ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় ৮০ নিহত, বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 412

ছবি সংগৃহীত

 

 

ইয়েমেনের রাস ঈসা তেল বন্দরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ভয়াবহ বিমান হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫০ জন। হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  সৌদি সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পুতিনের সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাৎয়ের ঘোষণা ট্রাম্পের

হুতি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আলাসাবাহি জানান, বৃহস্পতিবার রাতের দিকে রাস ঈসা বন্দরে হঠাৎ করে আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী। হামলার সময় বন্দরটিতে কর্মীরা নিয়মিত কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন। এই হামলায় নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ শ্রমিক ও ট্রাকচালক বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হুতি গোষ্ঠী যাতে তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আয় করতে না পারে এবং জ্বালানি সংগ্রহে ব্যর্থ হয়, সে লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-আত্তাব জানান, শুধু রাস ঈসা নয়, আরও কয়েকটি স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়। তবুও রাস ঈসায় হামলাটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। তিনি বলেন, “প্রথম চারটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে ঠিক তখন, যখন শ্রমিকরা তেল লোড-আনলোডে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ আঘাতে অনেকে সেখানেই প্রাণ হারান।”

রাস ঈসা তেল বন্দরটি ইয়েমেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর দিয়ে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ পণ্য রপ্তানি এবং ৮০ শতাংশের বেশি মানবিক সহায়তা প্রবেশ করে থাকে। ফলে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু ছাড়াও দেশটির মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ। আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন হামলা চলতে থাকলে ইয়েমেনের সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

মানবিক সহায়তা নির্ভর একটি দেশের ওপর এমন ঘনঘন সামরিক হামলা বিশ্বশান্তির জন্য অশনিসঙ্কেত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় ৮০ নিহত, বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

আপডেট সময় ১০:০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫

 

 

ইয়েমেনের রাস ঈসা তেল বন্দরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ভয়াবহ বিমান হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫০ জন। হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইয়েমেনে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ১২ জন

হুতি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আলাসাবাহি জানান, বৃহস্পতিবার রাতের দিকে রাস ঈসা বন্দরে হঠাৎ করে আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী। হামলার সময় বন্দরটিতে কর্মীরা নিয়মিত কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন। এই হামলায় নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ শ্রমিক ও ট্রাকচালক বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হুতি গোষ্ঠী যাতে তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আয় করতে না পারে এবং জ্বালানি সংগ্রহে ব্যর্থ হয়, সে লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-আত্তাব জানান, শুধু রাস ঈসা নয়, আরও কয়েকটি স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়। তবুও রাস ঈসায় হামলাটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। তিনি বলেন, “প্রথম চারটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে ঠিক তখন, যখন শ্রমিকরা তেল লোড-আনলোডে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ আঘাতে অনেকে সেখানেই প্রাণ হারান।”

রাস ঈসা তেল বন্দরটি ইয়েমেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর দিয়ে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ পণ্য রপ্তানি এবং ৮০ শতাংশের বেশি মানবিক সহায়তা প্রবেশ করে থাকে। ফলে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু ছাড়াও দেশটির মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ। আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন হামলা চলতে থাকলে ইয়েমেনের সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

মানবিক সহায়তা নির্ভর একটি দেশের ওপর এমন ঘনঘন সামরিক হামলা বিশ্বশান্তির জন্য অশনিসঙ্কেত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।