ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের গুঞ্জনে উদ্বেগে ইসরায়েল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৪৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 147

ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে। মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সম্প্রতি ইসরায়েলকে অবহিত করেছেন যে, আগামী দুই মাসের মধ্যে সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার একটি ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

ইসরায়েল এই খবরে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটি মনে করে, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি শুধু ইসলামিক স্টেট বা অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠী দমনের জন্যই নয়, বরং তুরস্কের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাব প্রতিরোধেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে কাজ করছে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে এতে ইরান, হেজবুল্লাহ ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পক্ষে কৌশলগত সুবিধা তৈরি হবে। এতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, “আমরা মনে করি এই প্রত্যাহার একতরফা সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। আমরা এখনো এমন কোনো পদক্ষেপ বন্ধ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি, যাতে অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা না তৈরি হয়।”

আরও পড়ুন  গাজায় ত্রাণের মাধ্যমে জীবাণু যুদ্ধ চালাচ্ছে ইসরায়েল

ইসরায়েল ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন এই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয় এবং যতটা সম্ভব দেরিতে কার্যকর করা হয়। কারণ তারা আশঙ্কা করছে, এই পদক্ষেপ শুধু সিরিয়াতেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সেনা উপস্থিতি কুর্দি নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সহায়তা করছে। এই জোট যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে বহু বছর ধরে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। কিন্তু যদি এই শক্তি হঠাৎ সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে তুরস্ক নতুন করে কুর্দি গোষ্ঠীর ওপর সামরিক অভিযান চালাতে পারে, যার প্রভাব ইসরায়েলকেও স্পর্শ করতে পারে।

ওয়াশিংটন থেকে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসলেও ইসরায়েল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—এই সিদ্ধান্ত তাদের দৃষ্টিতে কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভবিষ্যতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

নিউজটি শেয়ার করুন

সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের গুঞ্জনে উদ্বেগে ইসরায়েল

আপডেট সময় ০৯:৪৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে। মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সম্প্রতি ইসরায়েলকে অবহিত করেছেন যে, আগামী দুই মাসের মধ্যে সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার একটি ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

ইসরায়েল এই খবরে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটি মনে করে, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি শুধু ইসলামিক স্টেট বা অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠী দমনের জন্যই নয়, বরং তুরস্কের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাব প্রতিরোধেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে কাজ করছে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে এতে ইরান, হেজবুল্লাহ ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পক্ষে কৌশলগত সুবিধা তৈরি হবে। এতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, “আমরা মনে করি এই প্রত্যাহার একতরফা সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। আমরা এখনো এমন কোনো পদক্ষেপ বন্ধ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি, যাতে অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা না তৈরি হয়।”

আরও পড়ুন  ইয়েমেনের হোদেইদাহ এলাকায় ইসরায়েলের ২০ টি হামলা

ইসরায়েল ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন এই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয় এবং যতটা সম্ভব দেরিতে কার্যকর করা হয়। কারণ তারা আশঙ্কা করছে, এই পদক্ষেপ শুধু সিরিয়াতেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সেনা উপস্থিতি কুর্দি নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সহায়তা করছে। এই জোট যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে বহু বছর ধরে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। কিন্তু যদি এই শক্তি হঠাৎ সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে তুরস্ক নতুন করে কুর্দি গোষ্ঠীর ওপর সামরিক অভিযান চালাতে পারে, যার প্রভাব ইসরায়েলকেও স্পর্শ করতে পারে।

ওয়াশিংটন থেকে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসলেও ইসরায়েল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—এই সিদ্ধান্ত তাদের দৃষ্টিতে কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভবিষ্যতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।