০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :

অন্যায় হলে নীরব থাকা সম্ভব নয়— ডা. শফিকুর রহমান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:০৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 93

ছবি: সংগৃহীত

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কেউ যদি আঘাত করে বা অন্যায়ের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে চুপ থাকার প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা করা যেতে পারে, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবতা কোনো সমাধান নয়।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে খুলনা জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত ১১ দলীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পায়ে পাড়া দিয়ে, শরীরে আঘাত করে কেউ যদি মনে করে আমরা নীরব থাকব, তা হবে না। আমরা সংঘাত চাই না। কিন্তু কেউ যদি সীমা অতিক্রম করে কালো হাত বাড়ায়, তখন গালে হাত দিয়ে বসে থাকা যায় না।’

খুলনার শিল্পখাত নিয়ে তিনি বলেন, একসময় খুলনা ছিল শিল্পাঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু গত ৫৪ বছরে সেই শিল্পভিত্তি পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকা অধিকাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য দেশগুলো শিল্পে এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশে শিল্পখাত পিছিয়ে পড়েছে।

চারদলীয় জোট সরকারের সময় শিল্পমন্ত্রী হিসেবে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ভূমিকার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবিত করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। সেই অসমাপ্ত কাজই জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট বাস্তবায়ন করতে চায়।

তিনি বলেন, বন্ধ শিল্পকারখানার কারণে লাখো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। জনগণের সমর্থনে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বন্ধ কারখানা চালু করা হবে এবং নতুন শিল্প স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

খুলনাঞ্চলের জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার সমস্যার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কৃষকরা আজ চরম সংকটে আছেন। জনগণের সঙ্গে আলোচনা করেই উন্নয়নের অগ্রাধিকার ঠিক করা হবে এবং এলাকার সম্পদ এলাকার মানুষের হাতেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা বেকার ভাতা নয়, কাজের সুযোগ তৈরি করব। যোগ্যতার ভিত্তিতেই চাকরি হবে। মামা-খালু বা তদবিরের কোনো জায়গা থাকবে না। ধর্ম বা পরিচয় নয়, যোগ্যতাই হবে একমাত্র মানদণ্ড।’

দীর্ঘদিনের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘গত সাড়ে ১৫ বছরে অনেকেই নির্যাতিত হয়েছেন, কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর ওপর যেভাবে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, তা নজিরবিহীন। অফিস বন্ধ, নিবন্ধন বাতিল, প্রতীক কেড়ে নেওয়া, ঘরবাড়ি ভাঙা এবং শেষ পর্যন্ত সংগঠন নিষিদ্ধ— সবকিছুই আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

নারী নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, আরেকদিকে মায়ের গায়ে হাত তোলা হচ্ছে— এই দুটো একসঙ্গে চলে না। নিজের মাকে সম্মান করতে না পারলে কোনো নারীকে সম্মান করা সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের রায়ের ওপর আস্থা রাখুন। যারা অতীতে জনগণের সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করেছে, তাদের পরিণতি ইতিহাসে লেখা আছে। আমরা প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু মায়ের সম্মান নিয়ে কোনো আপস করব না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা একটি অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই। মা, শিশু, বৃদ্ধ ও সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিভিন্ন নেতারা।

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

অন্যায় হলে নীরব থাকা সম্ভব নয়— ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় ০৯:০৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কেউ যদি আঘাত করে বা অন্যায়ের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে চুপ থাকার প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা করা যেতে পারে, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবতা কোনো সমাধান নয়।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে খুলনা জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত ১১ দলীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পায়ে পাড়া দিয়ে, শরীরে আঘাত করে কেউ যদি মনে করে আমরা নীরব থাকব, তা হবে না। আমরা সংঘাত চাই না। কিন্তু কেউ যদি সীমা অতিক্রম করে কালো হাত বাড়ায়, তখন গালে হাত দিয়ে বসে থাকা যায় না।’

খুলনার শিল্পখাত নিয়ে তিনি বলেন, একসময় খুলনা ছিল শিল্পাঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু গত ৫৪ বছরে সেই শিল্পভিত্তি পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকা অধিকাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য দেশগুলো শিল্পে এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশে শিল্পখাত পিছিয়ে পড়েছে।

চারদলীয় জোট সরকারের সময় শিল্পমন্ত্রী হিসেবে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ভূমিকার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবিত করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। সেই অসমাপ্ত কাজই জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট বাস্তবায়ন করতে চায়।

তিনি বলেন, বন্ধ শিল্পকারখানার কারণে লাখো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। জনগণের সমর্থনে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বন্ধ কারখানা চালু করা হবে এবং নতুন শিল্প স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

খুলনাঞ্চলের জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার সমস্যার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কৃষকরা আজ চরম সংকটে আছেন। জনগণের সঙ্গে আলোচনা করেই উন্নয়নের অগ্রাধিকার ঠিক করা হবে এবং এলাকার সম্পদ এলাকার মানুষের হাতেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা বেকার ভাতা নয়, কাজের সুযোগ তৈরি করব। যোগ্যতার ভিত্তিতেই চাকরি হবে। মামা-খালু বা তদবিরের কোনো জায়গা থাকবে না। ধর্ম বা পরিচয় নয়, যোগ্যতাই হবে একমাত্র মানদণ্ড।’

দীর্ঘদিনের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘গত সাড়ে ১৫ বছরে অনেকেই নির্যাতিত হয়েছেন, কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর ওপর যেভাবে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, তা নজিরবিহীন। অফিস বন্ধ, নিবন্ধন বাতিল, প্রতীক কেড়ে নেওয়া, ঘরবাড়ি ভাঙা এবং শেষ পর্যন্ত সংগঠন নিষিদ্ধ— সবকিছুই আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

নারী নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, আরেকদিকে মায়ের গায়ে হাত তোলা হচ্ছে— এই দুটো একসঙ্গে চলে না। নিজের মাকে সম্মান করতে না পারলে কোনো নারীকে সম্মান করা সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের রায়ের ওপর আস্থা রাখুন। যারা অতীতে জনগণের সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করেছে, তাদের পরিণতি ইতিহাসে লেখা আছে। আমরা প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু মায়ের সম্মান নিয়ে কোনো আপস করব না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা একটি অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই। মা, শিশু, বৃদ্ধ ও সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিভিন্ন নেতারা।