ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য কি ফিকে হয়ে আসছে ?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:২৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 426

ছবি সংগৃহীত

বর্তমান বিশ্বের অস্থির রাজনীতিতে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র কি তার চিরাচরিত আধিপত্য হারাতে বসেছে? বিষয়টি শুধু একজন নেতার বিতর্কিত কৌশল নয়, বরং এর গভীরে রয়েছে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত অসুস্থতা।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে আমেরিকা লড়ছে যমজ ঘাটতির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ও বাজেট ঘাটতি। এর সাথে যুক্ত হয়েছে নিজস্ব উৎপাদন হ্রাস, শ্রমজীবী সাদা জনগণের অস্থিরতা, এবং চীনের প্রতি আগ্রাসী মনোভাব। এসব কারণে ট্রাম্প-যুগের উত্থান অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু এসব উপসর্গ মাত্র মূল সমস্যা আরও গভীরে। “মিরান রিপোর্ট” নামের একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হ্রাসমান অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে সংকটের শেকড়।

আরও পড়ুন  চীন কোয়ান্টাম কম্পিউটারে সফলতা পেলে যুক্তরাষ্ট্রকে এক নিমেষে প্রস্তরযুগে পাঠিয়ে দেবে

সেই বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৬০ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার অংশ ছিল ৪০ শতাংশ; ২০১২ সালে তা কমে ২১ শতাংশে দাঁড়ায়। অর্থনৈতিক এই ক্ষয় রুস্ট বেল্টে ক্ষোভ জন্ম দিয়েছে এবং জাতীয় ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছে।

রিপোর্টটি মনে করিয়ে দেয় ‘ট্রিফিন দ্বান্দ্বিকতা’র কথা যেখানে ডলারকে বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে রাখতে হলে আমেরিকাকে ঘাটতি মেনে নিতেই হবে। কিন্তু এই ঘাটতি একসময় সারা দুনিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বের ওপর আস্থাহীনতা তৈরি করে। তখনই যুক্তরাষ্ট্র হারায় তার মর্যাদা ও নিয়ন্ত্রণ।

২০০৮ সালের আর্থিক বিপর্যয়ের পর থেকে ডলারের মান বৃদ্ধি পেলেও তা আমেরিকার জন্য একধরনের ‘বুমেরাং’। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতা হারিয়েছে, কমেছে কর্মসংস্থান, আর বাড়ছে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা।

আজ যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক সংকটেও জর্জরিত। বিভক্ত দেশ, ক্ষুব্ধ জনগণ এবং ধনসম্পদের কেন্দ্রীকরণ সব মিলিয়ে গণতন্ত্র যেন এক টানাপোড়েনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আচরণ আপাতদৃষ্টিতে বেপরোয়া মনে হলেও, তা তাদের কৌশলগত প্রতিক্রিয়া। তারা টিকে থাকতে মরিয়া। তবে বিশ্বকে তাদের এ যুক্তি বুঝতে হবে সমালোচনার আগে।

এখন সময় দক্ষিণ কোরিয়া বা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য নতুন বিশ্ব বাস্তবতায় নিজেদের কৌশল পুনর্বিন্যাস করার। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের পতন শুধু তাদের বিষয় নয়, গোটা বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য এক যুগান্তকারী মোড়।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য কি ফিকে হয়ে আসছে ?

আপডেট সময় ০৬:২৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫

বর্তমান বিশ্বের অস্থির রাজনীতিতে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র কি তার চিরাচরিত আধিপত্য হারাতে বসেছে? বিষয়টি শুধু একজন নেতার বিতর্কিত কৌশল নয়, বরং এর গভীরে রয়েছে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত অসুস্থতা।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে আমেরিকা লড়ছে যমজ ঘাটতির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ও বাজেট ঘাটতি। এর সাথে যুক্ত হয়েছে নিজস্ব উৎপাদন হ্রাস, শ্রমজীবী সাদা জনগণের অস্থিরতা, এবং চীনের প্রতি আগ্রাসী মনোভাব। এসব কারণে ট্রাম্প-যুগের উত্থান অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু এসব উপসর্গ মাত্র মূল সমস্যা আরও গভীরে। “মিরান রিপোর্ট” নামের একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হ্রাসমান অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে সংকটের শেকড়।

আরও পড়ুন  চীন কোয়ান্টাম কম্পিউটারে সফলতা পেলে যুক্তরাষ্ট্রকে এক নিমেষে প্রস্তরযুগে পাঠিয়ে দেবে

সেই বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৬০ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার অংশ ছিল ৪০ শতাংশ; ২০১২ সালে তা কমে ২১ শতাংশে দাঁড়ায়। অর্থনৈতিক এই ক্ষয় রুস্ট বেল্টে ক্ষোভ জন্ম দিয়েছে এবং জাতীয় ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছে।

রিপোর্টটি মনে করিয়ে দেয় ‘ট্রিফিন দ্বান্দ্বিকতা’র কথা যেখানে ডলারকে বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে রাখতে হলে আমেরিকাকে ঘাটতি মেনে নিতেই হবে। কিন্তু এই ঘাটতি একসময় সারা দুনিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বের ওপর আস্থাহীনতা তৈরি করে। তখনই যুক্তরাষ্ট্র হারায় তার মর্যাদা ও নিয়ন্ত্রণ।

২০০৮ সালের আর্থিক বিপর্যয়ের পর থেকে ডলারের মান বৃদ্ধি পেলেও তা আমেরিকার জন্য একধরনের ‘বুমেরাং’। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতা হারিয়েছে, কমেছে কর্মসংস্থান, আর বাড়ছে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা।

আজ যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক সংকটেও জর্জরিত। বিভক্ত দেশ, ক্ষুব্ধ জনগণ এবং ধনসম্পদের কেন্দ্রীকরণ সব মিলিয়ে গণতন্ত্র যেন এক টানাপোড়েনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আচরণ আপাতদৃষ্টিতে বেপরোয়া মনে হলেও, তা তাদের কৌশলগত প্রতিক্রিয়া। তারা টিকে থাকতে মরিয়া। তবে বিশ্বকে তাদের এ যুক্তি বুঝতে হবে সমালোচনার আগে।

এখন সময় দক্ষিণ কোরিয়া বা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য নতুন বিশ্ব বাস্তবতায় নিজেদের কৌশল পুনর্বিন্যাস করার। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের পতন শুধু তাদের বিষয় নয়, গোটা বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য এক যুগান্তকারী মোড়।