ঢাকা ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ আবিষ্কার: খুঁজে পাওয়া গেল লুকানো প্লাজমা কাঠামো

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
  • / 462

ছবি সংগৃহীত

 

মহাকাশ বিজ্ঞানের জগতে প্লাজমা একটি পরিচিত নাম। এটি পদার্থের একটি বিশেষ অবস্থা, যেখানে পরমাণুর ইলেকট্রন বিচ্ছিন্ন হয়ে আয়নিত গ্যাসে রূপান্তরিত হয়। অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতার কারণে এই প্লাজমা মহাবিশ্বের নানান অংশে, বিশেষ করে তারকাপুঞ্জ ও নীহারিকায়, সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপের সাহায্যে এক নতুন ও রহস্যময় প্লাজমা কাঠামোর সন্ধান পেয়েছেন, যা এতদিন পৃথিবীর কাছেই লুকানো ছিল।

‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ নামক আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নতুন প্লাজমা স্তরটি একটি দ্রুতগতিতে ঘূর্ণায়মান পালসার তারার আশেপাশে অবস্থিত। বিজ্ঞানীদের মতে, পালসারটির নাম J0437-4715, এবং এটি পৃথিবী থেকে মাত্র ৫১২ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে। পালসার হলো একধরনের নিউট্রন তারা, যা মহাকাশের সবচেয়ে ঘন ও রহস্যময় বস্তুর মধ্যে অন্যতম। এই পালসার একটি তীব্র রেডিও তরঙ্গ ও কণা প্রবাহ সৃষ্টি করে, যা তার চারপাশের আন্তনাক্ষত্রিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে ছুটে চলে। এর ফলে তৈরি হয় উত্তপ্ত গ্যাসের এক প্রকার শক তরঙ্গ, যা মহাশূন্যে প্লাজমার এক অশান্ত অবস্থা সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুন  উদ্ভিদের গোপন শব্দে সাড়া দেয় পতঙ্গ ও প্রাণীরা: গবেষণায় উদ্ভিদের ভাষার রহস্য উদঘাটন

এই প্লাজমার মধ্যে তরঙ্গের বিক্ষিপ্ততা একটি বিশেষ নকশা গঠন করে, যার ফলে দূর থেকে পালসারটিকে মিটমিটে তারা হিসেবে দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা এই প্লাজমা স্তর বিশ্লেষণের জন্য বর্তমানে সিন্টিলেশন আর্ক নামক এক ধরণের ইন্টারফেরেন্স প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করছেন। এই পদ্ধতিকে অনেকটা মহাকাশের বস্তুসমূহের সিটি স্ক্যানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এই প্রযুক্তির সাহায্যে পালসারের তরঙ্গ কীভাবে গঠিত ও ছড়িয়ে পড়ছে তা আরও গভীরভাবে অনুধাবন করার চেষ্টা চলছে।

এটি শুধু একটি নতুন আবিষ্কার নয়, বরং মহাবিশ্বের গঠন ও তারকার আশেপাশের জটিল কাঠামো বোঝার পথে একটি বড় অগ্রগতি। বিজ্ঞানীরা আশাবাদী, এই গবেষণার মাধ্যমে মহাকাশে থাকা অজানা অনেক তথ্য সামনে আসবে, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ আবিষ্কার: খুঁজে পাওয়া গেল লুকানো প্লাজমা কাঠামো

আপডেট সময় ০৬:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫

 

মহাকাশ বিজ্ঞানের জগতে প্লাজমা একটি পরিচিত নাম। এটি পদার্থের একটি বিশেষ অবস্থা, যেখানে পরমাণুর ইলেকট্রন বিচ্ছিন্ন হয়ে আয়নিত গ্যাসে রূপান্তরিত হয়। অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতার কারণে এই প্লাজমা মহাবিশ্বের নানান অংশে, বিশেষ করে তারকাপুঞ্জ ও নীহারিকায়, সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপের সাহায্যে এক নতুন ও রহস্যময় প্লাজমা কাঠামোর সন্ধান পেয়েছেন, যা এতদিন পৃথিবীর কাছেই লুকানো ছিল।

‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ নামক আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নতুন প্লাজমা স্তরটি একটি দ্রুতগতিতে ঘূর্ণায়মান পালসার তারার আশেপাশে অবস্থিত। বিজ্ঞানীদের মতে, পালসারটির নাম J0437-4715, এবং এটি পৃথিবী থেকে মাত্র ৫১২ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে। পালসার হলো একধরনের নিউট্রন তারা, যা মহাকাশের সবচেয়ে ঘন ও রহস্যময় বস্তুর মধ্যে অন্যতম। এই পালসার একটি তীব্র রেডিও তরঙ্গ ও কণা প্রবাহ সৃষ্টি করে, যা তার চারপাশের আন্তনাক্ষত্রিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে ছুটে চলে। এর ফলে তৈরি হয় উত্তপ্ত গ্যাসের এক প্রকার শক তরঙ্গ, যা মহাশূন্যে প্লাজমার এক অশান্ত অবস্থা সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুন  প্রথম উড্ডয়ন সম্পন্ন করল নাসার নীরব সুপারসনিক জেট X-59

এই প্লাজমার মধ্যে তরঙ্গের বিক্ষিপ্ততা একটি বিশেষ নকশা গঠন করে, যার ফলে দূর থেকে পালসারটিকে মিটমিটে তারা হিসেবে দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা এই প্লাজমা স্তর বিশ্লেষণের জন্য বর্তমানে সিন্টিলেশন আর্ক নামক এক ধরণের ইন্টারফেরেন্স প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করছেন। এই পদ্ধতিকে অনেকটা মহাকাশের বস্তুসমূহের সিটি স্ক্যানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এই প্রযুক্তির সাহায্যে পালসারের তরঙ্গ কীভাবে গঠিত ও ছড়িয়ে পড়ছে তা আরও গভীরভাবে অনুধাবন করার চেষ্টা চলছে।

এটি শুধু একটি নতুন আবিষ্কার নয়, বরং মহাবিশ্বের গঠন ও তারকার আশেপাশের জটিল কাঠামো বোঝার পথে একটি বড় অগ্রগতি। বিজ্ঞানীরা আশাবাদী, এই গবেষণার মাধ্যমে মহাকাশে থাকা অজানা অনেক তথ্য সামনে আসবে, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

সূত্র: এনডিটিভি