসীকে টেক্সাস থেকে ভারতে ফেরত পাঠালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

শিলচর শহরটি অতীতেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। ২০২২ সালে বরাক নদীর বেথকুণ্ডি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর শহরটির প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে গিয়েছিল। এবারের অতিবৃষ্টির ফলে স্থানীয়রা আবারও দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য আসাম, মেঘালয়, মণিপুর, ত্রিপুরা, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ এবং মিজোরামে টানা তিন দিন ধরে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এই প্রবল বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধস দেখা দিয়েছে এবং নিম্নাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা। এখন পর্যন্ত এসব রাজ্যে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

প্রবল বর্ষণের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস থেকে আরও কয়েকদিন ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারি সংস্থাগুলো সকলকে সতর্ক থাকতে বলেছে এবং পাহাড়ি ও নদীসংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব ভারতের এই মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রতিবছরই বিভিন্ন রকম দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আসামে একদিনে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত, ভাঙল ১৩২ বছরের পুরনো রেকর্ড

আপডেট সময় ১১:১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫

 

ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচরে জুন মাসের প্রথম দিনেই একদিনে ৪১৫.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। গত রবিবারের এ বৃষ্টিপাত ১৩২ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ১৮৯৩ সালে শহরটিতে একদিনে সর্বোচ্চ ২৯০.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এবারের বৃষ্টিপাত সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। খবর এনডিটিভি।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, উচ্চ বায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণি প্রবাহ এবং নিম্নস্তরের একটি ট্রফের সংমিশ্রণের কারণে এই অতিবর্ষণ হয়েছে। উত্তর প্রদেশ থেকে বিস্তৃত একটি আবহাওয়াজনিত ট্রফ বর্তমানে আসামের মধ্যাঞ্চল থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চলে বৈরি আবহাওয়া দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন  কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা, আহত ৪: ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা তুঙ্গে

শিলচর শহরটি অতীতেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। ২০২২ সালে বরাক নদীর বেথকুণ্ডি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর শহরটির প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে গিয়েছিল। এবারের অতিবৃষ্টির ফলে স্থানীয়রা আবারও দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য আসাম, মেঘালয়, মণিপুর, ত্রিপুরা, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ এবং মিজোরামে টানা তিন দিন ধরে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এই প্রবল বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধস দেখা দিয়েছে এবং নিম্নাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা। এখন পর্যন্ত এসব রাজ্যে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

প্রবল বর্ষণের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস থেকে আরও কয়েকদিন ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারি সংস্থাগুলো সকলকে সতর্ক থাকতে বলেছে এবং পাহাড়ি ও নদীসংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব ভারতের এই মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রতিবছরই বিভিন্ন রকম দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।