ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ফেনীতে বালুভর্তি ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা: আহত অন্তত ২০ যশোর-নড়াইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেল অর্ধশতাধিক প্রাণ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন ফ্রেমওয়ার্কের ডাক দিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ডোমিনিকা: সবুজে ঘেরা এক নিভৃত দ্বীপের গল্প হাসপাতালে ঢুকে ভাতিজাকে কুপিয়ে জখম, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢামেকে প্রেরণ ৩ মাসের ট্রেড কোর্সে ভর্তি শুরু, প্রতিদিন ৪০০ টাকার বৃত্তি আমেরিকানরা যেখানেই থাকুক, আঘাত হানব’: হুঁশিয়ারি ইরান মুখপাত্রের ইব্রাহিম খুলনায় ছিনতাইকালে ‘মিসফায়ার’: সহযোগীর গুলিতেই প্রাণ গেল ছিনতাইকারীর ইরানে হামলা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদি আরবের আহ্বান কঠিন বিষয় এড়িয়ে নয়, ঢাকা-দিল্লির খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন: হাইকমিশনার

ডোমিনিকা: সবুজে ঘেরা এক নিভৃত দ্বীপের গল্প

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • / 15

ছবি সংগৃহীত

 

ক্যারিবীয় সাগরের বুকে অবস্থিত ডোমিনিকা উত্তর আমেরিকা মহাদেশের একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর দেশ। আয়তনে প্রায় ৭৫০ বর্গকিলোমিটার এই দেশের রাজধানী রোসো। এটি ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র নয়, বরং সম্পূর্ণ আলাদা একটি দ্বীপরাষ্ট্র, যা পাহাড়, নদী, আগ্নেয়গিরি আর ঘন জঙ্গলে ভরপুর।

ডোমিনিকার ইতিহাস বেশ পুরোনো। এখানে প্রথমে বসবাস করত কালিনাগো নামে পরিচিত আদিবাসীরা। পরে ইউরোপীয়রা এসে দ্বীপটি দখলের চেষ্টা করে। ফ্রান্স ও ব্রিটেন বহুবার এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশদের অধীনে থেকে ১৯৭৮ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে।

আরও পড়ুন  ডোমিনিকা ক্যারিবীয় প্রাকৃতিক দ্বীপরাষ্ট্র

বর্তমানে ডোমিনিকা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করে এবং রাজনৈতিক পরিবেশ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। ছোট দেশ হলেও নিজেদের মতো করে উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ডোমিনিকার সবচেয়ে বড় পরিচয় তার প্রকৃতি। এই দেশকে অনেকেই “প্রকৃতির দ্বীপ” বলে। এখানে রয়েছে উষ্ণ পানির একটি বিশেষ হ্রদ, যা সবসময় ফুটন্ত অবস্থার মতো দেখা যায়। এছাড়া অসংখ্য জলপ্রপাত, সবুজ পাহাড় এবং জঙ্গল এই দেশকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।

নাগরিক জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার কিছু সুবিধা থাকলেও সব জায়গায় সমানভাবে পৌঁছায়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, দেশের জন্য বড় সমস্যা। অনেক সময় এতে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়, যা মানুষের জীবনকে কঠিন করে তোলে।

ধর্মীয়ভাবে এখানকার অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টান। বিভিন্ন গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এখানে সক্রিয়।

ভ্রমণের জন্য ডোমিনিকা একেবারে আলাদা ধরনের অভিজ্ঞতা দেয়। এখানে সমুদ্রসৈকতের চেয়ে বেশি আকর্ষণ জঙ্গল, পাহাড় আর জলপ্রপাত। যারা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চান, নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এই দেশটি খুবই উপযোগী।

সব মিলিয়ে, ডোমিনিকা একটি শান্ত, সবুজ আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা দেশ, যেখানে আধুনিকতার কোলাহলের চেয়ে প্রকৃতির ছোঁয়া বেশি অনুভব করা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ডোমিনিকা: সবুজে ঘেরা এক নিভৃত দ্বীপের গল্প

আপডেট সময় ০৬:৩২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

 

ক্যারিবীয় সাগরের বুকে অবস্থিত ডোমিনিকা উত্তর আমেরিকা মহাদেশের একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর দেশ। আয়তনে প্রায় ৭৫০ বর্গকিলোমিটার এই দেশের রাজধানী রোসো। এটি ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র নয়, বরং সম্পূর্ণ আলাদা একটি দ্বীপরাষ্ট্র, যা পাহাড়, নদী, আগ্নেয়গিরি আর ঘন জঙ্গলে ভরপুর।

ডোমিনিকার ইতিহাস বেশ পুরোনো। এখানে প্রথমে বসবাস করত কালিনাগো নামে পরিচিত আদিবাসীরা। পরে ইউরোপীয়রা এসে দ্বীপটি দখলের চেষ্টা করে। ফ্রান্স ও ব্রিটেন বহুবার এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশদের অধীনে থেকে ১৯৭৮ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে।

আরও পড়ুন  ডোমিনিকা ক্যারিবীয় প্রাকৃতিক দ্বীপরাষ্ট্র

বর্তমানে ডোমিনিকা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করে এবং রাজনৈতিক পরিবেশ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। ছোট দেশ হলেও নিজেদের মতো করে উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ডোমিনিকার সবচেয়ে বড় পরিচয় তার প্রকৃতি। এই দেশকে অনেকেই “প্রকৃতির দ্বীপ” বলে। এখানে রয়েছে উষ্ণ পানির একটি বিশেষ হ্রদ, যা সবসময় ফুটন্ত অবস্থার মতো দেখা যায়। এছাড়া অসংখ্য জলপ্রপাত, সবুজ পাহাড় এবং জঙ্গল এই দেশকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।

নাগরিক জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার কিছু সুবিধা থাকলেও সব জায়গায় সমানভাবে পৌঁছায়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, দেশের জন্য বড় সমস্যা। অনেক সময় এতে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়, যা মানুষের জীবনকে কঠিন করে তোলে।

ধর্মীয়ভাবে এখানকার অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টান। বিভিন্ন গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এখানে সক্রিয়।

ভ্রমণের জন্য ডোমিনিকা একেবারে আলাদা ধরনের অভিজ্ঞতা দেয়। এখানে সমুদ্রসৈকতের চেয়ে বেশি আকর্ষণ জঙ্গল, পাহাড় আর জলপ্রপাত। যারা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চান, নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এই দেশটি খুবই উপযোগী।

সব মিলিয়ে, ডোমিনিকা একটি শান্ত, সবুজ আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা দেশ, যেখানে আধুনিকতার কোলাহলের চেয়ে প্রকৃতির ছোঁয়া বেশি অনুভব করা যায়।