ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

ইউরোপের কারাগারে বন্দী ভিড়: ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত বন্দী সংকট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫
  • / 265

ছবি সংগৃহীত

 

ইউরোপের অনেক দেশের কারাগারে বর্তমানে এমন অবস্থা বিরাজ করছে যে, সেখানে ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি বন্দী রাখা হচ্ছে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, কিছু দেশে এই সংখ্যা চরম মাত্রায় পৌঁছেছে, যা মানবাধিকার ও কারা ব্যবস্থার ওপর গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, যেসব দেশে প্রতি ১০০ জন ধারণক্ষমতার স্থানে ১০৫ জন বা তার চেয়েও বেশি বন্দী রাখা হচ্ছে, সেই দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সাইপ্রাস। সেখানে প্রতি ১০০ জনের জায়গায় রাখা হচ্ছে ১৬৬ জন বন্দী। এরপর আছে রোমানিয়া (১২০), ফ্রান্স (১১৯), বেলজিয়াম (১১৫), হাঙ্গেরি (১১২), ইতালি (১০৯) এবং স্লোভেনিয়া (১০৭)।

আরও পড়ুন  পারমাণবিক ইস্যুতে গঠনমূলক নতুন আলোচনা

এছাড়াও কিছু দেশে অতিরিক্ত হলেও তুলনামূলকভাবে একটু কম মাত্রায় এই সমস্যা বিরাজ করছে। ১০০ থেকে ১০৫ জন বন্দী প্রতি ১০০ জনের জায়গায় রাখা হচ্ছে গ্রিস (১০৩), সুইডেন (১০২), উত্তর ম্যাসেডোনিয়া (১০১), ক্রোয়েশিয়া (১০১) এবং তুরস্কে (১০০)।

এই অতিরিক্ত বন্দীসংখ্যা শুধু কারা কর্তৃপক্ষের জন্যই নয়, বন্দীদের জন্যও এক ভয়াবহ সংকট তৈরি করছে। সীমিত স্থানে গাদাগাদি করে রাখা বন্দীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে মানসিক চাপ, শারীরিক অসুস্থতা, এবং সহিংসতার ঝুঁকি। বন্দীদের মৌলিক মানবাধিকার যেমন নিরাপদ আবাসন, পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন – এসব নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ অবস্থায় ইউরোপের অনেক দেশ বিকল্প শাস্তি ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। ছোটখাটো অপরাধের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পরিবর্তে সামাজিক সেবা, আর্থিক জরিমানা বা মনিটরিংয়ের মতো বিকল্প পন্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, কিছু দেশে নতুন কারাগার নির্মাণ এবং পুরনো কারাগার সংস্কার করার উদ্যোগও শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র অবকাঠামো বাড়ালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অপরাধীদের পুনর্বাসন, শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ বাড়িয়ে অপরাধ পুনরাবৃত্তির হার কমানো এবং ন্যায়বিচারের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান।

ইউরোপের এই কারা সংকট এখন আর শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয় নয়, এটি হয়ে উঠেছে একটি মানবিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ যার সমাধান প্রয়োজন নীতিগত, প্রশাসনিক এবং মানবিক সমন্বয়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউরোপের কারাগারে বন্দী ভিড়: ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত বন্দী সংকট

আপডেট সময় ১০:০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫

 

ইউরোপের অনেক দেশের কারাগারে বর্তমানে এমন অবস্থা বিরাজ করছে যে, সেখানে ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি বন্দী রাখা হচ্ছে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, কিছু দেশে এই সংখ্যা চরম মাত্রায় পৌঁছেছে, যা মানবাধিকার ও কারা ব্যবস্থার ওপর গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, যেসব দেশে প্রতি ১০০ জন ধারণক্ষমতার স্থানে ১০৫ জন বা তার চেয়েও বেশি বন্দী রাখা হচ্ছে, সেই দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সাইপ্রাস। সেখানে প্রতি ১০০ জনের জায়গায় রাখা হচ্ছে ১৬৬ জন বন্দী। এরপর আছে রোমানিয়া (১২০), ফ্রান্স (১১৯), বেলজিয়াম (১১৫), হাঙ্গেরি (১১২), ইতালি (১০৯) এবং স্লোভেনিয়া (১০৭)।

আরও পড়ুন  ইউরোপের অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে ভ্যান্সের হুঁশিয়ারি “বাইরের নয়, ইউরোপের আসল হুমকি ভেতর থেকেই”

এছাড়াও কিছু দেশে অতিরিক্ত হলেও তুলনামূলকভাবে একটু কম মাত্রায় এই সমস্যা বিরাজ করছে। ১০০ থেকে ১০৫ জন বন্দী প্রতি ১০০ জনের জায়গায় রাখা হচ্ছে গ্রিস (১০৩), সুইডেন (১০২), উত্তর ম্যাসেডোনিয়া (১০১), ক্রোয়েশিয়া (১০১) এবং তুরস্কে (১০০)।

এই অতিরিক্ত বন্দীসংখ্যা শুধু কারা কর্তৃপক্ষের জন্যই নয়, বন্দীদের জন্যও এক ভয়াবহ সংকট তৈরি করছে। সীমিত স্থানে গাদাগাদি করে রাখা বন্দীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে মানসিক চাপ, শারীরিক অসুস্থতা, এবং সহিংসতার ঝুঁকি। বন্দীদের মৌলিক মানবাধিকার যেমন নিরাপদ আবাসন, পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন – এসব নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ অবস্থায় ইউরোপের অনেক দেশ বিকল্প শাস্তি ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। ছোটখাটো অপরাধের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পরিবর্তে সামাজিক সেবা, আর্থিক জরিমানা বা মনিটরিংয়ের মতো বিকল্প পন্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, কিছু দেশে নতুন কারাগার নির্মাণ এবং পুরনো কারাগার সংস্কার করার উদ্যোগও শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র অবকাঠামো বাড়ালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অপরাধীদের পুনর্বাসন, শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ বাড়িয়ে অপরাধ পুনরাবৃত্তির হার কমানো এবং ন্যায়বিচারের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান।

ইউরোপের এই কারা সংকট এখন আর শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয় নয়, এটি হয়ে উঠেছে একটি মানবিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ যার সমাধান প্রয়োজন নীতিগত, প্রশাসনিক এবং মানবিক সমন্বয়ে।