ঢাকা ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় ৮০ নিহত, বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 315

ছবি সংগৃহীত

 

 

ইয়েমেনের রাস ঈসা তেল বন্দরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ভয়াবহ বিমান হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫০ জন। হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  মার্কিন গাড়ি শিল্পে স্বস্তি আনতে শুল্ক হ্রাসের পথে ট্রাম্প প্রশাসন

হুতি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আলাসাবাহি জানান, বৃহস্পতিবার রাতের দিকে রাস ঈসা বন্দরে হঠাৎ করে আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী। হামলার সময় বন্দরটিতে কর্মীরা নিয়মিত কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন। এই হামলায় নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ শ্রমিক ও ট্রাকচালক বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হুতি গোষ্ঠী যাতে তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আয় করতে না পারে এবং জ্বালানি সংগ্রহে ব্যর্থ হয়, সে লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-আত্তাব জানান, শুধু রাস ঈসা নয়, আরও কয়েকটি স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়। তবুও রাস ঈসায় হামলাটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। তিনি বলেন, “প্রথম চারটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে ঠিক তখন, যখন শ্রমিকরা তেল লোড-আনলোডে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ আঘাতে অনেকে সেখানেই প্রাণ হারান।”

রাস ঈসা তেল বন্দরটি ইয়েমেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর দিয়ে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ পণ্য রপ্তানি এবং ৮০ শতাংশের বেশি মানবিক সহায়তা প্রবেশ করে থাকে। ফলে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু ছাড়াও দেশটির মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ। আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন হামলা চলতে থাকলে ইয়েমেনের সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

মানবিক সহায়তা নির্ভর একটি দেশের ওপর এমন ঘনঘন সামরিক হামলা বিশ্বশান্তির জন্য অশনিসঙ্কেত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় ৮০ নিহত, বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

আপডেট সময় ১০:০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫

 

 

ইয়েমেনের রাস ঈসা তেল বন্দরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ভয়াবহ বিমান হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫০ জন। হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ঢাকায় সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শন, গাজীপুরের ৫ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

হুতি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আলাসাবাহি জানান, বৃহস্পতিবার রাতের দিকে রাস ঈসা বন্দরে হঠাৎ করে আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী। হামলার সময় বন্দরটিতে কর্মীরা নিয়মিত কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন। এই হামলায় নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ শ্রমিক ও ট্রাকচালক বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হুতি গোষ্ঠী যাতে তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আয় করতে না পারে এবং জ্বালানি সংগ্রহে ব্যর্থ হয়, সে লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-আত্তাব জানান, শুধু রাস ঈসা নয়, আরও কয়েকটি স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়। তবুও রাস ঈসায় হামলাটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। তিনি বলেন, “প্রথম চারটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে ঠিক তখন, যখন শ্রমিকরা তেল লোড-আনলোডে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ আঘাতে অনেকে সেখানেই প্রাণ হারান।”

রাস ঈসা তেল বন্দরটি ইয়েমেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর দিয়ে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ পণ্য রপ্তানি এবং ৮০ শতাংশের বেশি মানবিক সহায়তা প্রবেশ করে থাকে। ফলে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু ছাড়াও দেশটির মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ। আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন হামলা চলতে থাকলে ইয়েমেনের সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

মানবিক সহায়তা নির্ভর একটি দেশের ওপর এমন ঘনঘন সামরিক হামলা বিশ্বশান্তির জন্য অশনিসঙ্কেত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।